somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গোপালদা হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে কি?

৩০ শে জুন, ২০১৪ সকাল ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গোপালদা হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে কি?

গোপালদা হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে কিনা এ প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই। কারণ হেদায়েতের ফয়সালা হয় আসমান থেকে। আমরা শুধু পারি হেদায়েতের দাওয়াত পৌঁছিয়ে দিতে। দ্বীনের দাওয়াত গ্রহণ করা বা না করা এ বিষয়ে দাওয়াত গ্রহীতা সম্পূর্ণ স্বাধীন। আমরাতো দাওয়াত দেই এজন্য যে এর দ্বারা আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন দাওয়াত দেনেওয়ালাকে হেদায়েতের উপর রাখবেন। কারণ আল্লাহ রব্বুল য়ালামীনের ইচ্ছে এটাই যে কাউকে চূড়ান্ত শাস্তি দেয়ার পূর্বে তার কাছে আসন্ন শাস্তির ভয়াবহতা সম্পর্কে বার্তা পাঠানো। সাথে সাথে এ শাস্তি থেকে বাঁচার উপায় ও চিরস্থায়ী সুখ শান্তি সফলতা সম্পর্কে তার কাছে পয়গাম পাঠানো। এজন্য যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান তথা বিশ্বাস স্থাপন করেছে তাদের এটা ঈমানী দায়িত্ব যে, যে বিশ্বাস করেনি অথবা এখনও সন্দেহের মধ্যে আছে তাদেরকে দাওয়াত দেয়া। আমরাতো তার ভালোর জন্য দাওয়াত দেই। সে যেন তার প্রতিপালককে চিনে। দাওয়াতের দ্বারা ঐ ব্যক্তির প্রতি আমাদের মহব্বত প্রকাশ করি। এটা এজন্য যে যদি আমাদের দাওয়াতের উসিলায় একজন আল্লাহভুলা বান্দা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং চিরস্থায়ী শাস্তির স্থান জাহান্নাম থেকে ফিরে আসে। সাথে সাথে তার এ দুনিয়ার জীবন হয় সুন্দর। বস্তুতঃ ইহকালীন জীবনতো মানুষের সুখে-দুঃখে কেটেই যায়। কিন্তু ঈমানহারা হয়ে দুনিয়ার থেকে চলে যাওয়ার কারণে অনন্ত আখিরাতের জিন্দেগীতে যদি কারো জাহান্নামের ফয়সালা হয় তার থেকে দুর্ভাগা কে আছে। সুখের নিশানা আর তো দেখা যাবে না।


গোপালদা কে?

গোপালদা আমার বন্ধু ও সহকর্মী। আমরা একত্রে কাজ করার সুবাদে আমাদের ভাব ও ভালোবাসার আদান প্রদান হয়। আমি হৃদয়ে খুব কষ্ট অনুভব করি যে, তার দুনিয়ার জীবন একটু একটু করে শেষ হয়ে যাচ্ছে যেভাবে সবার শেষ হয়। অনন্ত আখিরাত তার সামনে। কিন্তু এ বিষয়ে তার কোন ধারণাই নেই। সে তার প্রতিপালককে চিনে না। সে জানে না তার শুরু কোথা থেকে ছিল, তার গন্তব্যই বা কোথায়। রূহের জগতে আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন যখন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আলাসতু বিরব্বিকুম? "আমি কি তোমাদের রব নই?" তখন সেওতো সবার সাথে সমস্বরে জবাব দিয়েছিল, নায়াম। "হ্যা, আপনিই আমাদের রব।" আমার ইচ্ছে হলো আমি তাকে মনে করিয়ে দেব সেকথা। আমি তাকে জানাব তার গন্তব্যস্থল এবং দেখাব হেদায়েতের আলোকিত রাজপথ।


হেদায়েতের পথে গোপালদা

গোপালদার একটা প্লাস পয়েণ্ট হলো সে তার জীবনের বিগত সময়গুলোতে অনেক দাড়ি টুপিওয়ালা হুযুরদের সংস্পর্শে এসেছে। তার শিশুবেলায় তাদের গ্রামের মসজিদে তবলিগ জামাতের ভাইরা আসত। সেখানে তাদের রান্নাবান্না, খিচুরী খাওয়া, তাদের পোশাক, লাইন ধরে মাঠের আল ধরে হেঁটে যাওয়া তাকে আকৃষ্ট করত। আবার যৌবনে মেডিকেলের ছাত্র থাকাকালে তবলিগের হযুরদের সংস্পর্শে আসে। আসলে একজন মানুষের হেদায়েতের পেছনে যে কত কত মানুষের অবদান থাকে। কত মানুষের মেহনতে, দোয়ায়, অশ্রুতে, পার্থিব ক্ষয়-ক্ষতিতে, আর রক্তে সিক্ত থাকে এক এক হেদায়েত। আর এর বিনিময়ে মেহনত করনেওয়ালাকে আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন জান্নাতে উঁচু মাকাম দান করেন। আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন বলেন,

ان الله اشترى من المؤمنين انفسهم واموالهم بان لهم الجنة

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মু'মিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন।"
(সূরা তওবা, আয়াত ১১০)

