কবি শামসুর রাহমান মুমূর্ষু অবস্থায় শুয়ে আছেন । তার পাশে বসে কোরআন পড়ছেন কোন নিকটজন।
কোন হাসপাতালের দৃশ্য হিসেবে খুবই স্বাভাবিক। স্বজন অসুস্থ আর তার পাশে বসে তিলাওয়াত করা হচ্ছে , এ দৃশ্য অহরহই দেখা যায়।
তবে কেন এ প্রসংগের অবতারনা?
তার কারণ , যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে , তিনি দেশের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান।যার কবিতার বাণী দিয়ে এদেশকে আচ্ছন্ন করে রেখেছেন বেশ কয়েকটি দশক।
খটকাটা এখানেই..............
যিনি ফজরের আজানকে তুলনা করেন বেশ্যার খদ্দের ডাকের সাথে.......আজীবন যিনি অসামপ্রদায়িকতার ধূয়া তুলে গেছেন ........গোটা জীবনে যিনি সামপ্রদায়িক শক্তির বিরূদ্ধে লড়ে গেছেন....তর শিয়রে বসে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন তিলাওয়াতের মত 'সামপ্রদায়িক ' কাজ.......দেশবাসীকে 'আল্লাহর' কাছে 'দোওয়া' করতে বলার মতো অসামপ্রদায়িকতা বিরোধী কাজ (! ! )
সজ্ঞানে নিশ্চয়ই তিনি এগুলো হতে দিতেন না..........
..........তার আদর্শকে কি অসম্মান করা হচ্ছে?
নাকি অন্য কিছু?
...........গুরুজনেরা বলেন, অন্তিমকালে ধর্মবিশ্বাস নাকি প্রবল হয়। ফল? অধিকাংশ প্রবীণকেই আমরা দেখি ধর্মকর্মের দিকে ঝুঁকে পড়তে । কবির স্বজনরা কি বুঝতে পেরেছেন ' সেই পথ পথ না আরও পথ আছে, সেই পথেরে নিয়া আসবো এই পথেরও কাছে.......'
..........এদের ওপর অভিমান করেই কি কবি চোখ মেলছেন না?
..................আরেক প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী ডক্টর হূমায়ূন আজাদ.......আমাদের বড়ই দুর্ভাগ্য , তিনি মারা গেছেন সুদূর জার্মানীর এক শহরে। তাই , 'সামপ্রদায়িক ' 'প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি'র ওপর তাকে 'হত্যা' র অপবাদটি দেয়া গেল না। যদিও কোন এক দুর্জনের মুখ থেকে ফস করে বেরিয়ে গিয়েছিল, 'এয়ারপোর্টে জার্মানী যাবার সময় নিজামী বিদেশ থেকে ফিরছিলেন, কোন কথা নয় , শুধু চোখাচোখি। কিন্তু তাতে কি , নিজামী নাকি দূর থেকেই 'চোখের ইশারায় ' ভাইরাস ঢুকিয়েছে উনারে শরীরে' (হায়রে কলিকাল!)
কথা সেটা নয় , আজীবন সামপ্রদায়িকতা বিরোধী, স্বঘোষিত নাস্তিক এ মণীষীর শেষকৃত্য হলো কিন্তু জানাযা নামায, গোসল ও দাফন কাফনের মধ্য দিয়ে তথা ইসলামিক পদ্ধতিতে তথা 'সামপ্রদায়িক' নিয়মে। তিনি পরলোকে বসে আমাদের অভিশাপ দিচ্ছেন নাতো?
সবকিছুই মূলের দিকে ধাবিত হয় , এটিই বারবার প্রমাণ হচ্ছে না তো?
...........এদিক দিয়ে বরং অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন আরেক প্রখ্যাত মণীষী আহমদ শরীফ। স্বঘোষিত নাস্তিক এই ব্যক্তিটি মৃত্যুর পর তার পুরো দেহটাই দান করে গেছেন চিকিৎসাবিদ্যার গবেষণার জন্য।যদিও যে অন্ধ হাফেজে কুরআনের চোখে তার কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল , তিনি বলেছেন , যদি আমি জানতাম এটি নাস্তিক আহমেদ শরীফের কর্নিয়া , তার চেয়ে বরং অন্ধ থাকা আমি পছন্দ করতাম.....
...........
......শুরু করেছিলাম শামসুর রাহমান কে দিয়ে......
ব্যক্তি শামসুর রাহমানের প্রতি আমার সশ্রদ্ধ সমবেদনা.......কবি শামসুর রাহমানের আদর্শকে পছন্দ করি কি না করি সেই প্রসংগ নাইবা তুললাম আজ...........
...... ....... ........ .......
কারো বিশ্বাসে আঘাত দিয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী .........এগুলো একান্তই আমার নিজস্ব : মত
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



