'ঘরবাড়ি'নামের একজন ব্লগার আগামীকাল অর্থাৎ 27 এপ্রিল পলটন ময়দানে ছাত্রশিবিরের 'জাতীয় ছাত্র সমাবেশ' এর ব্যাপারে বেশ কিছু প্রশ্নের অবতারণা করেছেন (Click This Link )
তার প্রেক্ষিতে বলছি...........
মাননীয় 'ঘরবাড়ি' (যদিও অপ্রাণীবাচক শব্দের পূর্বে মাননীয় যোগ করার নিয়ম নেই, তারপরেও উনি যদি তাই হন , তাহলে আমার কিছু বলার নেই).........
1। জাতীয় বলা হয় তাকেই যাতে সমগ্র জাতির অংশগ্রহন থাকে বা প্রতিনিধিত্ব থাকে, তারই সূত্র ধরে বলতে চাই , ইনশাআলাহ, আগামীকালই তা প্রমাণ হয়ে যাবে। যদি তাতে সমগ্র দেশের কনট্রিবিউশন থাকে , তাতে ঘরবাড়ির কি আপত্তি আমার জানা নেই। অবশ্য কুয়ার ব্যাং উত্তাল সমুদ্্র দেখে ভয় পাবে, এটাই স্বাভাবিক।
2। মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি কে হলে আপনার দৃষ্টিতে ভাল হত? মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী? নাকি আপনার পছন্দের কেউ?...... এমন একজনকে অতিথি করা হয়েছে, দেশের মানুষ যাকে হাজারো অপপ্রচার উপো করে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।তার গাড়ীতে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখলে যাদের গায়ে জ্বালা ধরে, তাদের মুখে ছাই দিয়ে উনি এখনও শিল্প মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্ত্রিী। আপনাদের মনের কষ্টগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য উনি আরো অনেক সমাবেশ-মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন, ইনশাআলাহ।
3। জনাব , মাথা ঠান্ডা করে চিন্তা করুন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কি বিএনপি-আওয়ামী লীগ এক মঞ্চে ছিলনা? পরর্বিীতে বিএনপি বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামীলীগ-জামায়াত এক সাথে শুধু কর্মসূচী-ই পালন করেনি, একসাথে লিয়াজো কমিটি গঠন , সাংবাদিক সম্মেলন সহ যুগপৎভাবে সকল কিছুই করেছে (যদিও তারা এখন 'জামায়াতের সাথে সংলাপে বসবো না' জাতীয় হাস্যকর দাবী তুলছে)........ আপনি কোনো অথবা কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি সহানুভূতিশীল আমি জানি না তবে নব্বই বা তার পরর্বিী আন্দোলনে আপনি কোথায় ছিলেন জানতে খুব ইচ্ছা করে....... আপনার অবগতির জন্য আরও জানাচ্ছি, মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান ম্ত্রিী ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে এতে আরও থাকবেন মাননীয় আইন , বিচার ও সংসদ বিষয়ক ম্ত্রিী ব্যারিস্টার মওদূদ আহমেদ, মাননীয় সমাজকল্যাণ ম্ত্রিী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ সহ আরও অনেকে.......
দুই পর্যায়ে পোস্টার ছাপা হয়েছে বলে প্রথম পর্যায়ে শুধু মুজাহিদ সাহেব...........পরবর্তীতে আরও দুই ম্ত্রিী অংশগ্রহনের আগ্রহ ব্যক্ত করলে (নাম প্রত্যাহার তো নয়ই, উনার মাথায় কেন যে এটা ঢুকলো!) দ্্বিতীয় পর্যায়ের পোস্টার ছাপা হয়।
4। পলটন ময়দান কেন ঐতিহাসিক , আমার আপনার মত নাদানের চেয়ে নিজামী সাহেব অনেক ভাল জানেন, এটাই স্বাভাবিক। বুদ্ধিমান মানুষ কথার চেয়ে কাজ বেশী করে। 'নিজামী স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধী' এই কথাটার আইনগত ভিত্তি আজ স্বাধীনতার পয়ত্রিশ বছর পরও প্রমাণ করা গেল না।অথচ স্বাধীনতার পরে শক্তির দাবীদার শক্তিটি স্বাধীনতার পর দুই দুইবার মতায় ছিল.........হাতে সর্বময় মতা থাকার পর যা করতে পারেনি, তার জন্য হা-হূতাশ করা মানায়, দাবী তোলা যায় না....... যে পরিমান মিথ্যা অভিযোগ আনা হয় নিজামীর বিরুদ্ধে, তার একটিও সত্যি হলে মামলা হোক, আর কে না জানে , মামলার আসামী কখনও সংসদ সদস্য হতে পারে না, দেশদ্্রোহী মামলায় তো আরও নয়.........প্যাচাল না পেড়ে, দিন না একটা মামলা ঠুকে.........অন্তত: বলতে পারবেন, শুধু কথা না কপচিয়ে কিছু বলার মত কাজ জাতীয় বস্ত করতে পেরেছি।
................আজকাল রাস্তায় বের হলেই 'ঘরবাড়ি'র যেটা দেখে চোখে জ্বালা ধরবে , সেটাই হল জাতীয় ছাত্র সমাবেশ এর প্রচারণা। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত, তাদের মত 'চোখ থাকিতেও অন্ধ' দের চোখেও এটা পড়েছে........
..........অপ বাক এর 'আপ'গতির জন্য জানাচ্ছি, আপনার চিন্তার কোন কারণ নেই , ছাত্রদের সমাবেশে 100 ভাগ ছাত্রই থাকবে.......... এটা 27 তারিখ নিজে এসে পলটন ময়দানে দেখে যান........
..........পরিশেষে ঘরবাড়ীর উদ্দেশ্যে-ছাত্র, অকারণ, ব্যাতিক্রম, বিরাট, মহাসমাবেশ, পোস্টার, অতিথি, বিরোধীতা, প্রধাণ, ম্ত্রিী....ইত্যাদি শব্দ ব্যবহারে আরও সতর্ক অর্থাৎ এগুলো শুদ্ধ বানানে লিখলে আপনার মন্তব্যটি আরও সুন্দর হত.........
সবাইকে ধন্যবাদ, কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে তার কষ্টের ভাগী আমিও।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




