somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আষাঢ়ে গল্প: (নোয়াহ'র মহাপ্লাবন)

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নোয়াহ্'কে সকলেই অতিশয় সজ্জন ব্যক্তি হিসাবে পছন্দ করিত। গঞ্জে যে বড় মাছ বাজারটি ছিল, নোয়াহ্ সেইখানে বসিয়া ঝালমুড়ি বিক্রয় করিয়া জীবিকা নির্বাহ করিত। তাহার ঝালমুড়ির সুখ্যাতি সুদুর চীনদেশ পর্যন্ত পৌছিয়া গিয়াছিল। কথিত আছে, চীনদেশের রাজকণ্যা প্রতিনিয়ত ঝালমুড়ি খাইবার লোভে নোয়াহ্ কে বিবাহ করিতে উদ্যত হইয়াছিল। নোয়াহ্'র প্রথম পক্ষের বিবি ছিল অতিশয় দজ্জাল প্রকৃতির। অত্যাচারিত নোয়াহ্'র সংসার জীবন সম্পর্কে বেশ তিক্ত অভিজ্ঞতা হইয়া গিয়াছিল। তাই রাজকণ্যার প্রস্তাবে রাজী হওয়ার কথা দুর্জনের কল্পনাতেও ঠাঁই পায়নি।

সেইবার খুব গরম পড়িল। নোয়াহ্'র ঝালমুড়ি ব্যবসায় ধস নামিল। বণিকগণের আশংকা, গরমের দিন- জল ব্যতীত ঝালমুড়ি খাইয়া কোন বিপদ হয়! শেষে বরফ লইয়া হাগনকুঠিতে ঢুকিতে হইবে জ্বলুনি বন্ধ করিবার নিমিত্তে।

হঠাৎ একদিন নোয়াহ্'র মাথা বিগড়াইয়া গেল। সে বাজারের এমাথা-ওমাথা দৌড়াদৌড়ি করিতে লাগিল এবং বণিকদের গালমন্দ করিতে লাগিল, "তোমরা সবাই আমার সাথে ফাইজলামী কর, আমার কথা অমান্য কর, তোমরা ধ্বংস হইবে। তোমাদিগকে ধ্বংস করিবার নিমিত্তে শীঘ্রই একটি মহাপ্লাবন আসিবে। আমি একটি জাহাজ তৈরি করিব। যাহারা আমা হইতে ঝালমুড়ি কিনিয়া খাইবে, কেবলমাত্র তাহাদিগকেই উক্ত জাহাজে উঠিতে দিব। বাকীরা ডুবিয়া মরিবে।"

সবাই ভাবিল, নোয়াহ্ ঝালমুড়ির বিক্রয় বাড়াইবার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞাপনী ফন্দি আঁটিয়াছে! তাহারা সিটি বাজাইয়া নোয়াহ্'কে উৎসাহ দিতে লাগিল। কতিপয় দুষ্টুলোক নোয়াহ্'র বউকেও বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় ব্যবহার করিবার পরামর্শ দান করিল।

দুইদিন যাইতে না যাইতেই নোয়াহ্ এলাকার সবচাইতে বড় কড়ই গাছটা কিনিয়া ফেলিল। গঞ্জের বণিকেরা তাহার পাগলামীতে ক্রমান্নয়ে বিরক্ত হইয়া উঠিতে লাগিল। নোয়াহ্ তাহাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুপে না করিয়া জাহাজ তৈরিতে উঠিয়াপড়িয়া লাগিল। কিয়দ্দিন বাদেই গঞ্জের অদুরবর্তী খালে একটি জাহাজের কাঠামো ভাসিয়া থাকিতে দেখা গেল।

যতই দিন যাইতে লাগিল, নোয়াহ্'র অভিসম্পাতের পরিমানও কড়ায়-গন্ডায় বাড়িতে লাগিল। বণিকেরা অত্যাচার সহ্য করিতে না পারিয়া নোয়াহ্'র বিরুদ্ধে শালিশ বসাইল। সাব্যস্ত হইলো, নোয়াহ যদি নিজেকে না শুধরাইয়া লয়, তাহা হইলে তাহার জাহাজ ধ্বংস করিয়া দেওয়া হইবে, এবং তাহাকে মাথা মুড়াইয়া, ঘোল ঢালিয়া তাড়াইয়া দেওয়া হইবে।

