প্রথম আলোতে খবরটা বেশ গুরুত্বের সাথেই ছাপা হয়েছে। “এ কোন পুলিশ, এ কেমন পৈশাচিকতা!” শিরোনামে সময় টিভির বরাত দিয়ে গত মাসের ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা বেশ ঘটা করেই রিপোর্ট করেছে এমনকি তাদের ওয়েবে খবরটির শেষে ঘটনাটির ভিডিও লিঙ্কও সংযুক্ত করে দিয়েছে। দেশের সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা বলে কথা, সময় টিভি ভিডিও দেখিয়েও যা পারেনি সেটা প্রথম-আলোর কল্যাণে প্রচারের আলোয় আসার পর স্বাভাবিকভাবেই চারিদিকে দেশ, জাতি, পুলিশ ও সর্বোপরি সরকারের গুষ্ঠি উদ্ধার করা শুরু হয়ে গেল। স্বাভাবিক বলছি কারণ- আমাদের দেশে যেকোনো ঘটনার পক্ষকরনে বিন্দুমাত্র দেরি হয়না।
আচ্ছা ধরুন আপনি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া যুবক। গতরাতে আপনাদের এলাকায় ডাকাতি হয়েছে, তাও আবার আপনারই মামার বাসায়। ডাকাতেরা আপনার মামাকে আহত করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গিয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আপনারা এলাকাবাসী সবাই এলাকার মোড়ে এসে জমা হয়েছেন, উত্তেজিত সময় পার করছেন নানা আলাপচারিতায়। এমন সময় পুলিশ গাড়ীতে করে এসে ডাকাত চিহ্নিত করে মিলনকে আপনাদের মাঝে ফেলে দিয়ে গেলো। কি করবেন আপনি? ভেবে বলুন, দরকার হলে একটু সময় নিন। ভাবছেন আপনার মামার বাসায় গতরাতে এই ছেলেটিই ডাকাতি করেছে কিনা! আরে পুলিশইতো বলে গেল ছেলেটি ডাকাত তাহলে আর এতো ভাবনার কি আছে? বাসার সব দামি জিনিসপত্তর নিয়ে গিয়েছে অথচ আপনি এখনো দাঁড়িয়ে আছেন? শুধু মুষ্ঠিবদ্ধ হাত চালালে কি হবে! কি! আপনার প্রাণপ্রিয় মামাকে যারা কুপিয়েছে তাকে শুধু দুটি ঘুষি মেরে ছেড়ে দিবেন? হাতের কাছে কি বাঁশ, কাঠ কিছুই নেই! মোড়ের দোকানটার শাঁটার নামানোর রডটা কিংবা নির্মাণাধীন বাড়ীর রাস্তার উপর স্তূপ করে রাখা ইট কোন কিছুই কি নেই! গুড! অবশেষে একটা ইট হাতে তুলে নেয়ার বুকের পাটা আপনার আছে দেখছি! তাহলে আর আজরাইলকে অপেক্ষায় রাখা কেন? দেখতে পাচ্ছেননা লম্পট বদমাশ খুনে ডাকাতটা এদিক-ওদিক পালানোর চেষ্টা করছে। যুবক মানুষ, ভার্সিটিতে পড়েন আপনার শরীরে জেদ বলতে কি কিছুই নেই! আচ্ছা,বাদ দিন। এত মানুষের চিৎকার চেচামেচির মধ্যে আপনার ভিতরের উত্তেজনার শেষটা আপনার মনেই থাকুক। টেকেরবাজারের ঘটনাস্থলে নিজেকে কল্পনা করতে গিয়ে যদি আপনি একটু হলেও ঘেমে গিয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে স্যালুট জানাই। যাক বিবেকবোধ বলে কিচ্ছু একটা এখনো আছে তাহলে যা কল্পনাতেও কাজ করে!
"মারি হালা। মারি হালা। পুলিশ কইছে মারি হালাইবার লাই। তোরা মারছ্ না কা?"-শুধু পুলিশ বলেছে তাই আমরা দলবদ্ধ হয়ে হায়েনার মতো তার উপর ঝাপিয়ে পড়বো? “বিবেকের মা” নাকি কবেই মরে গেছে তাই বলে কি “জানে মারিসনা” কথাটাও সবাই ভুলে গেছে। পুলিশের নৈতিকতা, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। “পুলিশের কাজ পুলিশ করেছে......” “পুলিশ না ফুলিশ” ইত্যকার কথাবার্তাও নতুন নয়। তাহলে কেন শুধু পুলিশ আর সরকারের পর দোষ চাপিয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা! মিলনকে-তো পুলিশ মারেনি, মেরেছে আমার আপনার মতো সভ্য ভেকধারী লোকেরাই। টেকেরবাজারের লোকগুলো কি আমাদের সমাজের বাহিরের কেউ? পুলিশ কি আকাশ থেকে উদয় হয় নাকি আমি-আপনিই পুলিশ হই? সুতরাং আমরা কেউই এই অসভ্য, বর্বর ও বিবেকহীন কাজের দায় এড়াতে পারিনা। ঘটনাক্রম বলছে পুলিশও দায় এড়াতে পারেনা কিন্তু তাই বলে পুরো ঘটনার দায়ভার শুধুমাত্র পুলিশের উপর চাপানোর চেষ্টা করা নিজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা নরপশু আর খুনে মানুসিকতাকে ঢাকার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এখনো সময় আছে, প্রায় মরে যেতে বসা বিবেকটাকে জাগিয়ে তুলুন। নতুবা পরবর্তীতে মিলনের স্থলে নামটা হতে পারে আপনারই। খবরটি যদি কেউ এখনো না পড়ে থাকেন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



