৬ জানুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল- অবরোধের ৯০তম দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয় থেকে আদালত হয়ে নিজের বাসায় ফিরেছেন। তবে অবরোধ এখনো তুলে নেওয়া হয়নি। খালেদার ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে ২০ দলের আন্দোলনের একটি পর্যায়ের অবসান হয়েছে। এখন লাভ-ক্ষতির হিসাব চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। তবে সাধারণ মানুষের খাতায় লাভের হিসাব শূন্য, ক্ষতির খতিয়ান অনেক দীর্ঘ। বহু যানবাহন পোড়ানো হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে। অর্থনীতির অপরিমেয় ক্ষতি হয়েছে। দুর্বৃত্তদের আগুনে ২৩টি ভূমি অফিসসহ অন্তত ৪১টি সরকারি প্রতিষ্ঠান পুড়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা- সব খাতই আক্রান্ত হয়েছে অবরোধের কারণে। এরই সংক্ষিপ্ত খতিয়ান নিচে তুলে ধরা হলো।
নিহত ১৩৮ : ৯২ দিনের টানা অবরোধে প্রাণ হারিয়েছে ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছে পেট্রলবোমার আগুনে পুড়ে। সহিংসতা-সংঘর্ষ ও অন্যান্য কারণে প্রাণ হারিয়েছে ২৮ জন।
অগ্নিদগ্ধ ও আহত : অবরোধের নাশকতায় আহত হয়েছে দেড় হাজার মানুষ। আগুনে পুড়েছে ৩৫০ জন।
অর্থনীতির ক্ষতি পাঁচ হাজার কোটি টাকা : রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে প্রতিদিন অর্থনীতি যে ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে তা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রাক্কলিত জিডিপির হিসাব অনুযায়ী ০.১৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক দিনের হরতাল অথবা অবরোধে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার ২৭৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এই হিসাবে ৯০ দিনের অবরোধে ক্ষতি হয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
আড়াই মাস বন্ধ ছিল অধিকাংশ বিদ্যালয় : অবরোধের মধ্যে ডাকা হরতালে প্রত্যক্ষ ক্ষতির শিকার হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও শুরু হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। ৩৯ দিনের পরীক্ষা শেষ হয় ৫৭ দিনে। শুক্র ও শনিবার ছাড়া পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। বছরের শুরুতেই প্রায় আড়াই মাস বন্ধ ছিল রাজধানীর অধিকাংশ স্কুল। বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে সপ্তাহের পাঁচ দিনই পাঠদান করা যায়নি। অনেক স্কুল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। মার্চের মাঝামাঝি এসে শুক্র ও শনিবার বাদে অন্য দিনও পাঠদান শুরু হয়। এখন পাঠদান পুরোদমেই চলছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




