somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার আমি..............(2)

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক জীবনে কতজন মানুষ সুখী হয়? এই প্রশ্নের উত্তরটা মনে হয় আমি জানি। তা হলো কেউ না। যার বাড়ী-গাড়ি, টাকা-পয়সা অঢেল আছে, বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদা নিয়ে চিন্তা নেই, তারও অপ্রাপ্তি আছে। আবার যার ধন-সম্পদ নেই, কিন্তুবাঁধাই করা ছবির মত সুন্দর একটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন আছে, সেও অসুখী। আসলে জীবনের একঘেঁয়েমি থেকে দূরে থাকার জন্য নিজেকে অসুখী মনে করা খুবই জরুরী।মানুষ অসুখী থাকে দেখেই সুখের খোঁজে ব্যস্ত জীবন-যাপন করে। এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। অনেকই হয়ত দ্্বিমত পোষন করবেন।

ছোটবেলায় অবশ্য জীবনের এই জটিল প্যাঁচ নিয়ে কুটিল চিন্তাভাবনা ছিল না। সে জন্যই সময়টা ছিল স্বপ্নসময়। আমার মনে আছে বছরের মাঝে আব্বার হঠাৎ করে বদলি হয়ে গেল সাভারে। আমি তখন কেজিতে পড়ি। এক অজানা কারণে আমাকে তখন নতুন স্কুলের ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করে দেয়া হয়েছিল। একে কেজি থেকে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি , তার উপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসল মিড টার্ম পরীক্ষা। কপাল এমনই খারাপ আমি যেদিন ভর্তি হলাম সেদিন থেকে পরীক্ষা শুরু হলো। ক্লাসে ধাতসহ হয়ে উঠার আগেই ম্যাডাম এসে বোর্ডে প্রশ্ন লেখা শুরু করলেন। আগেই বলেছি জীবনের কুটিল চিন্তাভাবনা করার সময় তখনও হয়নি। তাই "টুকলিফাই" করে পরীক্ষার খাতায় যে লেখা যায়, তা তখনও বুঝে উঠিনি। তাই ম্যাডাম বোর্ডে যা লিখলেন আমি সময়ক্ষেপণ না করে বাধ্য ছেলের মত হুবহু তা পরীক্ষার খাতায় তুলে দিলাম।

একে একে সবগুলো বিষয়ের পরীক্ষা হয়ে গেল। যথাসময়ে ফলাফলও বের হলো। প্রতি বিষয়ে অশ্বডিম্ব লাভের অভঙ্গুর রেকর্ড আমার হাতে চলে আসল। আগেই বলেছি আমার বড়বোনের ঈর্ষনীয় একাডেমিক সাফল্যের কথা। তার দূদর্ান্ত পারফরমেন্সের পাশে আমার এই অভঙ্গুর, জ্বালাময়ী রেকর্ড ম্লান হয়ে গেল। আমার বাবা-মাও বাস্তবতা মেনে নিয়ে আমার এই পারফরমেন্সে হাসবেন না কাঁদবেন বুঝতে না পেরে সম্ভবত আমাকে সান্তনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বলাইবাহুল্য তাদের কাছ থেকে আশার বাণী শুনে আমার বুকের ছাতি তিনগুন হয়ে গেল এবং আমি মনে করলাম প্রতি বিষয়ে ডাবল জিরো পাওয়া আমার বড় বোনের একাডেমিক সাফল্যের থেকেও বড় সাফল্য । ফলে বাসায় যেই আসত তাকে আমি বেশ গর্ব করে বলা শুরু করলাম "জানেন আমি না সব বিষয়ে ডাবল জিরো পেয়েছি।" কিছু মানুষ ব্যাপারটাতে এত মজা পেয়েছিলেন যে আজও রাস্তাঘাটে দেখা হলে তারা ওই প্রসঙ্গ টেনে এনে আমাকে বিব্রত করার চেষ্টা করেন। তবে একটা মজার বিষয় হলো এই ব্যাপারটিতে আমি তখনও বিব্রত হই নি, এখনও হই না। আমি বরাবরই ব্যাপারটা উপভোগ করে এসেছি।

ডাবল জিরো আমি এরপরও অনেক পরীক্ষায় পেয়েছি। কিন্তু প্রথমবারের মত কখনও বাসায় এসে বলিনি সেকথা। আর "টুকলিফাই" তো আমার ছাত্রজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইউনিভাসির্টির ক্লাস টেস্টগুলো আমি এবং আমার সহপাঠীরা "টুকলিফাই"কে শিল্পের পযর্ায়ে নিয়ে গিয়েছিলাম।জীবনের কঠিন বাস্তবতা কত কিছুই না শিখিয়েছে আমাকে!!


(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৯
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×