হলের এই রুমটাতে আমরা দশজন থাকি। আগে একরুমে থাকতাম পঁচিশ জন।
কষ্টের সেই দিনগুলো পেছনে ফেলে এসেছি।
আমার বিছানাটা ঠিক জানালার পাশে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে হলের আরেকটা বিল্ডিং,
উপরে এক চিলতে আকাশ।
তারে ঝুলানো একটা লুংগী, আরেকটা রোদে পুড়ে রঙ জ্বলে যাওয়া টি-শার্ট প্রায়ই চোখে পড়ে।
সানসেটে পড়ে থাকা অর্ধ ছেড়া লাল রঙের একটা চিপসের প্যাকেট,
আর কয়েকটা সিগারেট শুন্য প্যাকেটের দিকে মাঝে মাঝে তাকিয়ে থাকি।
কেন জানি এই জড় বস্তু গুলোর উপর মায়া পড়ে গেছে।
শীতে জানালা দিয়ে হু হু বাতাস এসে হাড় কাঁপিয়ে দেয়।
আর বৃষ্টির দিনে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ে। তারপরও জানালাটা আমার ভিষন প্রিয়।
সকাল থেকে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। আমি কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছি।
বৃষ্টির পানি ছিটে এসে কাঁথা প্রায় ভিজিয়ে দিয়েছে।
তবু বিছনা থেকে উঠে জানালা বন্ধ করতে ইচ্ছা করছে না।
শরীরের সব ইন্দ্রিয় গুলো জানান দিচ্ছে - তোমার ভিষন জ্বর ।
প্রতিটা খারাপ জিনিসেরও একটা ভালো দিক আছে। শরীল খারাপ থাকারও ভালো দিক আছে।
খুব সহজে ফেলে আসা দিনে টাইম মেশিনে করে ঘুরে আসা যায়।
জ্বর হলে কলাপাতায় মাথা রেখে কেউ পানি ঢেলে দেয় না।
বালতিতে পানি পড়ার কলকল শব্দ শোনা হয় না।
স্কুলে যাওয়ার সময়, এলোমেলো চুল গুলো এখন আর কেউ জোর করে বাম দিকে সিতি করে দেয় না।
জানো মা, সকালে উঠে এলোমেলো চুল নিয়ে এখন ক্লাসে যাই। চুল আঁচড়ানো আর হয়ে ওঠে না।
আমি মাছের কাঁটা বাছতে পারতাম না দেখে, মাছটা প্লেটের পাশেই পড়ে থাকতো।
তুমি এসে মাছ বেছে দিতে। তুমি কি জানো, হলের ক্যান্টিনের রোগা মাছের কাঁটাগুলো
এখন আমি চিবিয়ে খেতে পারি!
জানো মা, মাঝে মাঝে মনে হয় মিথ্যে কথার এই শহর ছেড়ে পালিয়ে যাই।
তোমার আঁচলের তলে ছুটে আসতে বড্ড ইচ্ছে করে।
https://www.facebook.com/dhrubo.fahim
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




