প্রথম রাইতে শুইয়া টের পাইলাম বালিশ সেইরকম নরম । পালকের বানানো । মাথা রাখতেই মাথা বিছানার সাথে লাইগা যায় এমুন অবস্থা । জার্মান জাতটারে গাইল দিতে দিতে ঘুমাই । শালারা সারাজীবন গাড়িই বানাইলি । কার্পাস তুলার বালিশে ঘুমানোর আরাম বুঝলিনা ।
আধাখেচড়া ঘুমের পর সকালে হালকা হওনের লাইগা গেছি টয়লেটে । কাজ কর্ম শেষ কইরা পাশে তাকায়া দেখি অতি প্রয়োজনীয় জিনিস 'বদনা' অনুপস্থিত । মেজাজ পুরা বিলা । টয়লেট থিকা বের হইয়া সোজা বাথরুমে ঢুইকা গোসল । সপ্তাহ দুই এভাবে কাটানোর পর এক পাকি বুদ্ধি দিলো বোতল ব্যবহার করতে । কাজ শেষে বোতল কমোডের চিপায় রাইখা দিলেই হবে । দেড় টাকা দিয়া একটা ড্রিংকস কিনা সেইটা ব্যবহার শুরু করলাম । কয়েকদিন পর দেখি পাশের নেইবার জিগায় আমি টয়লেটে ড্রিংকস করি কেন । আমি কিছুক্ষণ বোঝানোর পর দেখি আমার দিকে ফাকা চোখে তাকায় আছে ব্যাটা ।
পাকি বন্ধুর সাথে এই নিয়া আলাপ আলোচনা চালাইতে গিয়া আরেক দু:সংবাদ শুনলাম । ওগো এক গ্রুপ বন্ধু গেছে পড়তে ফ্রান্সে । সবাই এক ডর্মে উঠছে । দুই সপ্তার মধ্যে ডিসিপ্লিনারি কমপ্লেইন গেছে ওগো নামে । ক্যান ? কারন তারা নাকি সব টয়লেটে এ্যালকোহল খায়, খাইয়া ক্যানগুলো সেখানেই ফেলে আসে । আরও খারাপ ব্যাপার তারা প্রতিদিন পার্টি করে ! একটু গবেষণায় মূল ব্যাপার বের হলো । ঘটনা হইলো অরা পুরান বোতলের বদলে বিয়ারের ক্যান দিয়া কাম সারতো । আর প্রতিদিন একত্র হইয়া আড্ডা পিটাইতো কিছুক্ষন ।
কান ধইরা এ্যাপার্টমেন্টে ফিরা বোতল রুমে নিয়া আসলাম । না জানি আবার কমপ্লেইন খাওন লাগে । বিদেশ । কাউরে চিনি না । পুরা পানিতে পইড়া যামু গা । অগত্যা আরেকটা বোতল কিনা সেইটা রুমে রাখা শুরু করলাম । যখন দরকার নিয়া বেরই ।
অতএব ভাইসকল, বদনা আর বালিশ সামলাইয়া । হালকা হওন আর ঘুমানোর থিকা আরামের কম জিনিস আছে পৃথিবীতে । বিদেশে বাইর হইলে এইগুলা খিয়াল কইরা ।
পরের পর্ব কামিং ছুন ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