নোয়াহ্ উক্ত শালিশের সিদ্ধান্ত মানিয়া লইলো না। বরঞ্চ সে বলিয়া বেড়াইতে লাগিল, সবাই তাহার বিরুদ্ধে ভিলেজ-পলিটিক্স করিতেছে। তাহাকে সকলে মিলিয়া ছাগুরাম বানাইতে চেষ্টা করিতেছে।

পরদিন প্রাতঃভ্রমনে বাহির হইয়া নোয়াহ্ আবিষ্কার করিল, কে যেন তাহার সাধের জাহাজে হাগিয়া রাখিয়াছে! সেইদিন গঞ্জবাসী সকলের ঘুম ভাঙ্গিল নোয়াহ্'র তীব্র গালাগালিতে। তাহারা স্ববিস্ময়ে আবিষ্কার করিল নোয়াহ্ সভ্যতা-ভব্যতা ভুলিয়া মোড়ল হইতে শুরু করিয়া চামারের মা-বাপ তুলিয়া গালমন্দ করিতেছে। কিয়ৎকাল বাদে মোড়ল আসিয়া উপস্থিত হইল। তখনো নোয়াহ্'র গালাগালি বন্ধ হয় নাই।

নোয়াহ'র মুখে অতিশয় কুৎসিত গালাগালি শুনিয়া মোড়ল শুধাইলো, "উচিৎ কাজ ইহয়াছে।" মোড়লের কথা শুনিয়া গঞ্জের সকলের হৃদয়ে আনন্দের ফোয়ারা বহিতে লাগিল। নোয়াহ্'র অত্যাচারে সকলের নাভিশ্বাস উঠিয়া গিয়াছিল।

গঞ্জের আবালবৃদ্ধবণিতা নোয়াহ্'র জাহাজে হাগিয়া বেড়াইতে লাগিল। কিয়দ্দিনের মধ্যেই জাহাজ পুরীষে পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল এবং তাহার সুগন্ধ চতুর্দিকে ছড়াইয়া পড়িল। নোয়াহ্ অসহায় হইয়া ঘুরিয়া বেড়ায় এবং গঞ্জবাসীদের উপর অভিসম্পাত বর্ষণ করিতে থাকে।

গঞ্জের পাশর্্ববর্তী গাঁয়ে বাস করিত এক বুড়ি। বার্ধক্যজনিত কারনে সে চোখে খুব একটা দেখিত পাইতো না। লোকজনের কানাঘুষা শুনিয়া বুড়িও একদিন উৎসাহী হইয়া নোয়াহ্'র জাহাজে হাগিবার নিমিত্তে বাহির হইল। লাঠি ঠুক-ঠুক করিয়া, প্রচুর সময় ব্যয় করিয়া, বুড়ি একসময় গিয়া নোয়াহ্'র জাহাজের সম্মুখে উপস্থিত হইল। ততোক্ষনে জনে জনে বার্তা পৌঁছাইয়া গিয়াছে। প্রচুর লোক উপস্থিত হইয়াছে বুড়ীকে উৎসাহ দেয়ার জন্যে। প্রবল করতালির মধ্য দিয়া বুড়ি হাগিতে বসিল।

বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ কি হইতে কি হইয়া গেল! বুড়ি টুপ করিয়া পুরীষের মধ্যে পতিত হইল। চারিদিকে গেল গেল রব উঠিল! কিয়ৎকাল বাদে সকলে সবিস্ময়ে লক্ষ্য করিল, বুড়ি যে স্থানে পতিত হইয়াছে সেই স্থান হইতে এক অপরুপ সুন্দরী, উদ্বিন্ম যৌবনা নারী উঠিয়া আসিতেছে।

বাতাসের অধিক দ্রুত গতিতে এই খবর চতুর্দিকে ছড়াইয়া পড়িল। আশেপাশের দশ গাঁয়ের সব বুড়ো-বুড়ী আসিয়া নোয়াহ্'র হাগু ভর্তি জাহাজে স্নান করিতে আরম্ভ করিল সুন্দর হইবার দুরাশায়। কালক্রমে লোকসমাগম এতই বাড়িয়া গেল যে তাহারা জাহাজের কাষ্ঠপৃষ্ঠ হইতে হাগু কাঁচাইয়া লইয়া যাইতে শুরু করিয়া দিল।

এমনি করিয়া ঈশ্বর সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য নিদর্শন রাখিয়া দিল যাহাতে তাহারা হাউকাউ চেঁচামেচি ফেলিয়া রাখিয়া সময় থাকিতে বাঁচিবার আশায় জাহাজ বানাইতে সক্ষম হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২৭
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×