somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহ্‌রুখের লাইভ কনসার্ট এবং জমিদারদের বাগানবাড়ি প্রসঙ্গ

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগেকার দিনে জমিদাররা তাদের বাগানবাড়িতে কিছু মেয়েমানুষ নিয়ে এসে ফুর্তি করে থাকত।সেইসব জমিদার এখন আর নেই,তাদের ভূমিকা হাতবদল হতে হতে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির হাতে এসে পড়েছে।এরই সাথে তাদের বাগানবাড়ির ভূমিকাও বদলে গেছে।সে সব বাগানবাড়ি এখন কনসার্ট নামে পরিচিতি পেয়েছে।কিছু মানুষ টাকা বিনিয়োগ করে কিছু গায়ক-গায়িকা,নায়ক-নায়িকা,নৃ্ত্যশিল্পী ধরে নিয়ে আসে।ভাড়া করে আনা এসব মানুষগুলো কিছুক্ষণ নেচে বা গেয়ে ঐসব বিনিয়োগকারীগুলোকে আনন্দ প্রদান করে থাকে।আর তারা তাদের আনন্দ বিভিন্নভাবে প্রকাশ করে।

আগেকার দিনেও সেসব বাগানবাড়িতে এমনটা হত।একজন মেয়ে নাচত আর কিছু লোক বাদ্যবাজনা বাজিয়ে জমিদারদের আনন্দ প্রদান করত।জমিদাররা কিছু টাকা তাদের দিকে ছুঁড়ে মারত এবং নানা অঙ্গভঙ্গি করে আনন্দ প্রকাশ করত।

সুতরাং দেখা যায়,বাগানবাড়ির ভূমিকা তেমন একটা বদলায়নি।

আজকে শাহ্‌রুখের কনসার্ট দেখে এসব কথা মনে হচ্ছিল।এগুলো মনে হবার সাথে সাথে সেটা দেখার রুচি নষ্ট হয়ে যায়।তবুও দেখি,কারণ বাসার প্রায় সবাই অনুষ্ঠানটা দেখছিল।

ছোটবেলায় রাণী মুখার্জীর করা একটা ইন্ডিয়ান বাংলা মুভি দেখেছিলাম 'বিয়ের ফুল' নামে।তখন খুব ভালো লেগেছিল।সাথে মুখার্জীকেও ভালো লেগেছিল।সে ভালো লাগা অনেকদিন টিকেছিল,তবে পরে নষ্ট হয়ে যায়।আজকে তার নাচ আর গেটআপ দেখে সে ভালো লাগা পুরোপুরি ভ্যানিশ হয়ে গেছে।খুবই বিরক্তি লেগেছে তার নর্তন-কুর্দন দেখে।মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের মানুষ এক নায়িকাকে ধরে এনেছে ঐ বাগানবাড়ির মেয়েগুলোর মত আনন্দ প্রদানের জন্য।সে উপরি হিসেবে বাংলায় কিছু কথা বলল।যা বাংলার মানুষ শুনে তৃপ্ত হয়েছে।

শাহ্‌রুখের বেলায়ও একই কথা।সে এসে কিছুক্ষণ নাচল,এরপর কিছু বিটলামিপূর্ণ কাজ করে বাংলার মানুষকে আনন্দ প্রদান করল।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বিরক্তিকর পর্ব হচ্ছে শাহ্‌রুখের সাথে দুইজন প্রেমিক-প্রেমিকা অথবা স্বামী-স্ত্রীর অংশটা।আমি একবার পেপারে পড়েছি শাহ্‌রুখকে এক থেকে দেড় লক্ষ রুপি দিলে সে যেকোন অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচানাচি করে থাকে।সে গেষ্টদের সামনে অনুষ্ঠানের মূল ব্যক্তিদের সাথে এমন ভাব করে থাকে যেন তারা তার কতদিনের পরিচিত!গেষ্টরাও তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়।

আজকে ঐ দুই ব্যক্তির সাথে শাহ্‌রুখ যা করল তা দেখে আমার সে কথাগুলো মনে পড়ে গেল।আমার এখন মনে হচ্ছে তারা দুইজন শাহ্‌রুখ খানকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছে।একারণে সে তাদের দুইজনের সাথে এতকিছু করল।

এরপর বাংলাদেশের কিছু কুলাঙ্গারকে দেখা গেল যারা শাহ্‌রুখ বা হিন্দী বলতে পাগল।তারা এসে শাহ্‌রুখের সাথে কিছু ফালতু বকর বকর করল,শাহ্‌রুখ কিছু ভাঁড়ামী করল আর আমি বিরক্ত হলাম।

শাহ্‌রুখ আসার আগে 'সুরেশ' (নামটা আমি ভালো করে জানি না) নামের এক গায়ক এসে লাফালাফি করে নিজের শরীর গরম করল।তার লাফালাফি দেখে মনে হচ্ছিল তার গায়ে বিছুটি পাতা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।কিভাবে যে এসব মানুষ এত লাফাতে পারে!তাকে সে অবস্থায় যদি কেউ হঠাৎ দেখে,তাহলে নির্ঘাৎ কনফিউজড হয়ে যেত।সে তখন ভাবত,"এই আজব প্রাণীটা কি গাইছে নাকি লাফাচ্ছে?"

অনুষ্ঠান এখনও মনে হয় চলছে।কিন্তু আর দেখার ইচ্ছে নেই, যা দেখা দেখে ফেলেছি।

অনুষ্ঠানটা বা কনসার্টটা তেমন ভালো হয়নি।বৈশাখী চ্যানেলের প্রচারে অনভিজ্ঞতা,দেবাশীষ বিশ্বাসের ভেতরকার উত্তেজনা তথা উপস্থাপনায় ত্রূটি,শাহ্‌রুখের পাগলামী,কিছু পাগলের ফালতু কথাবার্তা-সব দেখে আমার কাছে কনসার্টটা যথেষ্ট বাজে লেগেছে।


জানি না,শাহ্‌রুখকে এনে বাংলাদেশের মানুষ কি পেল।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমিও পারি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬



জ্ঞানী মানুষ পড়ালেখা করে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউবা পড়ালেখা করে একটি ভালো জবের জন্যে, কেউবা জ্ঞান আহরণের জন্যে, আবার কেউবা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যে। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরার ট্রেন

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২


ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×