somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইতিকাফ - প্রেমাস্পদের দুয়ারে অবস্থান

১৯ শে জুলাই, ২০১৪ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[সমস্ত প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহতায়ালার জন্য। দরূদ ও সালাম আল্লাহর রসূল, দোজাহানের সর্দার, বিশ্বশান্তির একমাত্র আদর্শ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। আমরা দোয়া করি আল্লাহতায়ালা লেখক ও পাঠক উভয়পক্ষকেই হেদায়াত দান করুন। আমীন]


রমজানের শেষ দশক সমাগত প্রায়। পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা বাজার আর কিছু সময় বাকী মাত্র। নিজের গুনাহ কী মাফ করাতে পেরেছেন এ' চিন্তায় আল্লাহর অলীরা অস্থির। তাদের জন্য শেষ সুযোগ অপেক্ষা করছে, ইতিকাফ। হতে পারে আপনার জন্য এটাই শেষ সুযোগ। আমার জন্যও। তাই সুযোগকে কাজে লাগানোর কথা ভাবছেন? তাড়াতাড়ি য়ামালের খাতাটা নিয়ে বসেন। কেমন কাটালেন ২০ টা দিন? ক্ষমা কী জুটেছে? ফেরেশতারা এখনো ঘোষণা দিয়েই যাচ্ছেন। "হে কল্যাণকামীরা! আগে বাড়ো। অকল্যাণকামীরা! থেমে যাও।" একদিকে ছিল বিশ্বকাপের ফেতনার আহবান। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ভেজাল দেয়া, ঠকানো ও চাঁদাবাজির আহবান। অন্যদিকে ছিলো সালাত, যাকাত, সিয়াম, তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, দান-সদকার আহবান। একদিকে হক্বের আহবান। অন্যদিকে বাতিলের, ফেতনার আহবান। অনেকে মার্কেটে মার্কেটে ঘুরে সালাত ও সিয়ামের বারোটা বাজাচ্ছেন। একটা পরিধেয় বস্ত্র কিনতে তিন মার্কেট ঘুরাঘুরি। দ্বীনের ব্যাপারে যারা অনেক সচেতন তাদের অনেকেই রমজানের পূর্বেই সাধ্যমত প্রয়োজনীয় পোশাক ও মালামাল ক্রয় করে রেখেছেন। যাতে সিয়াম সাধনায় বিঘ্ন না ঘটে। আল্লাহর নেক বান্দারা যারা বেতনের অপেক্ষায় আছেন তারা মার্কেটে খুব কম সময় অবস্থান করার পরিকল্পনা করছেন। পরীক্ষার শেষ ঘণ্টায় যতটুকু বেশি সম্ভব সময়কে কাজে লাগানো। এক মুহূর্ত নেই সময় নষ্ট করার। এই শেষ মুহূর্তের বড় সুযোগ হলো 'ইতিকাফ।' স্বাভাবিকভাবেই আল্লাহর ওলীরা চাইবেন না এ' সুযোগ হাতছাড়া করার। আমরা যারা আছি সাধারণ রোযাদার তাদের জন্যও কিন্তু এ সুযোগটি উন্মুক্ত। কে জানে পরের বছর সুযোগ আসে কিনা।

আল্লাহর রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর ইতিকাফ করতেন। রমজান মাসে যুদ্ধ হয়েছে। দ্বীনের কাজের বহু ব্যস্ততা ছিল। তারপরও ইতিকাফটা তিনি সবসময়ই করতেন। আপনিও আসুন না ভাই, আল্লাহর রসূলের একটা সুন্নতকে নিজের জীবনে জিন্দাহ করি। সমাজে প্রতিষ্ঠিত করি। শেষ জমানায় যখন সুন্নতের ওপর চলাটা হাতে জ্বলন্ত অঙ্গার নেয়ার চাইতেও কষ্টকর হবে তখন একটা ছোট থেকে ছোট সুন্নত জিন্দাহ করনেওয়ালাকে আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন ১০০ শহীদের সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন। সুবহানাল্লাহ। এই শেষ জমানায় কতইনা তারা সৌভাগ্যবান যাদেরকে আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন ইতিকাফের মতো একটা এত বড় আধ্যাত্মিক য়ামলের জন্য কবুল করেন। তো এর জন্য চাই হিম্মত। হিম্মত করনেওয়ালারাই পারেন কল্যণের দিকে আগে বাড়তে। অকল্যাণকে রুখে দিতে। আসুন না ভাই, দশটা দিনইতো। তাও সাধারণ কোন দিন নয়। রমজান মাসের দিন ও রাত্রি। যখন আল্লাহর রহমত ঝরে অবিরত। রমজানের রাত্রিগুলোতে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালা অসংখ্য বান্দাহকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফয়সালা করেন। আসুন ভাই সিদ্ধান্ত নেই এখনই। আর মাত্র কয়েকটি ঘণ্টা বাকী। যেতে হবে আজ সন্ধ্যার আগেই। ইফতার করতে হবে মসজিদে।

ইতিকাফের আধ্যাত্মিকতাঃ

ইতিকাফের আধ্যাত্মিকতা অনন্য। এ যেন প্রমাস্পদের দুয়ারে অবস্থান ধর্মঘট। হে আল্লাহ! হে আমার ও জগতসমূহের প্রতিপালক! তুমি যদি আমাকে ক্ষমা নাই কর, আমি যাব না। আমি আজ কোথাও যাব না। তোমার ঘরে আসবাবহীন মুসাফিরের মতো থাকব পড়ে।

"অনেকটা সময় গড়িয়েছে জীবনের, গুনাহে ছিলাম লিপ্ত।
তোমার কাছে এসেছি আজ হয়ে গো মাওলা রিক্ত।"


পরম করুণাময় আল্লাহ রব্বুল য়ালামীনের রহমতের ধারা কী এ অনুশোচনায় সিক্ত ব্যক্তির আকুতিতে প্রবাহিত না হয়ে পারে! দয়ালু মেজবান কী কখনও পারেন সম্মানিত মেহমানকে অসম্মান করতে!

বস্তুতঃ ইতিকাফের আধ্যাত্মিকতা আরও বিস্তৃত যা এ লেখকের কলম ধারণ করতে অক্ষম। আস্তাগফিরুল্লাহ।

ইতিকাফ বিষয়ে কুরআন ও হাদীস উভয় স্থানেই যথাযথ গুরুত্বের সাথে বর্ণিত আছে। আগ্রহীগণ তালাশ করে নিতে পারেন। আছে হৃদয়গ্রাহী হাদীস। আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলতো আমাদের আহবান করেছেন। এখন আমরা কি সে আহবানে সাড়া দিব না সে দিনের পূর্বে যেদিন আমাদের আর করার কিছুই থাকবে না? হাত পা বেঁধে যেদিন মসজিদে নেয়া হবে তার আগে কি আমরা মসজিদওয়ালার সাথে তায়াল্লুক রাখব না?

আল্লাহ কবুল করুন। আমীন।


পড়ুনঃ

আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর রহমতে হয়ে গেল ১০ দিন ছুটি।


ইনশা'আল্লাহ আসিতেছেঃ

(১) একটি চার আনার পুঁটিমাছ ও লাল কাতলের গল্প।

(২) বাচ্চাদের জন্য "বর্ণে বর্ণে জ্ঞানশিক্ষা।" আপনার ছেলে, মেয়ে, ছোট ভাইবোন, ভাতিজার জন্য। এটাচড থাকুন।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১৪ সকাল ১১:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×