somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নখস্তুতি

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সৃষ্টিকর্তা আমাদের অঙ্গের প্রত্যেকটি অংশ অতি যতœসহকারে সুন্দর করে তৈরি করেছেন। আর আমরা যদি আমাদের এ অঙ্গের প্রত্যেকটি অংশকে একটু পরিচর্যা করি তবে তা হয়ে উঠতে পারে আরও সুন্দর এবং আকর্ষণীয় যার মাধ্যমে আপনি সর্বত্র মোহনীয়, আকর্ষণীয়, রুচিশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পাবেন। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মরিয়ম মনি
রূপচর্চা কেবল চেহারা, ত্বক আর চুলের সঙ্গেই জড়িত নয়, বিশাল এর পরিধি। শরীরের প্রতিটি অংশের আলাদা যতœ নেওয়াটাই হচ্ছে রূপচর্চা। আর এ রূপচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে হাত। হাত ও পায়ের সৌন্দর্য অনেকাংশেই নির্ভর করে সুন্দর গড়নের নখের ওপর। তাই তার পরিচর্যা খুবই জরুরি। একটু সময় করে এ যতœ নিলে নিজেকে উপস্থাপন করা যায় আরও সুন্দর করে। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন পারসোনার রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান। তার মতে , নখ হলো এক ধরনের শক্ত কোষের সমষ্টি। নখের শক্ত বা নরমভাব নির্ভর করে নিজস্ব দৈহিক প্রকৃতির ওপর। তবে খাবারের সঙ্গে পরিমাণ মতো প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়োডিন ও ভিটামিন 'বি' খেলে নখ সতেজ ও সুন্দর থাকে। নখের সুন্দর গড়নের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১ বার ম্যানিকিউর (হাতের নখের জন্য) করা অবশ্যই দরকার। এছাড়া সপ্তাহে একবার ৩ চামচ অলিভ অয়েল সামান্য গরম করে হাতের চেটো এবং হাতের ও পায়ের আঙুলগুলো ভালো করে মেখে নিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে পানিতে ধুয়ে নেবেন। এতে হাতের চেটোর খসখসে ভাব থাকবে না এবং নখ অতিরিক্ত চকচকে ও শক্ত হয়ে উঠবে। যাদের নখ ভঙ্গুর তারা প্রতিদিন ২ চামচ খাবার জিলেটিন ১ কাপ ফলের রসের সঙ্গে মিশিয়ে মাস খানেক খেলে যথেষ্ট উপকার পাবেন। তবে এ ধরনের উপায় স্থায়ী নাও হতে পারে। প্রতিদিন হ্যান্ড অ্যান্ড বডি লোশন, অলিভ অয়েল, ক্রিম বা কিউটিকল সফট নামের যে কোন একটি সামান্য পরিমাণে নখে লাগিয়ে তুলা দিয়ে নখের গোড়ায় সমান করে দেবেন, এর ফলে নখ অনেক দিন ভালো থাকবে। শেপ করে নখ কাটার জন্য কাচি বা ব্লেড ব্যবহার না করাই ভালো কারণ এতে নখ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস থাকলে এক্ষুনি তা দূর করুন, কারণ দাঁত দিয়ে নখ কাটলে নখের আকার বা গড়ন কখনো সুন্দর হবে না। নখ কাটার জন্য ধারালো নেইল কাটার ব্যবহার করুন।
ম্যানিকিউর : ম্যানিকিউর আসলে হাতের আঙ্গুল ও নখ পরিষ্কার রাখার একটি পদ্ধতি মাত্র। বাজারে এখন ম্যানিকিউর সেট কিনতে পাওয়া যায়, যা দিয়ে আপনি সহজেই ম্যানিকিউরের কাজটি করতে পারেন। এছাড়া কিছু সাধারণ জিনিস যা সচরাচর ঘরে থাকে তা দিয়ে করতে পারেন নখের এই পরিচর্যা যেমন নেইলবার্নিশ, তুলা, হ্যান্ডক্রিম, নেইলফাইল, কিউটিকল অয়েল, সল্ট, নেইলব্রাশ, নেইলকাটার ও বাফার। ব্যস্,এবার তাহলে লেগে পড়–ন ম্যানিকিউর করার কাজে।
ম্যানিকিউর করার পদ্ধতি
* এক-দেড় ঘণ্টা সময় নিয়ে ম্যানিকিউর করুন।
* প্রথমে নেইলকাটার দিয়ে নখের অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলুন। নেইলফাইলে নখ ঘষে পছন্দমতো আকারে নিয়ে আসুন, নখ সহজে ভাঙবে না।
* পাত্রে উষ্ণ পানিতে শ্যাম্পু, লবণ ও লেবু মিশিয়ে হাত ভিজিয়ে রাখুন ১৫ থেকে ২০ মিনিট।
* ব্রাশ দিয়ে হাত ঘষে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
* হাত পাঁচ মিনিট স্ক্রাব ম্যাসাজ করুন।
* এবার বাফার দিয়ে নখের ওপর লেগে থাকা ময়লা ঘষে পরিষ্কার করুন।
* লোশন দিয়ে আঙুল পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করুন।
ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউর
ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউর হচ্ছে নখের আসল রংকে হাইলাইট করা। নখের মাথায় সাদা বা যেকোনো রং লাগান। তবে ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউরের ন্যাচারাল লুক ছাপিয়ে একাধিক রঙের মিশ্রণ এখন জনপ্রিয়। অ্যাক্রিলিক নেইল নখের ফ্যাশনে নতুন সংযোজন অ্যাক্রিলিক নেইল। এর সাহায্যে নখ বড় করা যায়। অ্যাক্রিলিক গাম দিয়ে আসল নখের ওপর এমনভাবে সেট করা হয়, মনে হবে আসল নখ।
ফেইক নেইল
নখ রাখতে সমস্যা হলে বা নখ ছোট হলে ফেইক নেইল লাগান। ফেইক নেইল সাধারণত সাদা ও যেকোনো আকারের হয়। প্রথমে আঙুলের সঙ্গে মিলিয়ে নখের মাপ নিয়ে কেটে ফাইল করুন। এবার নেইল গাম দিয়ে নখের ওপর লাগান। চাইলে নেইলপলিশও লাগাতে পারেন।
নখের আকৃতি
নখ সব সময় মিডিয়াম লেন্থে রাখুন, নেইলপলিশ লাগাতে সুবিধা হবে। নখের লেন্থ যা-ই হোক না কেন, তা যেন আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানায়। এখন স্কয়ার শেপের নেইল জনপ্রিয়।

নখ সুন্দর রাখতে
* নখ সুন্দর রাখতে মাসে একবার ম্যানিকিউর করান।
* নখে পেইন্ট বা অন্য কিছু লাগানোর পর নেইলপলিশ পাতলা করে লাগান।
* নেইল পেইন্ট করার স্থানে যেন আলো-বাতাস থাকে।
* তাড়াতাড়ি শুকানোর জন্য ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না।
* নখ দাঁত দিয়ে কাটবেন না, নেইলকাটার দিয়ে কেটে ফাইল করুন।
* দীর্ঘদিন একই নেইলপলিশ থাকলে নখ হলুদ হয়ে যায় এবং উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়।
* খাওয়া শেষে নখের কোনায় লেগে থাকা খাবার ভালো করে পরিষ্কার করুন।




সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:১৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×