somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের দূর্নীতি ও কারাবাস -দীপক রায়

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


** আমাদের দেশ ভারতে একজন ব্যক্তিনির্ভর যতগুলি রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অলিন্দে দাপট দেখিয়েছে, তার মধ্যে একটি অবশ্যই তামিলনাড়ুর জয়ললিতার দল। এই দলের তিনিই শেষ কথা। নীতি, মতাদর্শ সবটাই তিনি। বারে বারে তিনি অসফল যেমন হয়েছেন, সফলও হয়েছেন। ক্ষমতার আসনে যেতে বাম-ডান-সাম্প্রদায়িক শক্তি সবার সাথেই হাত মিলিয়েছেন বারে বারে। কারন একটাই, তিনিই শেষ কথা। তিনি আম্মা। তার কথাই শেষ কথা। তিনি যা চাইবেন, সেটাই চুড়ান্ত। কারন, তিনি সর্বশক্তিমান। হাজারো দূর্নীতির আষ্টেপিষ্টে জড়িয়েও ধরে রেখেছেন ক্ষমতাকে। আদালত দোষী ঘোষনা করেছিল আগেই, তবুও সামান্য কিছুকাল ছাড়া আমৃত্যু জেলের বাইরেই থাকলেন জয়ললিতা। দূর্নীতির বিচার হল, তবে তার মৃত্যুর পরে।
** স্বাভাবিক ভাবেই জয়ললিতার মৃত্যুর পরে উত্তরসূরি নিয়ে গোল বাধাটা ছিল সময়ের অপেক্ষা। কে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন? তাই নিয়ে শশিকলা নটরাজন বনাম পনিরসেলভমের মধ্যে তীব্র লড়াই৷নানা নাটকীয় পরিস্থিতির উদ্ভব৷ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শশিকলার মুখ্যমন্ত্রিত্বের স্বপ্ন তো বটেই, তাঁর রাজনৈতিক ভাগ্যও এখন বিশ বাঁও জলে৷ দুর্নীতি মামলায় তাঁর চার বছরের জেল এবং ১০ কোটি টাকা জরিমানা হল৷ আইন অনুসারে তিনি ১০ বছর ভোটেও দাঁড়াতে পারবেন না৷ রায় শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি৷ আত্মসমর্পণের জন্য সময় চেয়েছিলেন শশিকলা, কিন্তু আদালত তা মঞ্জুর করেননি৷
** দুই দশক আগের দূর্নীতির ঘটনায় আগেই নিম্ন আদালতে জয়ললিতা, শশিকলা এবং অন্য তাদের দল ও পরিবারের আরও কয়েকজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল৷ কিন্তু আইনী মারপ্যাঁচে প্রভাব খাটিয়ে তাঁরা বেকসুর খালাস পেয়ে যান৷ মামলা যায় সর্বোচ্চ আদালতে৷ কোটি কোটি টাকার হিসেব বহির্ভূত আয় মামলার রায়ে শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেছেন, ‘‘রাজনীতিকদের অর্থলিপ্সার এ এক জঘন্য দৃষ্টান্ত৷ জয়ললিতাও সমান দোষী৷ কিন্তু তিনি প্রয়াত, কাজেই তিনি ধরা ছোঁয়ার বাইরে৷'' এই রায় ভারতের বিচারব্যবস্থার হাজারো ত্রুটির মধ্যেও কিছুটা আলো দেখায়।
** ভারতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীদের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় শাস্তির ঘটনা নতুন নয়৷ ব্যক্তিকেন্দ্রিক আরেকটি দলের নেতা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবকে পশু খাদ্য কেলেঙ্কারিতে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছর জেল ও আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হয়। এই মামলাতেও ফয়সালা হতে লেগে গিয়েছিল দুই দশক।
** ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলের আরেক নেতা হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌ্তালা শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তিন বছর জেল খেটেছিলেন৷ মামলায় প্রমানিত হয়েছিল, কিভাবে দলীয় লোকজনকে টাকা ঘুষ নিয়ে শিক্ষকের চাকরি দিয়েছিলেন। এই ঘটনায় অনেক শিক্ষক ও সরকারী আধিকারিকও ক্ষতিগ্রস্থ ও শাস্তির মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও আদালতের দীর্ঘসুত্রিতায় কেটে গিয়েছিল অনেকগুলি বছর।
** মনমোহন সিং সরকারের আমলে টুজি স্পেকট্রাম, কয়লার ব্লক বন্টন কেলেঙ্কারিতে এমন ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলের অনেক মন্ত্রীকে জেলে যেতে হয়েছিল। পরে তারা জামিনে ছাড়া পেলেও, এখনো মামলা চলছে। আশা করাই যায়, এই মামলাগুলিতেও সুবিচার হবে, দোষীরা শাস্তি পাবে।
** একই দলের অগুন্তি নেতা, বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী দূর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ও জেল বাস করে দেশে রেকর্ড গড়েছে আরেকটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল। সেটা পশ্চিমবঙ্গের তৃনমূল কংগ্রেস। সারদা, রোজভ্যালী থেকে নারদা ঘুষ বা শিক্ষক নিয়োগ। আদালতে মামলার পাহাড়। শাসনকালের পুরোটা সময়েই দলের এত নেতামন্ত্রী জেলে গিয়েছেন, তাদের সকলের নাম মনে রাখাও মুশকিল। এবং তারা সকলেই ওজনদার নেতা। কখনোই জেলে দলের কোন ওজনদার নেতা নেই এমন ঘটনা এখনো ঘটেনি। এই মামলাগুলিতেও একদিন না একদিন সুবিচার হবেই। দেশের বিচার ব্যবস্থার ঘটনা পরম্পরা সেটাই ইঙ্গিত করে।
** আমি এমন কথা বলছি না যে, মতাদর্শ ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কেউ দূর্নীতি করেননি। অবশ্যই করেছেন এবং জেলেও গিয়েছেন বা রাজনীতি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এই ব্যপারে কংগ্রেস দলের ঘটেছে সব থেকে বেশি। কিন্তু বিকল্প নেতা এসে হাল ধরেছেন। বিজেপি'র খোদ জাতীয় সভাপতি বংগারু লক্ষ্মন ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পড়ে পদ খুইয়েছিলেন।
** হ্যাঁ, এখনো অবধি ভারতে একমাত্র কমিউনিস্ট পার্টি এইসব ঘটনায় কলঙ্কিত হয়নি। তিনটি রাজ্যে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে, বা পার্লামেন্টর দু কক্ষে শতাধিক সাংসদ থাকলেও বড় কোন কেলেঙ্কারিতে জড়াতে হয়নি বা জেলে যেতে হয়নি কমিউনিস্ট পার্টির কোন বড় নেতা বা মন্ত্রীকে। এখনো অবধি ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে কমিউনিস্ট পার্টির এটা একটা বড় সাফল্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×