somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতীত-দুঃস্বপ্ন

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘুম থেকে উঠে মাথা ব্যথা নিয়ে ফোন টা ধরে কানের কাছে নেয় শিহাব। সোমার নাম্বার থেকে কল আসতেছে ক্রমাগত। এই মেয়ে কে নিয়ে যে কি করবে শিহাব বুঝে পায় না। কাল রাতেও ওর পুরো পরিবার কে গাড়ি করে পাশের শহর থেকে ঘুরায় নিয়ে আসছে। তাও উনাদের কম্পলেইন করা বন্ধ হয় নাই। বাসায় আসার পর বলতেছে এই রকম জায়গায় না থেকে নিউ ইয়র্ক চলে যাইতে। ঘিঞ্জি হইলেও ওইখানে নাকি জীবন আছে। বাল আছে। রাস্তায় দাঁড়ায় পচা পানির ফুচকা খাইতে চাইলে শিহাব বাংলাদেশেই ফিজিক্স পইড়া ব্যাংকের খাতার হিসাব গুনতে পারতো। সোলার সেলের এফিশিয়েন্সি বাড়াইয়া পৃথিবীর বদলানোর স্বপ্ন তার মাঠেই মারা যাইতো। পাশের ঘিঞ্জি কাদা ওয়ালা শহরে সোমার হাত ধরে হাটলেও বাংগালীরা তাকায় থাকে।সেইখানে কেউ বাংলায় প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারে না। তাদের কে সিলেটি না হইলে চিটাংগা ভাষায় জিজ্ঞেস করতে হয়। আরো এক ডিগ্রি বাড়ায় বললে একদম ইংরেজী তে প্রশ্ন করা লাগে যেকোনো কিছু।
আমেরিকার বোকাচোদা ইমিগ্রেশন পলিসির আগা পাশ তলা বাংলাদেশীর ছিড়ে খুড়ে খেয়ে নিচ্ছে। আইস দিয়ে ডিপোর্ট করে সাড়তে পারতেছে না সরকার। সেই সাথে আবার এই এলাকায় চলে হিউম্যান ট্রাফিকিং। সেইখানে আবার মাস্টার্স করতেছে এক ভাই ড্রাইভ করে মাল ট্রান্সপোর্ট করে। প্রথমে বুঝে নাই। পরে দেখে গাড়ির ট্রাংক ভর্তি ছোট ছোট বাচ্চা।
সেই ট্রমা বেশি দিন লাগে নাই কাটতে। বউ সহ দেশে যাবে দেইখা ৫০০০ ডলারের শপিং করতে হচ্ছিল তাই আবার আল্লাহু আকবার বলে নেমে গেছিলো ভাই হিউম্যান ট্রাফিকিং এর ভ্যান গাড়ি চালাইতে। এখনো পুলিশ ধরে নাই একবার এটা নিয়া মসজিদে গলাবাজি করতেছিলেন ভদ্রলোক। পরে পুলিশে জানানো হইলে এক কাপড়ে দেশে পাঠায় দিছে। এখন অবশ্য ভালোই আছে। বিদেশী ডিগ্রি থাকায় প্রাইভেট ভার্সিটীর টিচার হয়ে গেছে।
সোমা কল করেই যাচ্ছে।ওর ফ্যামিলিকে এয়ারপোর্টে দিয়ে আসা লাগবে। বালের দেশ,বালের জীবন। কেন যে এইসব প্রেম করি?
-কি?
-ঘুম থেকে উঠছো?
-হ্যা,কি লাগবে?
-আব্বা আম্মাকে নিয়ে যাওয়া লাগবে এয়ারপোর্টে।
-হ্যা,জানি।
-তুমি এভাবে কথা বলতেছো কেনো?
- এমনি।
-থাক তোমার যাওয়া লাগবে না। আমার বোঝা হয়ে গেছে।
- কি বুঝছো?
-আসতেছি। বেশি কথা বইলো
বাংলাদেশের নাটক আর গল্পের বইয়ের মেয়ে রা নেকু নেকু হয়। আসলে বাস্তবতায় সব মেয়েরা মোটেও এরকম না। শিহাব এটা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিখে গেছে। ওর আগের গার্লফ্রেন্ড যখন ইয়াবা খেয়ে গিয়ে রাত বিরাতে ঘরে পোলাপান ঢুকাইতো তখনই শিখে গেছে। ওরা দুইজনেই উত্তর বংগ থেকে একসাথে আসছিলো। শিহাব পড়তো পাবলিকে।একটা জংগলে ছিলো তার ইউনিভার্সিটি।তার আগের সেই গার্লফ্রেন্ড থাকতো শহরে।একটা ফ্লাট এ।
সেইখানে শিহাব ও যাইতো। শিহাব দুই তিন বছর সিনিয়র ছিল। যখন চাকরি হচ্ছিল না ওইসময় কণা (তখনকার গার্লফ্রেন্ড) সুন্দর মতো আরো প্রেম করা শুরু করে। সেই ছেলেও কণার ঘরে যায়। ওই সময় আবার শিহাব কে টেক্সট করে কণা। প্রথম নাকি ওই ছেলে ঘরে আসছে।


“এই যে ও আসলো মাত্র।কাপড় ছাড়তেছে এখন”।

শিহাব এর হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসতো। গা গুলিয়ে বমি আসতো। প্রথম কয়েক মাস কষ্ট হইলেও শিহাব আর সবার মতো সব ভুলে গিয়ে নতুন প্রেম করতো একটার পর এঁকটা।নতুন নতুন মেয়ে নতুন নতুন গল্প। নতুন নতুন চুলের গন্ধ,গায়ের গন্ধ। কিন্তু দিনশেষে বেকার যুবক। অনেকদিন এভাবে যাওয়ার পর জি আর ই এর খবর পেয়ে শিহাব জি আর ই দেয়। কোনোরকম একটা স্কোর মাঝারী একটা ইউনিভার্সিটি তে যায়। সেখানে ১০-১২ জন বাংলাদেশী আছে।একজন বাংলাদেশী প্রফেসর আছে মোটামুটি প্রতাপশালী এবং বাংলাদেশীদের কে কাজ জানলে ফান্ড দিয়ে দেয়।

ওইখানে প্রথমেই এলাকার বুড়া আংকেল আন্টিদের দাওয়াতে গিয়ে যখন দেখে বেসিকালি একটা কলোনীর নিম্ন মানের আড্ডা ছাড়া আর কিছু হয় না । আবার বেশিরভাগই বিএনপি শিবির মাইন্ডের মানুষজন। সব ভালো কাজ জিয়া করছে। আর কেউ কিছু করে নাই দেশে। শিহাবের রুমমেট ছিলো হিন্দু। তাকে নিয়ে গেছে। তখন এক মহিলা বলা শুরু করলেন

