বিকেল চারটা, মিরপুর ১০ নম্বর মোড়ে রিক্সায় করে বাসায় ফিরছে নাইমুল। আজকে বিকেলে কোন ক্লাস ছিলনা তাই একটু আগেই ফিরছে ঘরে। রাস্তার জ্যাম এই সময়টাতে কম থাকে বলে রিক্সা চলছেও দ্রুত। মোটামুটি শান্ত পরিবেশ, এমন সময় বিকট ধাতব আওয়াজে চমকে উঠলো নাইমুল। তার রিক্সা থেকে কিছুটা সামনে রাস্তার অন্যপাশে দুটো গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো শব্দ হলো, কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে সেখানে কোন গাড়ির চিহ্ন দেখলো না সে।
ভাবলো হ্য়তো তারই বুঝতে ভুল হয়েছে কোথাও। কিন্তু আশে পাশের লোকজন এরই মধ্যে জড়ো হতে শুরু করেছে, তাতেই সে নিশ্চিত যে শব্দটা সে একাই শোনেনি। রিক্সাওয়ালা সামনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দাড়ালো। নাইমুল নেমে গিয়ে দুএকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলো যে আসলেই সেখানে দুটো গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু এখন সেখানে গাড়ি দুটো, বা তাদের আরোহীদের কোন চিহ্নমাত্র নেই।
ভোজবাজির মতই যে তারা কোথায় অদৃশ্য হল, সেটা কেউই বুঝতে পারছে না। নাইমুল চারপাশটায় একটু খেয়াল করে কয়েকটা বিষয় লক্ষ্য করলো- এক, সংঘর্ষের স্থানে একটা বিস্ফোরনের মতো গর্ত তৈরি হয়েছে, আর দুই রাস্তার আশেপাশের কোন বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে না। বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাতীত এরকম একটা ঘটনা তার সামনেই ঘটতে দেখে নাইমুলও কিছুটা অলৌকিক অাশংকায় শংকিত হয়ে উঠলো।
ভাবতে ভাবতেই সে বিস্ফোরনের গর্তটায় পা রাখতেই ঘটলো এক অপার্থিব ঘটনা। মূহুর্তের মধ্যেই সে নিজেও হারিয়ে গেল অন্য এক সমান্তরাল জগতে। গাড়ি দুটোর প্রচন্ড সংঘর্ষে যে টাইম পোর্টাল উন্মুক্ত হয়েছিল, নাইমুল আর তার আগে গাড়িদুটোর স্থানান্তরের ফলে সেই টাইম পোর্টালের শক্তির অবক্ষয় ঘটলো এবং নিমিষেই তা আবার শূন্যে মিলিয়ে গেল। নাইমুল আর গাড়ি দুটো কোন সমান্তরাল জগতে হারিয়ে গেল কেউ জানে না। পরে রইল কেবল মিরপুর ১০ নম্বরের কিছু উত্তরহীন প্রশ্ন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



