দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন অবস্থানে বাংলাদেশ। ইউনেস্কো প্রকাশিত বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যানের তথ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান এবং মালদ্বীপের মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে করা এক তুলনামূলক বিশ্লেষণে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বিবেচনায় দেশে গড়ে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার মাত্র ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে রয়েছে মালদ্বীপে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ভুটানে ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ, নেপালে ৯৭ দশমিক ৪ এবং ভারতে ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে এ হার যথাক্রমে ৮০ দশমিক ৪ ও ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
দেশে শিক্ষার মান দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ, যার অন্যতম প্রধান কারণ দক্ষ শিক্ষকের অভাব। শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণে রাজনৈতিক বিবেচনা, স্বজনপ্রীতি কিংবা বিভিন্ন অনিয়ম সংকটের পেছনে মূল কারণ বলে শিক্ষাবিদরা মনে করেন । দক্ষ শিক্ষকের এ ঘাটতির ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত মানের দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষকনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
আরেকটা বিষয় এখানে না উল্লেখ করলেই নয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি, বর্তমান সামাজিক মূল্যবোধের অববক্ষয়ের কারণে ভালো ছাত্ররা সরকারি অফিসার বা ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তার হতে যেমন আগ্রহী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক, এমনকি কলেজ লেভেল শিক্ষক হতেও তার সিকি ভাগ আগ্রহী হন না ! মফস্বলে সরকারি ডিপার্টমেন্টের একজন উপ সহকারী বা সহকারী প্রকৌশলীর যতটা সন্মান ও প্রতিপত্তি, একজন মাধ্যমিক ইস্কুলের শিক্ষক কেন, কলেজ শিক্ষকও ততটা পান না! ফলে অনেক ভালো ছাত্ররাই এ পেশায় আসতে চান না। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা জরুরি, যাতে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী হন।
সূত্র : https://shikshasangbad.com/others/4678/

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