“এই হিন্দু রা সব নষ্টের মূল। আমার একদম পছন্দ নাহ হিন্দুদের। সব চাকরিতে এখন খালি হিন্দুরা”
আরেক বিসিএস ভাই ছিলেন। উনার শখ হইলো কয়দিন পর পর ডিগ্রি করতে আসা। সরকারের টাকায়। এইখানে এসে বড় বড় গপ্পো। তার মাঝে একদিন মারামারি হাতাহাতি হয়ে গেলো। বিসিএস ভাই বললেন “ট্যাক্সের টাকায় পড়ে এসে এইখানে সেবা করেন খারাপ লাগেনা?”
সবাই চুপ হয়ে যায়। এক ভাই ছিলেন উনি সাধারনত কথা বলেন কম।
উনি মুখ খুললেন “নাহ,লাগেনা। ট্যাক্সের টাকায় যা পড়ছি সেটা এক বছরে ফেরত দিছি। ওই ট্যাক্সের টাকার পড়ালেখার যেই মান আমি দেখছি।তার থেকে একটু টাকা দিতাম তাও যদি কিছু পড়ালেখা হইতো।আপনি যে ট্যাক্সের টাকায় নিজের ছেলেমেয়েকে এইখানের সিটিজেন বানায় সেটল করাচ্ছেন সেটার কি হবে?তাদেরকে ট্যাক্সের টাকায় দেশে পড়ান।হিপোক্রিসি করেন কেন?”
এরপর উচু গলায় চেচামেচি থেকে শুরু হয়ে গেলো হাতাহাতি।


এরপর থেকে শিহাব এগুলোতে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রী দের দাওয়াতে গিয়েও খালি টাকা পয়সা আর মার্ভেল মুভি নিয়ে আলাপ। মরুক গিয়ে সবাই। কেউই পড়াশোনা রিসার্চ নিয়ে ইন্টারেস্টেড না একফোটা। কত অপরচুনিটি আছে সেগুলো নিয়া চিন্তা নাই। আছে শুধু শর্টকাটে বড়লোক হওয়ার ধান্ধায়। আর আছে ইমিগ্রেশন বেশ্যার দল।এরা পুরুষ নারী দুইরকমেরই হয়। এদের ধান্ধা এইখানে সিটিজেন পাত্র-পাত্রী জোটানো। পরে অবশ্য সুন্দর হাসিমুখে ছবি দেয়। জীবন সুন্দর মতোই আগায়। বড় স্ট্রেস কেটে গেলে জীবন সুন্দর না হয়ে যাবে কই?

এক মেয়ে এক বার জিজ্ঞেস করলো
-ভাইয়া,আপনাদের ল্যাবে শন ছেলেটা কেমন?
-কেন?
-টিন্ডার ডেটে গেছিলাম। ভালো লাগছিলো খুব।
- মানুষ তো ভালোই।
-ভাইয়া মানুষ দিয়ে কি হবে? ফিউচার কেমন?
শিহাবের ইচ্ছা হইলো নিজেকে চড় মারতে। আমেরিকায় এসে ও ভুলে গেছে যে সে আসলে বাংলাদেশী।
শিহাব বললো,
“হুম ভালো। ইউ এস সিটিজেন। সায়েন্টিস্ট হওয়ার ধান্ধায় আছে ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স এর।”
মানে? বেতন কেমন হবে?
১২০কে বছরে।
তার মানে আব্বু আম্মুকে নিয়ে আসা যাবে দ্রুত।
হুম।
থ্যাংক ইউ শিহাব ভাইয়া। ইউ আর এ গ্রেট হেল্প।
এক মাস পর বিয়ে হয়ে গেলো। সাদা ছেলে হাটু গেড়ে শর্ট স্কার্ট এর বাংলাদেশী অপুষ্ট বাদামী বেমানান হাটু ওয়ালা মেয়ে কে প্রপোজ করার একটা ছবি দিছে। আরেকটা দিছে কাচাহাতে পড়া লাল শাড়ি পড়ে সাদা বেটা কে জড়ায় ধরা অবস্থার ছবি। সাদা পোলাপানরাও খুব বাদামী শিক্ষিত মেয়েদের পছন্দ করে।আমেরিকান অনেক মেয়েদের তুলনায় লো মেইন্টেইনেন্স করা লাগে। আমেরিকান মেয়েরা পৈ পৈ নিজের হিসাব ঠিক রাখবে। বাংলাদেশী মেয়েরা অনেক সময় রোমান্টিসিজমে ভুগবে,আবেগ দেখাবে,সেই সাথে একটু রান্না বান্নাও করবে। সোজা কথায় কম স্পয়েলড হবে। এটাই ভাবে অনেক সাদা আমেরিকান।কিন্তু দিন দুনিয়ার অনেক পরিবর্তন হইছে।

অবিবাহিত সিনিয়র ল্যাব মেট বাংলাদেশী আপু এই পোস্ট দেখে লাইক দিয়ে অকারনে শিহাবের উপর রাগ করে দুইটা ঝাড়ি মেরে ল্যাব থেকে চলে গেলো। এরপর দেখা গেল ফেসবুকে সলো গার্ল ট্রিপ দিচ্ছেন ন্যাশভিল, টেনেসি তে। ছেলেদের হিসাব নিকাশ ও অদ্ভুত। এই সাদা মেয়েদের পিছে ঘুরে কিন্তু পাত্তা পায় না তাই নিউইয়র্ক, “বার্জিনিয়া” আর এল এ অর্থাৎ ফেরেশতা দের শহরে গিয়ে এরা ফার্স্ট জেনারেশন আমেরিকান সিটিজেন মেয়েদেরকেই খুজতে থাকে। কপাল খুলে যায় যদি দেখে মেয়ে কিছুদিন বাংলাদেশেও থাকছে। তাইলে তো মামা ছক্কা।

