পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন ঘোষণা করেন,
وَمَنۡ أَحۡسَنُ قَوۡلٗا مِّمَّن دَعَآ إِلَى ٱللَّهِ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ
"ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহ তায়ালার দিকে ডাকে এবং নিজে নেক আমল করে ও বলে যে, নিশ্চয় আমি মুসলমানদের মধ্য হতে একজন"। (সূরা হা-মীম সিজদাহ, আয়াতঃ ৩৩)
তসলিমা নাসরিনসহ অন্যান্য নাস্তিকেরা যদি দুনিয়ার সামান্য লাভ ও পরিচিতি প্রাপ্তির মোহে লেখালেখি ও বক্তব্যের মাধ্যমে অনবরত নাস্তিক্যবাদ প্রচার করতে পারে, তাহলে,
আমি আপনি আখিরাতের অসামান্য লাভ ও আল্লাহ রব্বুল য়ালামীনের রাজি-খুশি ও সন্তুষ্টির জন্য কেন একত্ববাদ বা তাওহীদের প্রচার করতে পারব না।
তসলিমা ও তার সহযোগী নাস্তিকদের অনেকে নাস্তিকতাবাদ প্রচারে সময় দিতে গিয়ে তাদের দুনিয়াবী ক্যারিয়ার ও পেশাগত দক্ষতাকে নষ্ট করেছে। যদি আজকে তসলিমা দেশে ফিরে আসে তবে এটা নিশ্চিত যে সে আর ডাক্তারীর মত মহান পেশায় কাজ করতে পারবে না। কারণ দীর্ঘদিন প্র্যাকটিস না করার ফলে প্রথমত সে কনফিডেণ্ট হারাবে। দ্বিতীয়ত রোগীরাও সম্ভবত একজন অপেশাদার চিকিৎসকের কাছে নিজের অসুস্থ দেহকে সমর্পণ করতে ইচ্ছুক হবে না। এভাবে নিজের যৌবনের উজ্জ্বল সময়টা তারা হেলায় নষ্ট করে। ফলে শেষ জীবনে তাদের 'নাস্তিকতা পেশা' ছাড়া অন্য কোন ভদ্র পেশায় যোগ্যতার সাক্ষর রাখতে পারে না। এজন্য আপনারা দেখবেন নাস্তিকরা বৃদ্ধ বয়সে যখন তাদের মৃত্যুচিন্তা করার কথা, তখন তারা ইহুদী-খ্রীস্টান-হিন্দু-বৌদ্ধ ও পথভ্রস্ট তরুণ-তরুনীদের কাছে নাস্তিকতার বস্তাপচা প্রোডাক্ট বেঁচে নিজের রুজি-রোজগারের ধান্ধায় ব্যস্ত থাকে। বয়স বাড়তে থাকে। পরিণত হয় বৃদ্ধ শয়তানে। এরই মধ্যে একদিন মালাকুল মউত এসে তাদের এক টান মেরে পরকালে নিয়ে যায়। যেখানে তাদের জন্য প্রস্তুত আছে জাহান্নাম, অর্থাৎ, আগুনের শাস্তি। যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। এবং তাদের খাদ্য হবে কাটা ও পুজ। কত নিকৃষ্ট সে বাসস্থান।
অন্যদিকে আপনি যদি তাওহীদ বা একত্ববাদের প্রচার করেন, অর্থাৎ, একত্ববাদের দিকে মানুষকে ডাকেন তাহলে আপনি আখিরাতে লাভবান হবেন। আপনার দুনিয়াবী জীবনেও আল্লাহ তায়ালা বরকত দান করবেন। আপনারা একটু খেয়াল করলে দেখবেন, অনেক বড় বড় আলেম-উলামা, ডাক্তার, ইঞ্জীনিয়ার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী তাদের জীবনকে এ দুনিয়ার বুকে আল্লাহর দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের জন্য ব্যয় করছেন। এর বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তাদের দুনিয়ার জীবনে অনেক বরকত দান করেছেন। তাদের নেক স্ত্রী ও নেক সন্তান দান করেছেন। তাদের পরমুখাপেক্ষী হওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন। তাদেরকে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা দান করেছেন। যারা অসুস্থ হয়েছেন তাদেরকে রোগমুক্ত করেছেন। আর আখিরাতে তাদের জন্য আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন প্রস্তুত রেখেছেন চিরস্থায়ী জান্নাত, যার তলদেশে নহর সমূহ প্রবাহিত। এর কারণ তারা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকেই ভয় করেন ও দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত বা আদর্শকে অনুসরণ করেন।
তাই আসুন আমরা নিজেরা দ্বীনের ওপর চলি এবং দ্বীনের প্রচার প্রসারে আমাদের জান, মাল ও সময়কে ব্যয় করি। এতে আমাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে শান্তি ও সফলতা ইনশাআল্লাহ আসবে।
আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন আমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন।
পড়ুনঃ
একটি চার আনার পুঁটিমাছ ও লাল কাতলের গল্প

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