আল্লাহ রব্বুল য়ালামীনের অশেষ মেহেরবানীতে আমিও চেষ্টা করেছি ইসলামের সৌন্দর্য তার কাছে তুলে ধরতে। কিন্তু ঈমানের বিষয়টা তার কাছে পেশ করতে আমার সময় লাগছিল। এদিকে আমিও পেরেশান হয়ে যাচ্ছিলাম, উনি যদি শুধু ইসলামের সৌন্দর্য বুঝে, কিন্তু ঈমান না আনে তাহলে কি লাভ হলো। কেবলমাত্র এতটুকুতো তার মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়। এতএব, তার কাছে আমি ঈমানের কিছু দিক উপস্থাপন করলাম। রাত্রিতে মশারীর ভিতরে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম। একটা চিঠি লিখলাম উনাকে। আর মাওলানা কালিম সিদ্দিকী যিনি ইন্ডিয়ায় অমুলিমদের ওপর মেহনত করেন তার একটি বই আমার কাছে ছিল, সেটি তাকে উপহার দিলাম। সেটি ছিল তার সে বিখ্যাত বই যেটি পড়ে হিন্দুস্থানে আল্লাহর অজস্র বান্দারা ইসলাম ধর্মে দীক্ষা লাভ করেছিল। এবং এখনও এটি ভারত ও বাংলাদেশে সমানভাবে জনপ্রিয়। বইটির নাম "আপনার আমানত।" মাকতাবাতুস সালাম থেকে প্রকাশিত বইটি মিরপুর ১০ নং এ শাহ আলী মার্কেটের পেছনে আশরাফিয়া লাইব্রেরীসহ প্রায় সব বই-পুস্তকের দোকানে পাওয়া যায়। দাম মাত্র ১৫ টাকা। স্বত্ব সংরক্ষিত না থাকলে আমি ইণ্টারনেটে স্ক্যান করে দিয়ে দিতাম।

চিঠিটি এরূপ ছিল।

দাদা,
আপনি ও আমি - এ দুজনের সৃষ্টকর্তা এক। এ বিষয়ে আমরা দুজনেই একমত। যেহেতু আমাদের দুজনের সৃষ্টিকর্তা এক, সেহেতু আমাদের দুজনের ধর্মও হওয়া উচিত এক। এক সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই আমাদের দুজনের জন্য দুটি পৃথক ধর্ম মনোনীত করবেন না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আপনি হিন্দু, আমি মুসলিম। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা যেহেতু দুজনের জন্য দুটি পৃথক ধর্ম মনোনীত করার কথা না, তাই হয় আপনি ভুল, নয়তো আমি ভুল।

অর্থাৎ আমাদের দুজনের কোন একজন ভুল পথে আছি। যদি আমি ভুল পথে থাকি তবে আপনার দায়িত্ব আমাকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়া। যদি আপনি ভুল পথে থাকেন তবে আমার দায়িত্ব আপনাকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়া।

আমার দায়িত্ব আমি পালন করলাম। আপনার আমানত আপনার হাতে আমি তুলে দিলাম। আপনি কি আর একবার আপনার পথটা Review করবেন?

ডাঃ জহির।

তো আমার প্রিয় ভাই বোন দোস্ত আহবাব। শেষ কথা হলো এই রমজান মাসে আসুন আমরা ঈমানের দাওয়াত বেশি বেশি দেই। ঈমানের দাওয়াত দেওয়া শেখার জন্য নতুনদের জন্য উত্তম হলো যারা পূর্ব থেকে এই কাজে নিয়োজিত আছেন তাদের সাথে পরামর্শ করে নেয়া। যাতে অনাকাঙ্খিত হট্টগোল এড়ানো সম্ভব হয়। তবলিগওয়ালা ভাইরা মাশা'আল্লাহ একাজে এক্সপার্ট। তবলিগওয়ালা ভাইদের পছন্দ না হলে য়ালেম ওলামাদের সাথে পরামর্শ করা যেতে পারে। কিন্তু দাওয়াতের কাজ আমরা শুরু করি ও জারী রাখি। কারণ আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন আমাদের তাঁর প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন। এর কী অর্থ বুঝার চেষ্টা করি। তাছাড়া আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের অবর্তমানে দাওয়াতের কাজ এ উম্মতের উপরই করবে। আপনার মেহনত, চিন্তা-ফিকিরে একজন পথহারাও যদি পথ খুঁজে পায়, তবে ইনশা'ল্লাহ এটাই আপনার আখিরাতের বড় কামাই।

(বি•দ্র• লেখাটির কোন অংশ কারো বুঝতে অসুবিধা হলে আমার পরামর্শ হলো ধৈর্য্য ধরুন। মনে মনে উত্তরটি খুঁজতে থাকুন। ইনশা'আল্লাহ সহসা আপনি উত্তর পাবেন। প্রশ্ন করে জানার চেয়ে এভাবে জানাটা আপনার বেশি উপকারী হবে।


পড়ুনঃ
সাম্প্রদায়িকতার কবলে গোপালদা
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×