এর মাঝে সোমা আসে ইউনিভার্সিটি তে। শিহাবের পাশের ল্যাবে। শিহাব এর সাথে সোমার দেখা হয় ল্যাবের সামনে।
বরফ পড়ে চারিদিক সাদা হয়ে গেছে।
সোমা তখনো বাংলাদেশী জিন্স পড়া। এইখানকার শীতের কাপড় নিয়ে ক্লিয়ার আইডিয়া হয় নাই বুঝা যাচ্ছে পোশাক আশাক দেখে।
এইভাবেই প্রথম সোমার সাথে পরিচয় হয় শিহাবের।
জিন্স আর সাদা টপস পড়া মোটামুটি সাস্থ্য ওয়ালা মেয়ে টার প্রতি আকর্ষন বাড়তে থাকে ধীরে ধীরে শিহাবের। পাশের ল্যাবে কাজ করায় প্রায়ই কথা হতো। সিনেমা,গান,গল্পের বই,এনিমে,মাংগা,জীবন,সমাজ সব বিষয়ে বেশ জমতো। কিন্তু গল্প গুলো একদমই সারশুন্য হীন। ধীরে ধীরে কথা গুলো অন্যদিকে ঘুরতে থাকে।
একদিন রাতে ১১টা বাজে। ল্যাব থেকে শিহাব বাসায় যাবে। স্নো এর ভিতর সোমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে লিফট দেয় শিহাব।
“খুব ঠান্ডা,তোমার গাড়ি নাই?”
সোমা শিহাবের এই প্রশ্নের উত্তরে বলে, “নাহ,সবসময় বাস নিয়ে থাকি।কিন্তু আজ কাজ শেষ হতে দেরি হয়ে গেলো”
“এরকম হলে,আমাকে জানাবে।আমি প্রায়ই ল্যাবে রাতে থাকি। আমি লিফট দিবো”।
সোমা চুপ করে বলে “শুধু লিফট দিবে?”
গাড়ি ধীরে ধীরে স্লো করে ইমার্জেন্সি তে দিয়ে শিহাব সোমার দিকে ঝুকে যায় আর সোমা ও ওরদিকে এগিয়ে যায়। ঠোটের সাথে ঠোট মিলে যায়। এই বরফ ভেজা সন্ধ্যায় ভালোবাসার এই রূপ এর সূচনা দেখা যায়।
ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ভালোবাসার প্রকোপ। একজন আরেকজন এর বাসায় থাকে প্রায়ই। শিহাব এর রুমমেট রাশিক ভাই কিছুই বলেন না অবশ্য। উনি বেশিরভাগ সময় ল্যাবেই কাটান। রাতে রাতে হঠাত চিতকার চেচামেচি করেন।শিহাব তখন উনাকে ঘুম থেকে উঠায়। তাই লজ্জায় ল্যাবেই ঘুমান বেশির ভাগ দিন।রাশিক ভাইয়ের সম্পর্কে কেউই কিছু জানেনা।উনিও কারো সাথে মিশেন না,কথা বলেন না।শুধুমাত্র সোশাল মিডিয়ার গ্রুপ গুলোতে আছেন।কারো কোনো দরকার পড়লে কথা বলেন।

সোমা একাই থাকে একটা স্টুডিও এপার্টমেন্টে। এই মিডওয়েস্ট সবকিছু এতো সস্তা যে কোনো বেপারই না। সব খরচ করেও সোমা দেশে তার কলেজ শিক্ষক বাবা কে ৫০০ ডলার পাঠাতে পারে। তার মা হাউজ ওয়াইফ। সোমার অনেক স্বপ্ন গ্রাজুয়েশনের জন্য বাবা মা কে আমেরিকায় আনবে।অবশ্য এই মুহুর্তে মা এর নামে নিউইয়র্কের আত্মীয় স্বজন দের ইমিগ্রেশন কেস চলছে যেকোনো গ্রিন কার্ড চলে আসতে পারে। সোমা অনেক চিন্তা করে পড়তে এসেছিলো। কিন্তু এইখানে আসার পর আর পারছেনা। ফোকাস করতে কষ্ট হয়। তলপেট থেকে শুরু করে সব গরম হয়ে থাকে সারাক্ষন। মাথার ভিতর শিহাবের কথা ঘুরতে থাকে। এটা সোমার প্রথম সম্পর্ক। দেশে পছন্দ ছিলো অনেক। কিন্তু এইটাই প্রথম সম্পর্ক। শিহাব তার প্রথম পুরুষ। নিঃশ্বাস আটকে আসে আর মাথা ঝিমঝিম করে কেমন জানি।
তাই সে মাথা ঠিক রাখতে পারেনা একদমই। কোনোরকম পাশ করে যাচ্ছে।পিএইচডি করার স্বপ্ন থেকে এখন তার চিন্তা মাস্টার্স করে জব,বিয়ে,বাচ্চা।
আর সেইসাথে শিহাব কেও চাই তার। বালের পিএইচডি করে কি হবে? শিহাব এর দরকার নেই পৃথিবী বদলানোর। শিহাব কে সোমার নিজের করে চাই। ওকেও মাস্টার্স করায় বের করে নিতে হবে। হোক, ওর বড় বড় স্বপ্ন আছে। তাতে কি হইছে?
শিহাব কে বুঝতে হবে, পিএইচডির স্বপ্ন বেশি বড় নাকি সোমাকে ওর জীবনে রাখাটা বেশি বড়?
সোমা ভাবে “শিহাব নিশ্চয়ই আমাকে চাইবে”
তারপর সোমা ভাবে, যদি তারপরেও শিহাব আমাকে না চায়,পিএইচডি করতে চায়,তাহলে?
ওকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে হবে। এই এপার্টমেন্ট এ নিয়ে আসতে হবে। টেবিল চেয়ার ছাড়া ও কিভাবে কাজ করবে? আমার বাবা মা আসলে সব দায়িত্ব ওর হাতে দিয়ে দিবো। সব খরচ ওর হাতে চাপায় দিবো। তখন বুঝবে পড়াশোনা করার অবস্থা ওর আর নাই। চাকরি দরকার এইসব খরচ চালানোর জন্য।তখন ও জব করবে এবং আমাকে আর পরিবার কে সময় দিবে।এইটা ওর জন্যেই দরকার। এটাই ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স।

