somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপারেশান খোঁজ(The Search) ঃ মজনু নামা

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মজনু মিয়ার কাহিনী তেমন আহামরি কিছু নয়। প্রেম করে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় গৃহ ত্যাগ করে আবার কেউ কেউ অভিভাবকদের দ্বারা গৃহত্যাগে বাধ্য হয়। আমাদের মজনু মিয়া দ্বিতীয় ক্যাটাগরির। কিন্তু যে কারণে মজনু মিয়া আমার মনোযোগ আকর্ষণ করলো তা হচ্ছে তার গত ২৭ বছর ধরে গৃহে না ফেরার কাহিনী। ১৯৮৪ সালে মজনু মিয়া প্রেম করে বিয়ে করলে তার পরিবার তা মেনে নিতে পারেনি, তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। তখন থেকে আজব্দি মজনু মিয়া আর কখনো ময়মনসিংহে তার বাড়িতে ফিরে যায়নি। এখন সম্ভবত পরিবারের কেউ অথবা নিকটাত্মীয় মৃত্যু শয্যায় তাই...... আমাদের দেশের চিরাচরিত নাটুকে প্লট আর কি!

পরিচিত এক সাংবাদিক ভাইয়ের সাথে বেরিয়ে পরলাম মজনু মিয়ার খোঁজে। হাতে সূত্র বলতে কেউ একজন নাকি তাকে বছর পনের আগে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাদাম বিক্রি করতে দেখেছে এটুকুই। না কোন ছবি, না কোন রেফারেন্স শুধুমাত্র বাদাম বিক্রেতার তথ্যটুকু সম্বল করেই চলে গেলাম স্মৃতিসৌধে। মনের মধ্যে একটা কিছু করার যে উত্তেজনাটুকু ছিল তা উড়ে যেতে সময় নিলোনা দু-একজনকে জিজ্ঞেস করেই। বুঝতে পারলাম আমার সাংবাদিক ভাই তার শ্বশুরবাড়ির লোকের অনুরোধে ঢেঁকি নয় পুরো করাতকল গিলে ফেলেছে। আজকে পা-দুটুর খবর আছে এই মানসিক প্রস্ততি নিয়ে ফেললাম। যাহোক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্মৃতিসৌধে কর্মরত সাংবাদিক ভাইয়ের পরিচিত এক লোকের সাথে দেখা হলে তিনি আমাদের চায়ের আমন্ত্রন জানান। চা খেতে খেতে আমাদের আসার হেতু বর্ণনার মধ্যখানেই তিনি মজনু মিয়াকে চেনেন বলে জানান। অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম, তিনি ব্যাপারটা খেয়াল করেছেন বলে মনে হল। “আপনার কি হয়”-তার এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে একটা সিগারেটের খোঁজে পা বাড়ালাম। এতো সহজে মজনু মিয়ার হদিস পেয়ে যাবো তা কল্পনাও করিনি।

আমরা যখন সেই লোকের সহায়তায় মজনু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে হাজির হই তিনি তখন বাড়িতে ছিলেন না, মাঠে নাকি গরু চড়াতে গিয়েছেন। কি আর করা! সেখানেই গেলাম। পড়ন্ত বিকেলের ম্লান আলোয় কল্পনাবিলাসী মনও নাকি ম্লান হয়ে যায়! বিদ্রোহী প্রেমি টাইপের কোন চেহারা দেখবো সেই আশা করিনি কিন্তু তাই বলে এমন ভঙ্গুর কোন মানুষকে দেখবো তাও আশা করিনি! দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে বললাম হায়রে প্রেম! হায়রে ভালবাসা!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×