somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেম বিষয়ক

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রেম কি আসে? নাকি প্রেম করতে হয়? নাকি প্রেম হয়ে যায়?
এর পরের প্রশ্ন প্রেম করার, প্রেম হওয়ার বা প্রেম আসার বয়স মাপকাঠি ঠিক কি? অর্থাৎ যারা ম্যাচিওর পঁচিশ তিরিশ বছরের পরে বা নিজের পায়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে যাদের প্রেম আসে বা হয় তাদের বেলায় এক রকম। আবার যাদের বয়স তার নীচে তাদের প্রেম আসা বা হওয়া কতটা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে সামাজিকতা বহন করে?
এর পরে প্রেমের আসা, প্রেমে পড়া বা প্রেম করা কি সত্যিই আকস্মিক? ওই যেমন সিনেমায় দেখায় ও এলেই গরমেও মধুর বাতাস বয়, ভিড় বাসে মনে হয় আকাশে উড়ছি, রাতে পছন্দের খাবার না পেলেও অমৃত মনে হয় - এ সব কি সত্যিই হয়? ব্যক্তিওগত অভিজ্ঞতা অন্য কথা বলে।
কি কথা? এসব আদ্য প্রান্ত সত্যিই মনে হয় তখন সেক্সচুয়েল টান অবধারিত হয়ে যায়। অর্থাৎ স্পর্শ সাপেক্ষ দুই দেহের সংযোগ। অল্প সংযোগ পূর্ণ মিলনের অদম্য আগ্রহে উপরের সমস্ত অবস্থানের জন্য ছটপট করে। তার ফলে বয়স পঁচিশের নিচে যে সব অবধারিত অবস্থান প্রয়োজন তা আর সম্পন্ন হয়ে ওঠে না। যেমন ক্যারিয়ার তৈরির জন্য পড়াশুনা, নিজের মেধার শ্রীবৃদ্ধি ঘটানোর প্রয়াস সবই জলাঞ্জলি যায়। মনের মধ্যে সেই সব অনাগত আদিম গুঞ্জরিত হতে থাকে।
এর উপর আছে টিন এজ সমস্যা। যৌবন প্রারম্ভে হরমোন্যাল মানসিকতা উদ্দাম ছোটাছুটি করে। তার পুরোটাই কিন্তু বিপরীত অথবা দুই দেহের সংযোগ হওয়ার আপ্রাণ আগ্রাসী ভাবনা। প্রেমের জ্যোতি তার মধ্যে বিন্দুমাত্র থাকে বলে মনে হয় না। এই সংযোগ যদি সময় সুযোগে আরো গাঢ়তর হয় তখন প্রেমের অবস্থানের সূচনা হয়। ততক্ষণে অবশ্য মানুষ হিসেবে জীবনের রঙ্গমঞ্চে পরিচিতি হারিয়ে যায়। গড্ডলিকায় শুধু বয়ে যায়। যদিও বা কিছু করার বাসনা গড়ে ওঠে তা অনেক পরে নিজস্ব বোধ বুদ্ধি অবস্থানের পর্যায়ক্রমে।
অর্থাৎ পরিণত বোধের পরেই যে দুই দেহের মধ্যে মনের আদান প্রদান গড়ে ওঠে তাকেই প্রেম বলা যেতে পারে। রাধাকৃষ্ণ হীররাঞ্ঝা সেলিমআনারকলি এসবই সেই সব জীবনের ফসল চিত্রকলা। রাধাকৃষ্ণ তো জন্মসূত্রেই বোধ সম্পন্ন।
আমাদের আশেপাশে শুধুমাত্র প্রেম সকল চিন্তাভাবনায় কত যে এই বোধহীন হারিয়ে গেছে, হারিয়ে যাচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। নারী পুরুষ বা দুই দেহের মন নাড়াচাড়ায় প্রেমের যে পূর্ণতা তা আকাশ অসীম অনন্তের ভাব প্রয়াস। সময় সুযোগ অবস্থান সংযোগ এবং তার অবস্থানিক বোধ পরিচালনায় প্রেমের উন্মুখ চিত্র। সিনেমার মত হুট করে ধাক্কা লাগল আর প্রেম হয়ে গেল - তা কখনই বাস্তবে হয় না। সদ্য যৌবন পা শুধুই ছলাকলায় ডুবে নাবিক কথামালা। পাড়ে পৌঁছতে পারে অথবা হারিয়ে যেতে পারে। বোধ পরিপূর্ণ এ রকম অনেক আছে যারা প্রেম করেছেন কি না জানি না তবে একটা ধরেছেন ছেড়েছেন আবার ধরেছেন আবার ছেড়েছেন এবং আবার তাও তারা প্রতিষ্ঠিত জীবনে ও মননে। সে নারী অথবা পুরুষ, যে কেউ।
কেউ বুক ফুলিয়ে গর্ব করে বলতে পারবে যে স্কুল লাইফে চুটিয়ে প্রেম করেও স্কলার ফেলোসিভ বা সর্বোচ্চ হতে পেরেছেন?
তাহলে এই স্থিতি সীমান্তে প্রেমের ভূমি রাজ্য কি? বোধ পূর্ণতা পর্যন্ত অনেকেই নিজেকে আয়ত্বে রাখতে পারে না। অন্য এক দেহের খোঁজে হন্যে হয়ে ফেরে। এই খোঁজার মাঝে যদি সদ্য যৌবন তা পেয়ে যায় তাহলে সোনায় সোহাগা। তবে তা বিপরীতমুখী। জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়ার অনুকুল।
ভাবনার বিষয় তাহলে শুধু প্রেম কি দেয়? আর কি পায়? জৈবিক চাহিদার অজৈবিক পার্থিব অবস্থানে?
এর পরে আছে বৈধ আর অবৈধ প্রেম। বৈধ অর্থাৎ সবার সামনে বুক ফুলিয়ে সমাজ সংসারকে সামনে রেখে। যেমন বিয়ে এই জাতীয় অবস্থান। আবার লুকিয়ে। কেউ যেন জানতে না পারে। সবাই গানটি জানে ' গোপন কথাটি রবে না গোপনে'। প্রকাশ্যে আসবেই আজ কাল কিংবা পরশু। কিন্তু তবু অনেকেই মনে করে কিছু হবে না চল, প্রেম ঘুরে আসি থুড়ি প্রেম করি।কেউ জানতে পারবে না।
যতদূর জানি প্রেমের এই কোন লুকানো ঝুকানো ধরা পড়েছেই।টিন এজ এই অবস্থানে ঢুকে পড়ছে প্রেম রহস্যে। ফলে নিজস্ব কেরিয়ার বৃত্তিতে তারা নিজেদের হারিয়ে ফেলছে। বোধ না জন্মানো বড়দের মত হওয়ার প্রেম নেশায় কত অকাল হয়ে যাচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। তাকে রোধ করার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব সবার। আমাদের বড়দের। পাশে থাকা, বুঝতে শেখা, বুঝিয়ে বলা ও নিয়মিত টিন এজের মত হওয়া। টিন এজ মেধা যা পড়াশুনার মাধ্যমেই বিকশিত হয়। তার সাথে মানবিক বোধ আহরণ করতে শেখে।
ঠিক সেই সময় প্রেমের নেশা যা পারিপার্শ্বিক অবস্থান ও বিনোদন থেকে দেখে শেখে এবং সদ্য তাই তাকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করে। ফলে মেধার অপচয় ঘটে যায়। তাকে রোধ করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
বোধ পরিণত সে বয়সের মাপকাঠিতেই প্রেম জীবনের আনন্দম। অগ্রবর্তী।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৫৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×