রাশিক চিতকার করে ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠলো। ভাগ্যভালো ল্যাবে ঘুমাচ্ছে। নাহয়, শিহাব কে আবার উঠতে হইতো। শিহাব দুপুরের দিকে ল্যাবে যায়। সন্ধ্যায় খেয়ে দেয়ে ঘুম যায় আর ভোরে উঠে পড়ালেখা করে। তারপর ল্যাবে যায়। রাশিক ঘুম থেকে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা মনে পড়ে যায়।
ও একটা কমন দুঃস্বপ্ন দেখে। প্রায় প্রতি রাতেই এটা দেখে।
একটা পাহাড়ের ভিতর দিয়ে রাশিক হেটে যাচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে। কাপড় চোপড় সব ভিজে আছে। সূর্যাস্ত এর সময় সব কিছু হলুদ আলোতে ছেয়ে গিয়েছে। কেউ যেন জোর করে টিভির রিমোট জীবনের স্যাচুরেশন বাড়ায় দিছে। রাশিক স্বপ্নের ভিতর খোড়াচ্ছে। কিছুক্ষন হাটার পর সামনে একটা লেক দেখতে পায়। লেকের পানি লাল। পাহাড়ের প্রান্তে গাছের পাশে রাশিকের স্ত্রী তাকায় আছে ওর দিকে।তার চারিদিকে কচু পাতা সবুজ রঙের গাছ থেকে ফাস দেওয়া লাশ ঝুলছে। হালকা বাতাসে নড়ছে লাশ গুলো।
রাশিকের স্ত্রী কাদতে কাদতে বলে, “কেন ? কেন? কেন মারলে আমার মেয়ে কে?”
রাশিক বলে, “তুমিই তো বললে ইমিগ্রান্টের বউ হইতে চাও নাই। বাচ্চা কে চাও নাই তখন। আমাকে আর পরিবার কে গালাগালি করলে। আমাকে পুরুষত্বহীণ বললে প্রেগন্যান্ট করে দিছি বলে।তুমিই তো সাইন করে দিলা ডাক্তারের অফিসের কাগজে।”
“চুপ কর। তুই খুনী। তুই একটা খুনী।”
এই কথা বলে রাশিকের স্ত্রী চিতকার করে কান্না শুরু করে মাটিতে বসে। এই কান্নার আওয়াজেই কিনা রাশিক হঠাত করে খস খস আওয়াজ শুনে। ঝুলতে থাকা লাশ গুলো নড়তে থাকে। আকাশ তখন হলুদ থেকে কড়া লাল হয়ে যায়। রক্তের মতো টকটকে লাল আকাশ কে পিছনে রেখে ঝুলতে থাকা লাশ গুলো কালো আলখাল্লা পড়ে চিতকার করতে থাকে
“খুনী,খুনী।তুই একটা খুনী”
লাশ গুলোর চোখ জল জল করতে থাকে।লাশ গুলোর গলা সে চিনতে পারে। সেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সময়ের পরিচিত রা। সবাই এরা মৃত।বিভিন্ন রাজনৈতিক কনফ্লিক্টে সময়ে সময়ে মারা গিয়েছে এরা রাশিকের চোখের সামনে।

ঝুলন্ত লাশ গুলো স্ট্রাগল করতে থাকে গলার ফাস ছিড়ে রাশিকের কাছে আসার জন্য।রাশিকের স্ত্রী চিতকার করতে থাকে। রাশিক্ তখন ভয়ে দৌড় দিয়ে লাল রক্তের মতো রঙের পানির লেকে লাফ দেয়।
পানি ছিল হাটু পানি। ডুব দিয়ে আবার রাশিক উঠে দাঁড়ায়। কে জানি রাশিকের আংগুল ধরে টান দেয়। ও পিছনে তাকায়।সাদা কালো ফ্রক পড়া একটা বাচ্চা রাশিকের আংগুল ধরে টান দেয়।
“বাবা,আমাকে মেরে ফেললা কেন?কি দোষ ছিলো আমার?”
“বাবা,বাবা,বাবা।কথা বলছো না কেন?”



এইসময়েই রাশিকের ঘুম ভাঙ্গে।

রাশিক তার অতীত থেকে পালিয়ে বেড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে অনেক বছর ধরেই। কিন্তু কেন জানি হচ্ছে না। নিজের স্মৃতি থেকে পালিয়ে কোথায় যাবে আসলে? ল্যাবের একটা মেশিনের আওয়াজে তার একদিন প্যানিক এটাক হয়ে গিয়েছিলো কারন সেটার আওয়াজ অনেকটা পিস্তলের ট্রিগার চাপ দেওয়ার মতো।
রাশিকের স্ত্রী এইখানেই ছিলো। কিন্তু ছয় মাস আগে মারা গেছে ।
আসলে এবরশনের জন্য বেপারটা হয়েছিলো তা নয়। এবরশন এর ডিসিশন টা খুব কঠিন হওয়া স্বত্তেও দুইজন মিলে নিয়ে নিতে পেরেছিলো। কিন্তু অতীত যখন ফিরে আসলো তখন সবকিছুই সমস্যাক্রান্ত হয়ে গেলো।

