somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি....

১৪ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি....

প্রিয় সহব্লগার,
আমার লেখা একটা পোস্টের তথ্য খুজতে অনেক দিন পর আজ আবার লগইন করলাম আমাদের প্রিয় সামুতে। লগইন করার পর প্রথমেই অভ্যাসবশত চোখ গেল প্রথম পাতার দিকে। কেমন যেন লাগলো!

একসময় এই প্রথম পাতাটাই ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব। নতুন নতুন পোস্ট উঠে আসত প্রতি মিনিটে। কেউ গল্প লিখছে, কেউ কবিতা, কেউ রাজনীতি বিশ্লেষণ করছে, কেউ আবার সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ লিখছে। আর মন্তব্যের ঘরে চলত এক অন্যরকম গণতন্ত্র-
যুক্তির লড়াই, তর্কের ঝড়, কখনো রাগ, কখনো হাসি, কখনো আবার বন্ধুত্বের জন্ম।

আহ কী সেই সময়টা!
রাত দুইটা, তিনটা- তবুও সামু ঘুমাত না।
কেউ নতুন কবিতা পোস্ট করেছে, কেউ ভ্রমণকাহিনি, কেউ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। আমরা পাঠকরা মন্তব্য করতে করতে কখন যে রাত ভোর হয়ে যেত- টেরই পেতাম না!

কত নাম, কত নিক, কত মানুষ, কত দেশ-মহাদেশ থেকে লিখেছেন যাদের কোনোদিন চোখে দেখিনি, কিন্তু তারা আমাদের চিন্তার জগতে কতটা কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিল!

কখনো কোনো পোস্ট স্টিকি হয়েছে- আর সেই পোস্ট ঘিরে শতশত মন্তব্যের ঝড় উঠেছে।
কখনো কোনো মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল কমেন্ট যুদ্ধ।
মডারেশন নিয়ে অভিমান হয়েছে, কখনো কেউ ব্যান হয়েছে, আবার নতুন নিক খুলে ফিরে এসেছে।
তারপরও সামু ছিল-
আমাদের সবার জন্য এক জ্ঞান-বিজ্ঞান, কাব্য-সাহিত্য, বিশ্বভ্রমণের বিশাল চারণভূমি।

এই প্ল্যাটফর্মই আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে।
শিখিয়েছে কিভাবে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে হয়।
কিভাবে ভিন্ন মতকে সহ্য করতে হয়।
কিভাবে একটি সমাজের নানা রকম চিন্তা একই জায়গায় জায়গা করে নিতে পারে।

সামু অসংখ্য লেখক তৈরি করেছে।
অনেক সাধারণ ব্লগার এখান থেকেই লেখালেখির আত্মবিশ্বাস পেয়েছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি-লেখকও এই ব্লগে এসে আমাদের সঙ্গে একই পাতায় কীবোর্ডে কথা বলেছেন- এটাই ছিল সামুর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।

কিন্তু এই পথচলা কখনো সহজ ছিল না। একদিকে সাম্প্রদায়িক উগ্রতার আঘাতে আমাদের কয়েকজন সহব্লগারকে হারাতে হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় রোষানলেও পড়েছেন অনেকেই- নির্যাতন, হয়রানি, গুমের শিকার হয়েছেন কেউ কেউ।
তবুও সামু থামেনি।
কারণ সামু শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়-
সামু মুক্ত চিন্তার এক সাহসী মঞ্চ।

আজ যখন প্রথম পাতার দিকে তাকাই, মনে হয়- সময়ের স্রোতে সেই পুরোনো কোলাহল কোথায় হারিয়ে গেছে।
নতুন প্ল্যাটফর্ম এসেছে। মানুষ সেদিকে সরে গেছে।
ফেসবুকের দ্রুত স্ক্রল করা পৃথিবীতে দীর্ঘ লেখা পড়ার ধৈর্য যেন কমে গেছে। তবুও একটা কথা সত্য, বাংলা ভাষার ডিজিটাল ইতিহাস লেখা হলে সেখানে একটি নাম কখনো মুছে যাবে না-
সেখানে একটি নাম সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে-
সামহোয়্যারইন ব্লগ।

আমার বিশ্বাস- বাংলা ভাষার এই ঐতিহাসিক অবদানের জন্য একদিন রাষ্ট্রও সামহোয়্যারইন ব্লগকে যথাযথ সম্মান দেবে। সেই সম্মাননা গ্রহণ করবেন- সামু ব্লগের জনক-জননী। কারণ, “বাঁধ ভাঙার আওয়াজ” শুধু একটি স্লোগান নয়- এটি ছিল এক প্রজন্মের সাহসী উচ্চারণ।

এই প্ল্যাটফর্ম শুধু পোস্ট আর মন্তব্যের সমষ্টি নয়। এটি একটি সময়ের স্মৃতি। একটি প্রজন্মের চিন্তার স্বাধীনতার ইতিহাস।
আমি জানি না ভবিষ্যতে সামুর কী হবে।
হয়তো আবার জেগে উঠবে, হয়তো ধীরে ধীরে ইতিহাস হয়ে যাবে।
কিন্তু আমরা যারা এই প্ল্যাটফর্মের পুরোনো পথিক-
আমাদের স্মৃতির ভেতর সামু সবসময় বেঁচে থাকবে।
হয়তো কোনো একদিন আবার কোনো পুরোনো ব্লগার লগইন করবে,
প্রথম পাতার দিকে তাকাবে,
আর নিঃশব্দে বলবে-
“আহ… সেই দিনগুলো!”

ভালো থাকুন, প্রিয় সহব্লগাররা।
যেখানেই থাকুন, লিখে যান।
কারণ শেষ পর্যন্ত সত্যিটা খুব সহজ-
"বাঁধ ভাঙার আওয়াজ" কখনো পুরোপুরি থেমে যায় না।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫



কথায় বলে না, একটা দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না!
এটা একদম সত্যি কথা। মানুষ আসলে ভুল করবেই! ভুল থেকে মুক্তি নেই মানুষের। আমার জীবনটা কিভাবে ছাড়খার হয়ে গেলো সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংসদে যা ঘটেছে সেটা কি অপ্রত্যাশিত ছিল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৪৯


দুই দিন আগে কুমিল্লার পরিচিত এক মুদি দোকানে সদাই কিনতে গিয়েছিলাম; সেখান থেকে প্রায়ই বাজার করি। হিসাব মেলাচ্ছিলাম, হঠাৎ তিনি উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলেন—"আগামীকাল তো সংসদ! হাসনাত আবদুল্লাহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গ 'চাঁদগাজী' (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২০



আমি কোনো রকম ভনিতা না করে স্পষ্ট জানতে চাই-
ব্লগার 'চাঁদগাজী' কবে থেকে প্রথম পাতায় লেখার সুযোগ পাবেন? তাকে আর কতদিন শাস্তি দিবেন? সরকার পতনের পর কারাগার থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার কালপুরুষ ভাইয়া

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমার কালপুরুষ ভাইয়া। গত ৭ই মার্চ যিনি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। খবরটা আমি জানার পর থেকেই মনটা খারাপ হয়ে আছে। ভাইয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপিপন্থী ব্লগারদের বাকস্বাধীনতা হরনের নমুনা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৪ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৬

বিএনপির মির্জা আব্বাস অসুস্থ হবার পর কিছু বিএনপি সমর্থক এর দায় খুবই ন্যক্কারজনকভাবে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর উপড় চাপাতে চাইছে !! অসুস্থ মির্জা আব্বাসের ছবি দিয়ে এরকম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×