somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফোটোগ্রাফির ইতিহাস ও রবীন্দ্রনাথের রঙ্গীন ছবি ।। দীপক রায়

০৪ ঠা জুলাই, ২০১২ সকাল ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরা সাধারনতঃ রবীন্দ্রনাথের সাদাকালো ছবি দেখতেই অভ্যস্থ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের যে কিছু রঙ্গীন ফোটোগ্রাফ আছে, সে বিষয়ে আমরা বেশীরভাগ মানুষই অবগত নই। কোন পত্রপত্রিকাতেও রবীন্দ্রনাথের কোন রঙ্গীন ছবি এখনো দেখা যায় না। বিশ্বভারতীর প্রকাশিত কোন বইপত্রে এখনো কোন রঙ্গীন ছবির দেখা পাওয়া যায়নি। যেটুকু দেখা যায়, সেগুলি সবটাই পরবর্তীকালে হাতে আকা বা তৈরী করা। কয়েকমাস আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি রঙ্গীন ছবি দেখেছিলাম একটি বিদেশী ওয়েবসাইটে। কৌতুহলবশতঃ খোঁজখবর করতেই ওয়েবসাইট ঘেঁটে পেয়ে গেলাম বেশ নতুন কিছু তথ্য। সেগুলি তুলে ধরলাম পাঠকদের জন্য।
বিগত শতাব্দীর প্রথমার্ধে ফোটোগ্রাফ বা ছবি তোলার ব্যাপারটাই ছিল রীতিমত ব্যয়বহুল। আর সেটা শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই। ফলে সেটা ছিল কেবলমাত্র বিত্তজনেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ১৮২০ সাল থেকে একটানা প্রচেষ্টা চালানোর পরে ফ্রান্সের যোশেফ নিপসি ১৮২৫ সালে প্রথম একটি প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবিটি তুলতে সময় লেগেছিল প্রায় ৮ ঘন্টা। তারপরে অনেক গবেষনার ভিতর দিয়ে ছবি তোলার ক্যামেরা বানিজ্যিকভাবে বাজারে এসেছিল ১৮৮৮ সালে। এর ঠিক পরেপরেই চলমান ছবি বা চলচ্চিত্র ধারনের ক্যামেরাও বাজারে এসেছিল। তবে তখনো পর্যন্ত সবটাই ছিল সাদাকালো ছবি তোলার পদ্ধতি। অপরদিকে ছবি তোলা নিয়ে গবেষনা দেশে দেশে চলছিলই। ক্যামেরা বাজারে আসার অনেক আগে ১৮৬১ সালে বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল ঙ্গীন ছবি তোলার পদ্ধতি আবিস্কার করলেও রঙ্গীন ছবি তোলার ক্যামেরা বাজারে এসেছিল বিগত শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৭ সালে। কিন্তু সেইসব ক্যামেরা আমাদের পিছিয়ে পড়া এইসব দেশে এসেছিল আরো অনেক পরে। সেইসময় সাদাকালো ছবি তোলাটাই যেখানে ছিল স্বপ্ন, সেখানে রঙ্গীন ছবির কথা ভাবা আমাদের এইসব দেশে ছিল নেহাতই কষ্টকল্পনা।
তবুও কিছু মানুষ সারা পৃথিবীতেই থাকেন, যারা ইতিহাস সৃষ্টি করে যান। ফ্রান্সের আর্লবার্ট কান ছিলেন এমনই একজন মানুষ। ১৯০৯ সাল থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত ‘আর্কাইভস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে একটি প্রকল্প তিনি শুরু করেছিলেন, প্রচুর অর্থ ব্যয় করে তিনি সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ধরনের ছবি তুলে সেগুলি সংরক্ষন করার কাজ শুরু করেছিলেন। নিজের বাড়ি, বাগান ও ষ্টুডিওতে ধারনকৃত সেইসব ছবি আজও অমূল্য সম্পদ। সেই প্রকল্পের অঙ্গ হিসাবে ১৯২১ ও ১৯৩০ সালে দুই দফায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ফ্রান্সে আমন্ত্রন করে নিয়ে গিয়েছিলেন আর্লবার্ট কান। সেখানেই তোলা হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাদাকালো, রঙ্গীন কিছু ছবি। তোলা হয়েছিল নির্বাক কিছু সাদাকালো চলচ্চিত্রও। আর্লবার্ট কানের বাগানে তোলা সেইসব ছবি আমাদের কাছে একেবারেই অপরিচিত, অচেনা, অজানা। ১৯২১ সালে তোলা আর্লবার্ট কানের গোলাপী-সাদা ফুল আর সবুজ পাতার বাগানে তোলা আমাদের চিরচেনা পোশাকের রবীন্দ্রনাথকে দেখলে সত্যিই অবাক হতে হয়। আর একটি ছবিতে রবীন্দ্রনাথের সাথে আছেন, পরিবারের দুইজন মহিলা। সম্ভবতঃ সপরিবারেই ফ্রান্সে গিয়েছিলেন তিনি। এইসব ছবি আর্লবার্ট কানের মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। কিছু প্রকাশ করা হয়েছে তাদের ওয়েবসাইটেও। কিন্তু যেহেতু ওয়েবসাইটটি ফরাসী ভাষায়, সেহেতু সেগুলি আমাদের দৃষ্টির অগোচরেই রয়ে গিয়েছে।
আর আর্লবার্ট কানের উদ্যোগে তোলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্বাক চলচ্চিত্রটির ইতিহাস আরো আকর্ষনীয়। মোট ৪ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের নির্বাক চলচ্চিত্রটি ১৯২১ আর ১৯৩০ সালে দুই বারে তুলে পরে একত্রিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৯ বছরের ব্যবধানে দুই দফায় তোলা চিত্রগ্রাহকও ছিলেন পৃথক দুইজন। ক্যামেলি সাউভাগেত ও রজার দুমেজ নামক দুইজন ফ্রান্সের বিখ্যাত ফোটোগ্রাফারকে দিয়ে এই নির্বাক চলচ্চিত্রটি ধারন করা হয়েছিল। প্রায় শতবর্ষ আগের তোলা সেইসব রঙ্গীন ছবি, নির্বাক চলচ্চিত্রগুলি অমূল্য সম্পদ। সেগুলি আসা উচিত প্রকাশ্যে, রবীন্দ্রপ্রেমীদের জন্য, সাধারন মানুষের জন্য। প্রচারমধ্যমের মাধ্যমে সেইসব ছবি ছড়িয়ে পড়ুক সবার ঘরে ঘরে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×