কয়েক মাস আগে,
নতুন একটা মেয়ে মুভ করলো এই শহরে। যে কিনা রাশিকের পুরনো বান্ধবীর রুমমেট ছিলো। এই মেয়ে রাশিকের অতীতের সবকিছুই জানতো। পরিবার, ড্রাগস,খুনোখুনি,নারী সবকিছুই রাশিকের বান্ধবী এই মেয়ের সাথে শেয়ার করেছিলো। উইকেন্ডের বাংলাদেশী দাওয়াতে গিয়ে প্রথম এই মেয়ের সাথে পরিচয় সবার। মেয়েটা সবার সামনে রাশিক কে জিজ্ঞেস করে উঠে।
“ভাই, আমাকে চিনতে পেরেছেন? আমি নাবিলার রুমমেট।নাবিলার সাথে আপনার আর যোগাযোগ আছে?”
সবাই চুপ হয়ে যায়।
মেয়েটা আবার জিজ্ঞেস করে, “ভাই, আমি সানিকা। আমি নাবিলার রুমমেট। আমাকে চিনছেন?”
রাশিক একবার তার স্ত্রীর দিকে তাকায়,আরেকবার বাকিসব বাংলাদেশী দের দিকে তাকায়। রাশিকের স্ত্রী রাশিকের অতীত নিয়ে একদম কিছুই জানেনা।
রাশিকের স্ত্রী তখন মেয়েটা কে বলে, “আপনি মনে হয় ভুল করছেন”
মেয়েটা তখন বলে, “নাহ,আপনি রাশিক ভাইয়া না?”
রাশিক তখন একটা দ্বন্দে পড়ে যায়। সানিকা কে অস্বীকার করে আগায় যাবে। নাকি অতীত কে মেনে নিবে। নিজের স্ত্রী এবং সমাজের উপর এতটুকু ভরসা কি করবে?
রাশিক তখন বলে “হ্যা, সানিকা আমি তোমাকে চিনেছি।নাবিলা তোমার কথা বলতো। নাবিলার সাথে যোগাযোগ নেই অনেক বছর।”
রাশিক নিজের স্ত্রী কে কাছে টেনে এনে বলে “এই যে আমার স্ত্রী”
সানিকার মুখ লাল হয়ে গেলো লজ্জায়।
“স্যরি ভাইয়া।আমি বুঝি নাই। নাবিলা তো আমেরিকাতেই আসছে।তাই আপনি কিছু জানেন কিনা ভাবছিলাম।”
সানিকা লজ্জামুখ নিয়ে রাশিকের স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বলে “ভাবী আমি খুবই স্যরি”।
রাশিকের স্ত্রী মুখ নামিয়ে ফেলে। লজ্জাতে ওর মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। রাশিক এর স্ত্রী হেটে বের হয়ে যায়। রাশিক ওর পিছে পিছে যায়।
দুইজনেই গাড়িতে উঠে। পুরো রাস্তায় দুইজন একদম চুপচাপ যায়। বাসায় গিয়ে কাপড় ছাড়ে একদম নীরব থেকে। এরপর আসে ঘুম।
মাঝরাতে রাশিকের ঘুম ভাংগে দূর থেকে ভেসে আসা কান্নার আওয়াজ থেকে।পাশে নাবিলা নেই। তড়াক করে রাশিক উঠে দাঁড়ায়। ট্রাউজার আর টিশার্ট গায়ে গলিয়ে দৌড় দিয়ে বাসার সামনে আসে। নাবিলা এপার্টমেন্টের সামনে বসে আছে ফোন হাতে।ফোনের আলোতে নাবিলাকে দেখতে মনে হচ্ছে সাদা মুখের জাপানিজ হরর মুভির ভূতের মতো। রাশিক ওর কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়।
কাদতে কাদতে তামান্না (রাশিকের স্ত্রী) বলে “তুই এত বড় কাহিনি লুকাইছিস কেন আমার কাছ থেকে?”
রাশিক কিছু বলেনা।
“তুই নাবিলা মাগী কে মনে মনে এখনো চাইতেছিস?”
রাশিক চুপ থাকে।
“এজন্য বাচ্চা নষ্ট করাইছিস?যাতে নাবিলা মাগীর পেট বাধাইতে পারিস?”
তামান্নার চিতকারে আশপাশের বিল্ডিং গুলোর মানুষেরাও সব বের হয়ে আসতে থাকে।এইখানে পিএইচডি স্টুডেন্টরা আর পোস্ট ডক রা থাকে বিভিন্ন দেশের। অনেকেই মাথা বের করে তাকিয়ে তামান্নার কান্না মাখা চিতকার শুনতেছে।
রাশিক বলে “বাচ্চা তুই নষ্ট করছিস।নিজের হাতে সাইন করছিস। ইমিগ্রান্টের বউ বানাইছি বলছিস”
তামান্না চিতকার করে “চুপ কর হারামজাদা। নাবিলার কথা ভুলতে পারিস নাই এখনো আমি জানি তো। ইন্সটাগ্রাম এ ঠিকই ওর ছবি দেখিস আমার পাশে শুয়ে থেকেই।”
রাশিক মোটেও শুয়ে শুয়ে নাবিলার ছবি দেখে না। আজকে সানিকা বলার পর সব সোশ্যাল এ নাবিলা কে খুজে দেখলো। আর কিছুই না।
কয়দিন পর তামান্না সুইসাইড করে গলায় দড়ি দিয়ে। ল্যাবের সিলিং থেকে।
রাশিক এর ঘোর কাটে ফোনের আওয়াজে। শিহাব ফোন দিছে।
“হ্যা,শিহাব।কি খবর?”
“ভাইয়া, সোমার বাবা মা আসতেছেন পরশু দিন। আমি ওর সাথে বাজার করতে যাচ্ছি। আপনার জন্য কিছু লাগবে?”
রাশিক চিন্তা করে। কিছু জিনিস লাগতো কিন্তু কাউকে কিছু বলতে ওর ইচ্ছে করে না আর। তামান্নার কথা মনে পড়ে “কারোর থেকে কিছু নিবা না, দেওয়ার চিন্তা করবা সারাক্ষন”
রাশিক বলে, “অনেক ধন্যবাদ।কিছুই লাগবে না”।

সানিকা এর সারারাত ঘুম হয় নি।উইকেন্ডের সকাল। স্নো পড়তেছে। মাত্র বাংলাদেশ থেকে এসে এখনো খুব বেশি খাপ খাওয়াতে পারে নাই এইসব কিছুর সাথে। নতুন করে যেন নিজের শরীর কে এই পরিবেশের সাথে বেচে থাকা শিখাতে হচ্ছে। সানিকা খুবই সাধাসিধে শান্ত মেয়ে। খুব বেশি চাওয়া পাওয়া নেই। অল্প তেই খুশি থাকার চেষ্টা করতে থাকে। তবে কেন জানি আসার পর থেকে প্রচণ্ড ডিপ্রেশন চেপে ধরতেছে। প্রতিদিন মনে হয় ঘুম থেকে উঠে ফ্লাই করে দেশে চলে যাবে।
প্রতিবার থালা বাসন ধোয়ার সময় একবার দেশের কথা মনে পড়ে,রান্নার সময় মা এর কথা মনে পড়ে, চা খেতে গিয়ে যখন বিস্বাদ চা বানায় তখন ও দেশের বাসায় কাজ করা খালার কথা মনে পড়ে। এই যে ডাক দিলে খাবার, চা চলে আসতো ঘরে এটা খুব মিস করতেছে।
সারাদিন শুধু পড়ালেখা,ফেসবুকে দিন টা কাটতো। আর রাতের বেলায় শরীফের সাথে ফোনে ফোনে ভালোবাসার দেওয়া নেওয়া শুরু হতো। শরীফ ওর ক্লাসমেট ছিলো। এখন আমেরিকাতেই আছে। গার্লফ্রেন্ড হইছে সাদা চামড়ার। বিয়েও করে ফেলবে। মেয়ের বাড়ি মিশিগানের লেকের পাড়ে। ছবি গুলো অনেক সুন্দর। নীলাভ সবুজ পানির পাশে দাঁড়িয়ে শরীফ আর মেয়েটা চুমু খাচ্ছে এটা দেখে সানিকা ভিতরটা ভেংগে যেতে শুরু করে। এমন যেন একশ টা হাত ওর সারা শরীর ঘুরে এসে মুখের ভিতর ঢুকে ছুরি দিয়ে ওর কলিজা টা কে খুচিয়ে খুচিয়ে মারছে।এই অনুভূতি টা এক সপ্তাহ ছিলো।
বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে দিলো। শরীফ কে বাসাতেও পছন্দ করতো খুব সবাই। কিন্তু কিছুই আর হলো না। সানিকার স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়াই ছিলো। দুই জায়গাতে এডমিশন হইছিলো। একটা ছিলো শরীফের কাছে আরেকটা ছিল দূরে।
দূরেরটাতেই চলে গেলো সানিকা।
সানিকার সাথে শরীফের শেষ কথা গুলো ছিল এরকমঃ
তোমার সাথে প্রেম করেছি ঠিক আছে।কিন্তু এমন তো না আমরা বিবাহিত ছিলাম। আমাদের ভিতরে তো তেমন কিছুই হয় নাই যে আমাদের সারাজীবন একসাথে থাকা লাগবে। ওগুলো আসলে ক্ষনিকের আকর্ষন আর শরীরের বেপার। আমার চেয়ে কত ভালো ছেলে আসবে তোমার জীবনে।দেখবা খালি।

