বছর দশেক পূর্বেও তোরণ সংস্কৃতি এমনটা ছিলোনা। আমিনবাজার হতে নবীনগর পর্যন্ত শুধুমাত্র মূলপয়েন্টগুলোতে হাতেগোনা কিছু তোরণ দেখা যেতো। সেগুলোতে দলীয় কিংবা নেতানেত্রী বন্দনার চেয়ে বিজয় দিবসের চেতনা উজ্জীবিতমূলক লেখা দেখা যেতো। সময় যত গড়িয়েছে ততোই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তোরণের সংখ্যা আর কমেছে চেতনা। পূর্বে থেকে যা চলে আসছে তা রাতারাতি বদলে যাবার মতো দেশ আমাদের না। তাই এবার তোরণের সংখ্যা অতীতের রেকর্ডকে অতিক্রম করে গেছে।
এবার হেন নেতা নেই ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত যাদের সৌজন্যে মহাসড়কে তোরণ হয়নি। নিজে গুনিনি, শুনেছি আমিনবাজার থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত প্রায় দু’শর মতো তোরণ হয়েছে যেগুলোর একাংশ আবার মাসের শুরু থেকেই বিজয় দিবসের জানান দিয়ে আসছে। যে করেই হোক নেতানেত্রীর নজরে আসা চাই-ই চাই। উপড়ের লেবেলের নজরে যদি নাও আসা যায় ক্ষতি কি, স্থানীয় পর্যায়ের লোকজনতো অন্তত বলাবলি করবে “অমুক ভাইয়ের ছবি দেখলাম।” বর্তমানের নাম প্রচারের যুগে এক তোরণেই যদি এতো পাবলিসিটি হয় তাহলে কেই বা তা হাতছাড়া করতে চাইবে?
রাজনীতির সাথে জড়িত লোকদের নজর নাকি শুধুই ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু এবার বোধহয় জমিনমুখিও হচ্ছে যা তোরণ সংস্কৃতিতে এবার নতুন সংযোজন। মহাসড়কে রাস্তার প্রায় অর্ধেক জুড়ে তোরণ নির্মিত হয়েছে। আমি নিশ্চিত যার ছবি তোরণটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সে কোন অবস্থাতেই রাস্তাজুড়ে তোরণের এই ধারনাটিকে সমর্থন করবেনা। এমনকি বিরোধীদলীয় নেত্রীও করবেনা বলে আমি নিশ্চিত। শুধু নিশ্চিত হতে পারছেনা আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা। তাই তারা রাস্তা আটকে ফেলা এই ছবিটিকে না সড়িয়ে বাকি অর্ধেক রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করে যাছে। এই দুই পুলিশ সদস্যের স্থলে যদি তাদের সবচেয়ে বড় দুজন অফিসার থাকতো তাহলেও ছবিটি সড়ানো হতোনা বলেই আমার ধারনা। কারণ একটাই- ছবির ব্যক্তি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিতান্ত সাধারন একটা বিষয়ে ক্ষমতাসীনের অশরীরী উপস্থিতিকেও এতোটা সমীহ করে আইনের শাসনের এরচেয়ে বড় উদাহরণ আর কি হতে পারে বিজয়ের ৪০বছর পূর্তিতে!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



