somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লেগুনা হতে সাবধান‬!

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টিউশন শেষে বাসায় ফিরছি। রিক্সা থেকে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে ভাড়া মিটিয়ে বাসের অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছি। গন্তব্য শেওড়াপাড়া থেকে তালতলা। বাসে ৩ মিনিটের পথ।

সামনে একটা লেগুনা দাঁড়ানো। আমি সাধারণত লেগুনাতে উঠি না। দম বন্ধ হয়ে আসে। বাসের জন্য আর অপেক্ষা না করে লেগুনাতে উঠে পড়লাম।

লেগুনার দুই সারি সিটের এক পাশে ৪ জন ছেলে, আর এক পাশে ৩ জন মেয়ে। মেয়েদের
সারিতে বসার প্রশ্ন আসে না। ছেলেদের সারিতে বসতে যাব, দুই জন দরজার দিকে চেপে আসলো। আমি তিনজনের মাঝে বসে পড়লাম।

তালতলায় এসে লেগুনা হালকা ব্রেক করলো। পাশের দুইজন আমার গায়ে হুড়মুড়িয়ে পড়লো। এতো হালকা ব্রেকে গায়ে এসে পড়ার কথা না। ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখলাম, খুব হেঙলা পাতলা। অন্ধকারে মুখ দেখতে পারছিলাম না।
কিছু মনে না করে লেগুনা থেকে নেমে পড়লাম। বাস অথবা রিক্সা থেকে নামার পর, পকেট হাতড়ে দেখা আমার বহু দিনের অভ্যাস। পকেটে হাত দিয়ে দেখি আমার মোবাইলটা নেই।

লেগুনাটা দাড়িয়ে ছিল। চলতে শুরু করবে এমন সময় লেগুনা থামালাম। বললাম আমার মোবাইল পড়েছে। এমন সময় দেখি পাশে বসে থাকা লোক তিনটা নেমে যাচ্ছে।
সামনে বসে থাকা এক আপু বললো, "ভাইয়া আপনার মোবাইলটা ওরা নিয়েছে। আমি মোবাইল হাত বদলাতে দেখেছি।
ততোক্ষণে আমার হিতাহিত জ্ঞান শুন্যে চলে গেছে। এর মধ্যে আমি খপ করে একজনের হাত ধরে ফেলেছি। আরেকজনের কলার ধরলেও ততোক্ষণে ছুটিয়ে নিয়েছে।

আমি বললাম, মোবাইল বাইর কর। আমি এই এলাকার ছেলে কাপড় নিয়ে বাড়ি ফেরত যেতে পারবি না। ছেলে দুটো অস্বীকার করেই যাচ্ছে। অনেক মানুষ জড় হয়ে গ্যাছে।

আমি হঠাৎ আবিষ্কার করলাম আমি ছেলেটাকে ঘুষি দিতে শুরু করেছি। সাথের মানুষ গুলোও চড় থাপ্পড় দিতে শুরু করেছে।
ছেলেটার শার্ট ছিড়ে একাকার অবস্থা। পাশেই ময়লার স্তুপ। ছেলেটা বললো, "ভাই ওই ময়লার মধ্যে ফেলছি।"
আমি গালি দিয়ে বললাম, "খা*কির পোলা কই ফেলছিস, খুঁইজা বাইর কর।"

অবশেষে আমার মোবাইল পাওয়া গেল। ব্যাক কভার কোথায় জানি উড়ে গেছে। স্ক্রিনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া একজন ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে। তিন জনকে অর্ধ নগ্ন করে রাস্তায় বসানো হলো। এদের পকেটে ২ টা সোনার চেন, একটা এ্যান্ড্রয়েড ফোন পাওয়া গেছে। পাশেই সরকারি দলের কার্যালয়। তারা পুলিশে খবর দিলো।

আমি বাসার অভিমুখে যাত্রা শুরু করলাম। হাতে ব্যাথা নিয়ে বাসায় ফিরেছি।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২০
১৫টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×