কয়দিন পরে অবশ্য শরীফের এনগেজমেন্ট এর ছবি আসে। এক বছরের প্রেমের ফসল আজকে তুললাম।
তার মানে সানিকার সাথে “সম্পর্ক”থাকার সময়ে এসব করেছে শরীফ। নাবিলার বেপার টা মনে পড়ে যায় সানিকার। নাবিলা তার রুমমেট কত রকমের কত ছেলের সাথে কত জায়গায় গিয়েছে, আর সে এত ভালো থেকে তার কি লাভ টা হইলো? মাত্র একটা ছেলের সাথে প্রেম করেছে।তাও হইলো না কিছু।
এখন একটা হাজব্যান্ড যোগাড় করতে না পারলে যে কি হবে ওর।
একা জীবন টার সাথে খাপ খাওয়াতে পারবো কি? এগুলো ভাবতে ভাবতে সানিকা বিছানা থেকে উঠে। বাসার চারিদিক সাদা হয়ে আছে। কি যে করবে সারাদিন বুঝে উঠতে পারছেনা।হঠাত করে সানিকার রুমমেট এক সাদা বিদেশী মেয়ে এসে খুব এক্সাইটেড ভাবে বলে “দেখো দেখো।কি সুন্দর স্নো পড়ছে।চলো আমরা বের হই।”
সানিকার এখনো ইংরেজী বুঝতে কষ্ট হয়। নাটক সিনেমা দেখে অনেক খানি বুঝে কিন্তু বিভিন্ন এলাকার টান গুলো বুঝতে কষ্ট হয়।
“স্যরি,বুঝি নি।”
মেয়েটা বুট পড়ে রেডি হইতে থাকে।
“আমি এরিজোনা থেকে এসেছি।ওইখানে নর্থ ছাড়া কোনো স্নো নাই। এরকম স্নো আমি এত কাছ থেকে দেখি নাই। তুমি কোত্থেকে আসছো?ওইখানে স্নো হয়?আমার সাথে চলো বের হই।”
সানিকা বলে “না,আমাদের ওইখানেও স্নো হয় না।চলো বের হই”।
শীতের কাপড় পড়ে দুইজনেই বের হয়। স্নো বল ফাইট থেকে শুরু করে স্নো এর ভিতর শুয়ে থাকলো,দৌড়াদৌড়ি,হাটাহাটি সবই করলো। মাঝপথে ওদের তিন নাম্বার রুমমেট যোগ দেয়।আফ্রিকান এই মেয়েটাও কোনোদিন স্নো দেখে নাই।
ঘন্টা খানিক এভাবে চললো। এরপর মেয়ে গুলো বললো “চলো পাবে যাই”।
সানিকা ইতস্তত করে, “পাবে গেলে কি মদ খেতে হবে?”
“তোমার ইচ্ছা না করলে খাবা না।কেউ কিছু বলবে না।সাধারন খাবারও পাওয়া যায় ওইখানে।”
সানিকা ওদের সাথে যায়। বেশ ভালো লাগে। এতদিনে এসে আমেরিকা ওর কাছে জমজমাট লাগা শুরু করে। নতুন অনেকের সাথে পরিচয় হয়। একটা ছেলেকে একটু করে ভালোও লেগে যায়। ওরা ফোন নাম্বারও আদান প্রদান করে। ছেলেটা এখানেই পিএইচডি করছে।
সানিকা স্বপ্নের মতো একটা দিন কাটায় বাসায় ফিরে।
ফেসবুকে শরীফের মেসেজ।
“হাই”
সানিকার বুক কেপে উঠে।কি করবে,কি বলবে বুঝে উঠতে পারেনা। মেসেজ আইকনে শরীফ আর তার ওয়াইফের ছবি আবার ওইদিকে এত রাতে তাকে মেসেজ দিচ্ছে।
সানিকা লিখে
“হাই?”
“কি খবর?”
“এইতো”
“তুমি নাকি আমেরিকাতে আসছো?বিয়ে করে আসলা নাকি?”
“নাহ,একাই”
“কোথায় আসলা?”
“এইতো আসছি আর কি এক জায়গায়,তুমি জেনে কি করবা?”
“নাহ,জেনে রাখি”
“নাহ”
“আমার প্রতি রাতে তোমার কথা মনে পড়ে।তোমার কি আমার কথা মনে পড়ে?”
সানিকার অভিমানে চোখে পানি চলে আসে। আবার বুকের ভিতরেও ধুকধুক করতে থাকে। কথা পরের টা খুব সাবধানে বলতে হবে।
শরীফ মেসেজ দিতে থাকে
“আমার ওয়াইফ তোমার চেয়ে অনেক সুন্দরী কিন্তু কথা বলার কিছু নাই।একদম বিরক্তিকর।”
সানিকার রাগ উঠতে থাকে এখন।আবার মনে মনে একটু আশাও দেখা যায়।
শরীফের মেসেজ আসতে থাকে
“তোমার সাথে কথা বলার আনন্দ টাই অন্যরকম ছিলো। কতকিছু জানতা তুমি। টিভি সিরিজ থেকে শুরু করে বই সবকিছু নিয়ে কথা বলা যাইতো।একটা মনের মিলের বেপার ছিলো।সবকিছু আমরা একইভাবে চিন্তা করতাম”
সানিকার চোখে পানি টপটপ করে পড়তেই থাকে।এগুলো কেন বলতেছে শরীফ? কেন?
কিন্তু রাগ টাও ভিতরে ঘুরতে থাকে।
শরীফের মেসেজ আসে,
“সুন্দর হলেও কি আর। তোমার মতো না আসলে।কি বেপার উত্তর দিচ্ছো না কেন?”
“কি উত্তর দিবো?”
সানিকার মন ট একটু কেমন জানি হয়ে আসে। একটু আশা দেখে মনে হচ্ছিলো।
শরীফ এরপরের মেসেজ টা সবকিছু শেষ করে দেয়
“তুমি খুব স্পেশাল কিছু জিনিস করতে পারতা। যেটা আসলে আমি আর পাচ্ছিনা।”
এরপরে একটা পূর্নাংগ শিশ্নের ছবি পাঠায় শরীফ।
সানিকা হতভম্ব হয়ে যায়।
“এটার কথা মনে আছে?কিভাবে চুষে দিছিলা গাড়িতে?আমি ভুলতে পারতেছিনা”
সানিকার চোখের পানি বন্ধ হয়ে যায়।
“আমি তোর বেশ্যা না,খানকির পোলা।”
সানিকা এরপর ব্লক করে দেয় শরীফ কে। সব প্লাটফর্ম থেকেই ব্লক করে ওকে। সানিকা ভাবতে পারেনা এই ৭/৮ বছরের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত এই ব্লোজবে পরিসমাপ্তি।এটাই তার ৭/৮ বছরের সম্পর্কের লিগেসি। একমাত্র জিনিস যেটা শরীফ মনে রাখছে? জাস্ট ব্লোজবের জন্য সানিকা কে শরীফের মনে লেগে আছে?
এ কেমন জীবন?
সানিকা উঠে দাঁড়ায়। আজকের ছেলেটাকে টেক্সট করে। ওর সাথে কথা বলা শুরু করে। আর পিছে তাকাবে না সানিকা, ঠিক করে। অতীত কে মাঝে মাঝে গুলি করে মারা দরকার, নাহয় অতীত উঠে এসে পিঠে ছুরি মারার ক্ষমতা রাখে।


