পাইলট খুব সম্ভবত উপমহাদেশের সেরা উইকেট কিপার। তার ব্যাটিং সামথর্্য হয়ত এডাম গিলক্রিস্টের মত নয়, তবে দুযের্াগের দিনে তিনি ব্যাট নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে অনেকবার ইনিংসের হাল ধরেছেন। তার স্ট্রাইক রেট খুব একটা হয়তো ভালো নয়। কিন্তু ভালো হবে কিভাবে? ক্রিজে এসে যদি কেউ দেখেন ইনিংসের হাল 5/40, তাহলে স্ট্রাইক রেটের চেয়ে মাটি কামড়ে পড়ে থাকাটা তখন জরুরী হয়ে পড়ে। তাছাড়া কেনিয়ার বিপক্ষে আই সি সি ট্রফির ফাইনালে শেষ ওভারের প্রথম বলে তার মারা ছককার কথা ক্রিকেট ফ্যানরা নিশ্চয়ই ভুলে যান নি।
বিগত কয়েকটি সিরিজেই দেখা গেছে পাইলট যেন দলে এক অনাকা িঙ্ক্ষত মুখ। নানা অজুহাতে তাকে দলের বাইরে রেখে মুশফিকুর রহিম নামক এক ছোকরাকে বার বার সুযোগ দেয়া হয়েছে। বলাইবাহুল্য সে তার নৈপূণ্য প্রমানে প্রতিবার ব্যর্থ হয়েছে। জিম্বাবুয়ে সফরে তার 31 গড়ের 3/4 টি ইনিংসের কারনে বিশ্বকাপের দ্্বার উন্মোচন করে দেয়াটা খুবই দৃষ্টিকটু একটি ব্যাপার। জিম্বাবুয়ের বর্তমান দলের মান সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত এবং এই দলের বিরুদ্ধে ভালো পারফরমেন্স যে তেমন গর্বের ব্যাপার নয়, তা বোধকরি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও জানেন। বিশ্বকাপের মত বড় আসরে অভিজ্ঞতা একটা বিশাল ফ্যাক্টর। সে জন্যই নিউজিল্যান্ড ড্যারিল টাফির মত খেলোয়াড়কে অবজ্ঞা করেনি। এরকম উদাহরন শুধু ক্রিকেট কেন যেকোন খেলাতেই দেখা যায়। উইকেটের পিছন দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে যখন সহজলভ্য এক্সট্রা রান প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের মত বড় আসরে পাবে বা ঘাগু ব্যাটসম্যানরা যখন একের পর এক জীবন পেয়ে বোলারদের তুলোধুনো করবেন, তখন নির্বাচকরা কি অজুহাত দাঁড় করান তা শোনার অপেক্ষায় রইলাম।
প্রসঙ্গত না বলে পারছি না যে স্কোয়াডে চার-চারজন ওপেনার নেয়া হয়েছে। 15 সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে চার ওপেনারের অন্তভর্ূক্তির নজির মনে হয় ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম । শাহরিয়ার নাফিসের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার আমার নেই। সে বাংলাদেশ দলের সর্বকালের সেরা 3/4 জন পারফমর্ারের মাঝে একজন। কিন্তু জাভেদকে নেয়ার কারন হিসাবে বলা হয়েছে সিটি ক্লাবের বিরুদ্ধে নাকি তিনি সমপ্রতি নজরকাড়া সেঞ্চুরি করেছেন । লাফিয়ে উঠা বলে জাভেদের দক্ষতা (!) আমরা সবাই জানি। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাউন্সি উইকেটের কথা চিন্তা করলে জাভেদের অন্তভর্ূক্তি প্রশ্নসাপেক্ষ বৈকি।
আরেকজন তথাকথিত টিনেজ সেনসেশন তামিম ইকবালের সুযোগ পাওয়াটা কি কোন অদৃশ্য মহলের নির্দেশে কিনা তাও এ মুহুর্তে পরিষ্কার নয়। তামিমের অগ্রজ নাফিস এক সময় বাংলাদেশ দলের অনিয়মিত পারফমর্ার হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত সদস্য ছিলেন। তাছাড়া তামিম জিম্বাবুয়ের মত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তামিমের অন্তভর্ূক্তিও প্রশ্নসাপেক্ষ বটে।
আমি বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের একজন অন্ধ ভক্ত ও সমর্থক। আমি চাই দেশের সেরা ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের মত আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করুক। যদি কোন অদৃশ্য মহলের ইঙ্গিতে বা ব্যক্তিগত কারনে কোন সামর্থবান ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে প্রশ্নসাপেক্ষ মুখ দলে জায়গা করে নেয়, তাহলে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই ও ধিককার দেই সেসব মানুষকে যারা দেশের সেরা সম্পদ, আমাদের গর্বআমাদের ভালোবাসার ক্রিকেট দলকে কলুষিত করছেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৮:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


