somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাসনব্যবস্থা নিয়ে

২০ শে জুলাই, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি গত কয়েক দিন যাবত লক্ষ্য করছি ব্লগে শাসনব্যবস্থা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। কিছু লোকে ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থার পক্ষে আর কিছু লোকে ইসলামি শাসনব্যবস্থার পক্ষে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্লগ থেকে পড়ে ইসলামি শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের যা দাবি জানতে পারলাম, তা আরেকটি ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যাবস্থা থেকে কোনোভাবেই আলাদা নয়। এবং তা বর্তমানে তথাকথিত ইসলামিক দেশগুলোর শাসনব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ আলদা।

আমি তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসা করে বেড়ালাম যে তাহলে বর্তমান শাসনব্যবস্থা তাহলে ইসলামি শাসনব্যাবস্থা নয় কেন? বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই মুসলিম এবং তাদের মতামত নিয়েই সরকার চলে। বাংলাদেশে যদি মানুষ ইসলামি শাসনব্যাবস্থা চায় তা যেকোনো ভোটেই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আবার যদি ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যাবস্থা চায়, তাও প্রবর্তিত হতে পারে। অসুবিধা টা কোথায়?

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এমনই এক শাসনব্যাবস্থা, যাতে জনগণ ইচ্ছা করলে দেশকে যেকোনো দিকে নিয়ে যেতে পারে। সকলে হয়ত জানেন না, হিটলারও একজন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দেশের প্রতিনিধি ছিলেন, রেফারেন্ডামে জিতেই তিনি জার্মানীর শীর্ষপদ দখল করেছিলেন। আর হিটলার জার্মানীর ভাল করেননি বলে কিন্তু জার্মানরা গণতন্ত্র থেকে সরে যায় নি, বরং গণতন্ত্র দিয়েই আবার জার্মানীর সুদিন ফিরিয়ে এনেছে।

এখন প্রশ্ন হল যে যদি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাহলে ধরা যাক ধর্মগ্রন্থের ভিত্তিতে দেশের আইনকানুন ঢেলে সাজানোর কথা উঠল। সেক্ষেত্রে ধর্মগ্রন্থের প্রতিটি অংশের অসংখ্য ব্যাখ্যার মধ্যে কোন ব্যাখ্যাটি স্বীকৃত হবে সেটা কে নির্ণয় করবে? যদি মানুষ ভোটের মাধ্যমে সেটা নির্ধারণ করে তাহলে সেটা আবার আরেকটা গণতন্ত্রই হবে। আর যদি কিছু মৌলবী মিলে সেটা ঠিক করে তাহলে সেটা মৌলবিদের শাসনতন্ত্র হবে। প্রথম ব্যবস্থাই কি ভাল নয়?

এরপরেও থাকে ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থার আরো কয়েকটি দিক। পশ্চিমাবিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থায় সমকামিতা গ্রাহ্য হওয়ায় এবং অনেক দেশে হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে দেখে অনেকেই মনে করছেন এগুলো বুঝি ধর্মনিরপেক্ষতার অঙ্গ। বাস্তবে তার সম্পূর্ণ বিপরীত। ইন্দোনেশিয়া বা ভারতেও সমকামিতা বৈধ নয়, যদিও এদের শাসনব্যবস্থা ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা হয়। কেন নয়? উত্তর খুবই সাধারণ, দেশগুলো গণতান্ত্রিক এবং এদের মানুষেরা চান না দেশে সমকামিতা বৈধ হোক।

বাংলাদেশে (বা ভারতেও) মূল সমস্যা রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতি নিয়ে। এ বিষয়ে আমার প্রশ্ন হল বাংলাদেশের সাধারণ সমাজ কি দুর্নীতিমুক্ত? রাজনৈতিক নেতারা তো ভুঁইফোঁড় নয়, তারাও সমাজেরই অংশ। সমাজ যদি সত্যি দুর্নীতিমুক্ত হত তাহলে রাজনৈতিক নেতারাও দুর্নীতি করতে সাহস পেতেন না। সমাজে শিক্ষার হার না বাড়লে দুর্নীতিও কমবে না। আগেই বলেছি গণতন্ত্রে দেশের মানুষও যেমন চালাবে, দেশও তেমনই চলবে।

বাংলাদেশে (বা ভারতেও) সমাধান হওয়া সম্ভব গণতন্ত্র সংষ্কারের মাধ্যমে। জনগণ সত্যি যাদের চান না, বাধ্য হয়ে ভোট দিচ্ছেন তাদের সরিয়ে দিতে হবে। এখানেই আবার প্রশ্ন চলে আসে, কে সরাবে? ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন।

তাই শিক্ষিত মানুষের দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম থাকলে দেশ ইসলামি কি ধর্মনিরপেক্ষ তার ওপর সত্যি কি কিছু নির্ভর করে?
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×