শিহাব গাড়ি চালাচ্ছে।সূর্যাস্তের আলো গাড়ির জানালা দিয়ে চুইয়ে পড়ছে । গাড়িতে পিছনে সোমার বাবা এবং মা বসে আছেন। সোমা শিহাবের সাথে না এসে ল্যাবে গিয়েছে।ইমার্জেন্সি কাজে।যদিও সেটা শিহাবের বিশ্বাস হয় নি।তার বাবা মা এর সাথে একলা টাইম কাটানোর ব্যবস্থা করছে সোমা। চুপ করে। শিহাব বরফ ঠান্ডা স্লাশি খাচ্ছে। বেসিকালি বরফের গুড়ো। এগুলো খাচ্ছে কারন শিহাবের মেজাজ প্রচন্ড রকমের খারাপ। এই দুই বুড়ো বুড়ি মেজাজ টা খারাপ করে দিছে। এই এক সপ্তাহ উনাদের কে নিয়ে ল্যাবের কাজ বাদ দিয়ে দিনে রাতে ঘুরছে। পাহাড়,নদী,লেক,রেস্টুরেন্ট, দাওয়াত সবখানেই নিয়ে গেছে আর নিয়ে আসছে।
কিন্তু বিয়ের জন্য ইনকোয়ারি করতেছে কিন্তু পিসড অফ করে দিচ্ছে।
“বাবা মা এর রোজগার কত? আত্মীয় স্বজনেরা কি করে? এই বাজে স্টেট থেকে মুভ করে কবে নিউ ইয়র্কে আসবা? বিয়ে, বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে কি চিন্তা সোমার?
সোমার সমান থাকতে আমার এম এ ডিগ্রি শেষ, বাচ্চাও ছিলো একটা।”

শিহাব এক বাক্যে উত্তর করে যাচ্ছিলো প্রতিটা কথার। প্রতিটা উত্তর দিয়ে শিহাব নখ দিয়ে স্টিয়ারিং হুইল জোরে খামচে ধরছিলো।দাগ পড়ে যাচ্ছে সেইখানে।রাগ উঠলে শিহাব এই কাজ টা করতে থাকে। অজস্র খামচির দাগ স্টিয়ারিং হুইল আর তার আশপাশে।শিহাবের বাবা তেমন কিছু করেন না। প্রতিটা প্রশ্নের উত্তরে নিজেকে আরো অদৃশ্য মনে হতে থাকে শিহাবের নিজেকে। যেনো শিহাব কেউ না। শিহাবের প্রশ্নের প্রতিটা উত্তরে সোমার বাবা মা এর রিএকশন গুলো, দীর্ঘশ্বাস গুলো শিহাবের কানে আসতে থাকে। সে বুঝতে থাকে কত বড় ভুল করেছে সে। কেন সোমার সাথে প্রেম করতে হলো তার?
এয়ারপোর্ট থেকে আর ১০ মিনিট দূরে, তখন সোমার বাবা আবার মুখ খুলেন।
“সোমা কে এখান থেকে নিয়ে যেতে পারলে খুব ভালো লাগতো। নিউ ইয়র্কে আমাদের সব আত্মীয়। পুরা বাংলাদেশের মতো পরিবেশ। একটু নিশ্চিন্ত হতে পারতাম।
শিহাব আবার খামচে ধরে স্টিয়ারিং হুইল। রাগে দুঃখে হতাশায় মুখ টা কালো হয়ে গেছে। রিয়ারভিউ দিয়ে তাকায় দেখে সোমার বাবাও ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
কথা বলা শুরু করে আবার সোমার বাবা,
“পরশু দিন ওই আমার বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম তাদের কে আমার খুব ভালো লাগছে। অন্য অনেকে আছে অতিথি আসলে এক পর্যায়ে মুখ কালো করে ফেলে। কিন্তু ওরা পুরো সময়ে হাসিমুখে আমাদের আপ্যায়ন করলো।কি যে ভালো। ওরকম কারো সাথে সোমার বিয়ে দিতে পারলে খুব ভালো হতো। বিয়েশাদী অবশ্য আল্লাহর হাতে। “
এয়ারপোর্ট পর্যন্ত আবার সবাই চুপ। এয়ারপোর্টে নেমে শিহাব লাগেজ নামায় দিলো উনাদের। উনারা বিদায় নিয়ে ভিতরে ঢুকে গেলো।
শিহাব কিছুক্ষন গাড়িতে চুপচাপ বসে থাকলো। সোমাকে টেক্সট দিলো, উনারা এয়ারপোর্টে। আমি আজ রাতে আর আসবো না।আমার বাসায় থাকবো।”
গান ছাড়লো।
মবি এর “শট ইন দা ব্যাক অফ দা হেড”
Instrumental….
গাড়ি নিয়ে রওনা হলো। অন্ধকার হয়ে গেছে চারিদিকে। পুরান গাড়ির হেডলাইট দুর্বল। শিহাবের চোখ ঝাপসা হয়ে আসতে থাকে। এত টা অপমান কোনোদিন ওর লাগে নাই। পুরো গা যেন ময়লা হয়ে গিয়েছে।বাসায় গিয়ে ডলে ডলে এত অপমান আর লজ্জা ধুয়ে ফেলতে হবে সব।
শিহাবের হঠাত ইচ্ছা করলো বাবা মা কে ফোন দিয়ে গালাগালি করতে। কেন এরকম লুজার বানাইছে আমাকে? শিহাবের এক্স গার্লফ্রেন্ড এটা করতো। শিহাবের একবার রেজাল্ট খারাপ হলো তখন তার এক্স গার্লফ্রেন্ড বললো তোর মা কে এখুনি ফোন কর। আর বল “আমাকে লুজার বানাইছেন কেন? নিজেরা লুথা বলে আমাকেও বানাতে হবে নাকি?”
প্রেমের টানে ব্যক্তিত্বহীন হয়ে শিহাব কল দিয়ে এসব বলে। এটা দেখে এক্স গার্লফ্রেন্ড বলে “আমি বলছি বলে কি কল দেওয়া লাগবে? অকৃতজ্ঞ সন্তান তুই”
শিহাব ফোন রেখে দেয়।
সোমা কে কল দেয়। সোমা কেটে দেয়। টেক্সট দেয়।
“আমি অনেক ব্যস্ত। কথা বলতে পারবো না”
শিহাব টেক্সট দেয় “ ওকে। তবে আমাকে কল দিও না আর কোনোদিন। আমাদের ভিতর আর কিছু নাই”
এটা লিখে শিহাব ফোন রেখে গাড়ির সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে বিশাল এক হরিন।শিহাবের দিকে তাকিয়ে আছে। যেনো আত্মার গভীরে সব দেখে ফেলছে। গাড়ি থেকে মাত্র ৫-৬ ফিট দূরে। কড়া ব্রেক দেয় শিহাব। কিন্তু কাজ হয় না। গাড়ি টা ঘুরানোর চেষ্টাও চলে। গাড়িটা হালকা ঘুরে যায় কিন্তু তাও হরিনের গায়ে সজোরে গিয়ে ধাক্কা লাগে শিহাবের গাড়ির। নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাড়িটা ঘুরে হাইওয়ের পাশে খাদে পড়ে যায়। শিহাবের আর কিছু তখন মনে নাই।

