একজন মানুষ যদি ডাক্তার না হয়, তবে তাকে মূর্খ বলা হয় না। কেননা একজন মানুষ ডাক্তার না হতেই পারে।
একজন মানুষ যদি ইঞ্জিনীয়র না হয়, তবে তাকে মূর্খ বলা হয় না। কেননা একজন মানুষ ইঞ্জিনীয়র না হতেই পারে।
একজন মানুষ যদি কৃষিবিদ না হয়, তবুও তাকে মূর্খ বলা হয় না। কেননা একজন মানুষ কৃষিবিদ না হতেই পারে।
একজন মানুষ যদি উকিল না হয়, এমএ, বিএ পাশ না করে, জজ ব্যারিস্টার না হয়, ইকনমিক্স না পড়ে, গল্প উপন্যাস না পড়ে, কবিতা না বুঝে, সঙ্গীতের সুর তাল লয় না বুঝে, এমনকি মেট্রিক পাশও না করে, তথাপি তাকে মূর্খ বলা হয় না।
একজন মানুষ যদি সুন্দর করে কথা নাও বলতে পারে, গ্রাম্য ভাষায় কথা বলে (কত বুদ্ধিজীবিইতো প্রমিত উচ্চারণে কথা বলে না, কত জনদরদী নেতারা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে) তবুও তাদেরকে মূর্খ বলা যায় না। এমনকি কোন বোবা, যে কথা বলতেই পারে না তাকেওতো কথা না বলতে পারার দরুণ মূর্খ বলা হয় না।
তাহলে কে মূর্খ?
একজন মানুষ যদি কুরআন না বুঝে, কুরআন সহীহভাবে তিলাওয়াত না করতে পারে তবে নিশ্চিত জানুন সে হচ্ছে মূর্খ। গন্ডমূর্খ।
মানুষজন বিয়ে করার সময় দেখে তার হবু বৌ কত শিক্ষিত, তার হবু স্বামী কত কত শিক্ষিত, কত কত ডিগ্রী তার আছে। কিন্তু খোঁজ নেয় না, সে কুরআন পড়তে পারে কিনা, সে তার রব অর্থাৎ তার প্রতিপালককে চিনে কিনা, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামকে চিনে কিনা, তার আদর্শ বুঝে কিনা। দ্বীনের ওপর চলা শিখেছে কিনা।
আহারে, মানুষ বিয়ের সময় শিক্ষিত তালাশ করে, কিন্তু শিক্ষিত হওয়ার মানদন্ড না চেনার কারণে সারাটা জীবন একজন মূর্খের সাথে ঘর করে যায়।
কত মানুষ সারাটা জীবন কত কত লেখাপড়া শিখে, কত বড় বড় ডিগ্রী অর্জন করে, কত সুন্দর করে করে কথা বলে, কিন্তু আল্লাহর কালাম না জানার কারণে তার বিদ্যা তাকে শিক্ষিত বানাতে পারে না। সে পদে পদে ধরা খায়, গুনাহকে ভালো থেকে আলাদা করতে পারে না, শয়তান তার ওপর সহজেই সওয়ার হয়ে পড়ে। আর ঐ বিদ্যা তাকে জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।
বস্তুতঃ আল্লাহর কালামের মর্যাদা সমস্ত কালামের ওপর এরূপ, আল্লাহ তায়ালার মর্যাদা সমস্ত মাখলুকের (সৃষ্টিজগতের) ওপর যেরূপ। (তিরমিযী)
হযরত সাঈদ ইবনে সুলাইম (রা) বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ শিক্ষালাভ করার পরও অন্য বিদ্যায় পারদর্শী কোন ব্যক্তিকে নিজের চেয়ে উত্তম মনে করল, সে যেন আল্লাহ পাকের দেয়া কুরআনের নেয়ামতকে অবমাননা করল।
সূরা হাশরের ২১ নং আয়াতে আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন বর্ণনা করেন যে,
لَوۡ أَنزَلۡنَا هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانَ عَلَىٰ جَبَلٖ لَّرَأَيۡتَهُۥ خَٰشِعٗا مُّتَصَدِّعٗا مِّنۡ خَشۡيَةِ ٱللَّهِۚ وَتِلۡكَ ٱلۡأَمۡثَٰلُ نَضۡرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُونَ
"(কুরআনে করীম আপন আজমতের কারণে এরূপ শান রাখে যে) যদি আমি এ' কুরআনকে কোন পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে আপনি সে পাহাড়কে দেখতেন যে, আল্লাহ তায়ালার ভয়ে ধসে যেত ও বিদীর্ণ হয়ে যেত। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি যাতে তারা চিন্তাভাবনা করে।"
এতএব আমার ভাই বোন দোস্ত, আল্লাহর এ আয়াত যদি আপনার ভালো লাগে, ভালোতো অবশ্যই লাগবে, কারণ কুরআনের মতো শৈল্পিক ভাষা আমি ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। তাহলে আপনারা কুরআন শিক্ষা করুন। কুরআন পাঠ করুন। হেদায়েত লাভ করুন। হেদায়েতের আলোয় আসুন আমরা আলোকিত হই। আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন আমাদের তৌফিক দান করুন। বিশেষ করে আসছে রমজানের উসিলায় আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন আমাদের সকলকে কুরআনের খাদেম হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




