বছর দুই আগের কথা। আমার এক কলিগ আমাকে জিজ্ঞেস করছেন, "জহির ভাই, আপনার স্ত্রীর ওপর কি কখনো আপনার প্রচন্ড রাগ হয়?"
আমি বললাম, নাতো। কেন, কি হয়েছে?"
তিনি বললেন, "ভাই, আমি প্রতি মাসে আমার ওয়াইফের নামে ১১ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা রাখি। সেদিন সে বলছে, আমি নাকি তার জন্য কিছুই করি না।"
আমি বললাম, "ও, এই কথা।"
তিনি আরো বললেন, "ভাই, আমার স্ত্রী পরীক্ষা দিবে। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে কয়েক মাসের জন্য বাপের বাড়ি চলে যাচ্ছে। আমি তাকে বললাম, তুমি এখানেই থাক। পরীক্ষা পর্যন্ত তোমার রান্নাঘরে যেতে হবে না। কোন আত্মীয়কে সময় দিতে হবে না। যত সুবিধা লাগে তোমার আমি দেয়ার চেষ্টা করব। তার এক কথা, এখানে সে পড়তে পারে না। বাবার বাড়ি গিয়ে পড়তে হবে। এজন্য তার স্ত্রীর ওপর তার খুব রাগ।"
যাক তার স্ত্রীর সমালোচনা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমার ঐ কলিগ সারাদিন ব্যস্ত থাকেন। ঢাকা মেডিকেলে ট্রেনিং, শিশু হসপিটালে চাকরী, বিকেলে চেম্বার, এক সার্জনের সাথে কাজ করা। সব মিলিয়ে তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত মানুষ। যাহোক, আমার এই কথার উদ্দেশ্য এই যে, ভাই দ্বীনের ওপর চলুন। ব্যস্ততা একটু কমান। আল্লাহর ইবাদতের জন্য সময় বের করুন। যদি কেবলমাত্র ক্যারিয়ার, অর্থ এসবের পেছনে আপনার ইহকালের মূল্যবান সময় ব্যয় করেন তাহলে আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। নিজে নামাজ পড়ুন। স্ত্রীকে সময় দিন। স্ত্রীকে সালাম দিন। ঘরে তা'লিম করুন। হযরত ফাতিমা, হযরত আছিয়া, হযরত সুমাইয়া রাযিয়াল্লাহু তায়ালা য়ানহুমদের আলোচনা ঘরে করুন। নিজে য়ালেম ওলামা, দ্বীনদার লোকদের সাথে ওঠাবসা করুন।
আপনার একীনের পরিবর্তন প্রয়োজন। আপনি ছোট থেকে দেখে আসছেন টাকা দ্বারা মানুষের প্রয়োজন পূরণ হচ্ছে। তাই আপনার ভিতর ধারণা হয়েছে টাকাই কামাতে হবে। টাকা কামাতে গিয়ে আপনি আপনার রবকে ভুললেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ভুললেন। আপনার নামাজ গেল, সালাম গেল, কুরআন তিলাওয়াত গেল। সময় নাইতো ওসব করার। আপনি দুনিয়ার পেছনে এমনভাবে ছোটা শুরু করলেন যেমনভাবে একটা আহত বাঘ শিকারির গুলির ভয়ে জঙ্গলের দিকে ছুটতে থাকে। এর নাম কি জীবন?
আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়ে হযরত ফাতিমা (রা) কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। পানি টানতে টানতে কাঁধে যন্ত্রণা অনুভব করছেন। আল্লাহর রাসূলের কাছে গোলামের আবদার করলেন। নবীজী কী বললেন জানেন? নবীজী বললেন, জিহাদে যারা শহীদ হয়েছে তাদের সন্তানরা অনেক কষ্টে আছে। গোলাম তাদের প্রাপ্য। তিনি ফাতিমাকে য়ামাল শিখিয়ে দিলেন। দুনিয়ার বদলে ফাতিমা আখিরাত কামাই করলেন।
তো ভাই, আসেন এক শান্তির জিন্দেগী আমরা এখতিয়ার করি। মেহনত করে করে ঈমানওয়ালা ও য়ামালওয়ালা জীবন আমরা কামাই করি। দুনিয়াতে শান্তি, আখিরাতেও শান্তি। আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন আমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