শিহাবের ঘুম ভাঙ্গে হাসপাতালে। রাশিক তার পাশে বসা।
শিহাব উঠতে গেলে রাশিক দৌড় দিয়ে ডাক্তার আর নার্স ডেকে আনে।ওরা শিহাব কে থিতু করে।
শিহাবের সারা শরীর ব্যান্ডেজ এ মোড়ানো।
শিহাবের সময় লাগে স্বাভাবিক হতে।
স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রথম প্রশ্ন ছিল “সোমা কই?”
রাশিক গম্ভীর ভাবে বলে “নেই”
“মানে?”
“নিউ ইয়র্ক চলে গেছে গতকাল,ব্যাগ বোচকা সব নিয়ে।”
শিহাব দীর্ঘশ্বাস ফেলে “অবাক হলাম না”
রাশিক বলে “অবাক হইও না। আমরা ছেলেরা একরকম ভয়ানক।মেয়েরা অন্যরকম।একটা ঘটনা বলি।
আমার তখন ভয়ংকর কাজের চাপ।তোমার ভাবির সাথেও টুকটাক গেঞ্জাম চলতেছে। ল্যাবে আসছি। সেই সকালে আসছি মাঝখানে টেক্সটিং হইছে তোমার ভাবীর সাথে কিন্তু কথা হয়নাই।রাতের বেলা হঠাত ফোন।”
কান্নামাখা কন্ঠে তোমার ভাবি বলে “আমি এয়ারপোর্টে যাচ্ছি।দেশে চলে যাবো। তোমার সাথে এভাবে আর থাকা যাবে না।”
“আমি বোকা হয়ে যাই।দৌড় দিয়ে গাড়ি নিয়ে ১ ঘন্টা দূরে এয়ারপোর্টে যাই। ওইখানে তন্নতন্ন করে ওকে খুজি। এরপর আমাদের বাসায় যাই। বাসা লন্ডভন্ড। আমার পরিবারের সব ছবি টুকরো টুকরো করে ছিড়া।আমি ওকে না পেয়ে চলে যাই বাসা থেকে।ল্যাবের মেঝেতে ঘুমাই।পরের দিন মিটিং এ দেখি তোমার ভাবীর কল। ও স্যরি বলতেছে।কারন ও আসলে আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আসলে ক্লজেটে লুকিয়ে ছিলো।ওইদিকে ওর বাবা মা বোন দুলাভাই সবাই ওর কথা শুনে আমাকে ফোনে করতেছে আর বকতেছে”।
এটা বলে রাশিক হাসে।
“কিছুই করার নাই।তা তোমার এক্সিডেন্ট কেমন হলো?”
“হরিনের সাথে লেগে। এরকম বিশাল হরিন আমি আগে দেখিই নাই। কেন জানি মনে হচ্ছে হরিন টার সাথে এক্সিডেন্ট করায় আমার জীবন নতুন করে শুরু হলো।”
রাশিক বলে “আমারও এরকম এক্সিডেন্ট দরকার যাতে মনে হয় নতুন কিছু শুরু হলো জীবনে। রিস্টার্ট এর মতো।”
দুইজনেই জানালা দিয়ে বাইরে সূর্য ডুবতে দেখে।
------------
রাশিক পরে আর কোনোদিন বিয়ে করে নাই। এখনো ওর রাতে ঘুম ভাংগে দুঃস্বপ্ন দেখে। সেই বাচ্চা টা এখনো রাশিকের স্বপ্নে এসে জিজ্ঞেস করে “বাবা আমাকে খুন করলে কেন?”

শিহাব দেখে বিশাল এক হরিন ওর গাড়িকে পিছন থেকে আক্রমন করার জন্য ছুটে আসছে।

সোমা নিউ ইয়র্কের রাস্তার ফকির দের মাঝে প্রায়ই সারা গায়ে ব্যান্ডেজ দেওয়া শিহাব কে দেখে।

অতীতের দুঃস্বপ্ন গুলোই আমাদের ভবিষ্যতের পথ দেখায়। এরা কোনোদিন সাথ ছাড়ার নয়…



সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১১:২৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ব্লগার ভাবনা: ব্লগ জমছেনা কেন? এর পেছনে কারণ গুলো কি কি? ব্লগাররা কি ভাবছেন।

লিখেছেন লেখার খাতা, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:৩৫


সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আম পাকা বৈশাখে বৈশাখী শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। কাঠফাটা রোদ্দুরে তপ্ত বাতাস যেমন জনপ্রাণে একটু স্বস্তির সঞ্চার করে, ঠিক তেমনি প্রাণহীন ব্লগ জমে উঠলে অপার আনন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার ২৭ নম্বর সমুদ্রবন্দর থেকে

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:০০

চারটার দিকে বাসায় ফেরার কথা ছিল । তবে বৃষ্টির কারণে ঘন্টা খানেক পরেই রওয়ানা দিতে হল । যদিও তখনও বৃষ্টি বেশ ভালই পড়ছিল । আমি অন্য দিন ব্যাগে করে রেইনকোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধা কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৩:৩২

কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।
সকল যোগ্যতা জিপিএ-্র প্রমান দিয়ে, এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, সেকেন্ডারি।
এরপর ভাইবা দিয়ে ৬ লাখ চাকুরি প্রার্থি থেকে বাছাই হয়ে ১০০ জন প্রাথমিক নির্বাচিত।

ধরুন ১০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭

জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×