ছোটবেলায় অবশ্য জীবনের এই জটিল প্যাঁচ নিয়ে কুটিল চিন্তাভাবনা ছিল না। সে জন্যই সময়টা ছিল স্বপ্নসময়। আমার মনে আছে বছরের মাঝে আব্বার হঠাৎ করে বদলি হয়ে গেল সাভারে। আমি তখন কেজিতে পড়ি। এক অজানা কারণে আমাকে তখন নতুন স্কুলের ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করে দেয়া হয়েছিল। একে কেজি থেকে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি , তার উপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসল মিড টার্ম পরীক্ষা। কপাল এমনই খারাপ আমি যেদিন ভর্তি হলাম সেদিন থেকে পরীক্ষা শুরু হলো। ক্লাসে ধাতসহ হয়ে উঠার আগেই ম্যাডাম এসে বোর্ডে প্রশ্ন লেখা শুরু করলেন। আগেই বলেছি জীবনের কুটিল চিন্তাভাবনা করার সময় তখনও হয়নি। তাই "টুকলিফাই" করে পরীক্ষার খাতায় যে লেখা যায়, তা তখনও বুঝে উঠিনি। তাই ম্যাডাম বোর্ডে যা লিখলেন আমি সময়ক্ষেপণ না করে বাধ্য ছেলের মত হুবহু তা পরীক্ষার খাতায় তুলে দিলাম।
একে একে সবগুলো বিষয়ের পরীক্ষা হয়ে গেল। যথাসময়ে ফলাফলও বের হলো। প্রতি বিষয়ে অশ্বডিম্ব লাভের অভঙ্গুর রেকর্ড আমার হাতে চলে আসল। আগেই বলেছি আমার বড়বোনের ঈর্ষনীয় একাডেমিক সাফল্যের কথা। তার দূদর্ান্ত পারফরমেন্সের পাশে আমার এই অভঙ্গুর, জ্বালাময়ী রেকর্ড ম্লান হয়ে গেল। আমার বাবা-মাও বাস্তবতা মেনে নিয়ে আমার এই পারফরমেন্সে হাসবেন না কাঁদবেন বুঝতে না পেরে সম্ভবত আমাকে সান্তনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বলাইবাহুল্য তাদের কাছ থেকে আশার বাণী শুনে আমার বুকের ছাতি তিনগুন হয়ে গেল এবং আমি মনে করলাম প্রতি বিষয়ে ডাবল জিরো পাওয়া আমার বড় বোনের একাডেমিক সাফল্যের থেকেও বড় সাফল্য । ফলে বাসায় যেই আসত তাকে আমি বেশ গর্ব করে বলা শুরু করলাম "জানেন আমি না সব বিষয়ে ডাবল জিরো পেয়েছি।" কিছু মানুষ ব্যাপারটাতে এত মজা পেয়েছিলেন যে আজও রাস্তাঘাটে দেখা হলে তারা ওই প্রসঙ্গ টেনে এনে আমাকে বিব্রত করার চেষ্টা করেন। তবে একটা মজার বিষয় হলো এই ব্যাপারটিতে আমি তখনও বিব্রত হই নি, এখনও হই না। আমি বরাবরই ব্যাপারটা উপভোগ করে এসেছি।
ডাবল জিরো আমি এরপরও অনেক পরীক্ষায় পেয়েছি। কিন্তু প্রথমবারের মত কখনও বাসায় এসে বলিনি সেকথা। আর "টুকলিফাই" তো আমার ছাত্রজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইউনিভাসির্টির ক্লাস টেস্টগুলো আমি এবং আমার সহপাঠীরা "টুকলিফাই"কে শিল্পের পযর্ায়ে নিয়ে গিয়েছিলাম।জীবনের কঠিন বাস্তবতা কত কিছুই না শিখিয়েছে আমাকে!!
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







