somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতিতে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ...........(1)

১৩ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

1992

ক্রিকেট বিশ্বকাপের সাথে পরিচয় 1992 সালে।1987 সালে বয়স খুব কম ছিল, তাই ততটা আগ্রহ ছিল না। 1992 সালের বিশ্বকাপের কথাও তেমন মনে করতে পারি না। ক্রিকেটের প্রতি অগ্রহটা তখনও তেমন জন্মে নি। তবে কিছু কিছু দৃশ্য খুব স্পষ্ট মনে করতে পারি। নিউজিল্যান্ডের বিশাল ফ্যান হয়ে গিয়েছিলাম আমি তখন। মনে আছে মার্টিন ক্রো হয়েছিলেন ম্যান অব দ্য সিরিজ। পুরষ্কার হিসাবে পেয়েছিলেন নিসানের চমৎকার লাল রঙের একটি গাড়ি।সেমি ফাইনালে নিউজিল্যান্ড যখন পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় তখন মার্টিন ক্রো মাঠের বাইরে। সম্ভবত ওয়াকার/ওয়াসিমের বলে আঘাত পেয়ে তিনি ফিলডিং করেন নি। টিভি পদার্য় বার বার ভেসে উঠছিল মার্টিন ক্রোর উদ্্বিগ্ন চেহারা ও লাল রঙের নিসান গাড়িটা। সেই ম্যাচের পর থেকে আমি পাকিস্তানকে দু'চোখে দেখতে পারি না।

1992 এর স্মৃতিতে আরও আছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রেইগ ম্যাকডারমেটের বাউন্ডারি ফেন্সের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ ধরার দৃশ্য। সম্ভবত ওটা ছয় হয়ে গিয়েছিল। আর ফাইনালের দু'টো দৃশ্য মনে আছে প্রথমটা হলো ইমরান খানের বলে ইংল্যান্ডের শেষ ব্যাটসম্যানের লং অফে ক্যাচ তুলে দেয়া ও দ্্বিতীয়টি হলো ক্রিস্টালের রুপালি কাপ হাতে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের উল্লাস। আরও মনে আছে আমার খেলার সাথী অভির "হুলোব্যাট" "হুলোব্যাট" গানের সাথে নর্তন-কুর্দন। গানের কথা ছিল অভির স্বরচিত, শব্দগুলো ছিল অজানা ভাষার ও সুর ছিল টারজান সিনেমার জংলীদের গানের মত। অভির খুশির কারনটাও ছিল বেশ। তার এক কথা একটা মুসলিম দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে। অভির আম্মা বলতেন, তাহলে হামদ নাত পড়, গান-বাজনা বাদ দিয়ে।

1996

এই বিশ্বকাপ ছিল আমার জীবনের সেরা উপভোগ্য ক্রিকেট বিশ্বকাপ। শেখ হাসিনার বদৌলতে তখন লাগাতার হরতাল। সেই সুযোগে আমাদের তখন পোয়াবার। খেলা ভারত-পাকিস্তানে হওয়ায় সময় মিলে গিয়েছিল চমৎকারভাবে। এই বিশ্বকাপে আমি ছিলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের কড়া সমর্থক। মনে আছে কোয়াটর্ার ফাইনালে ব্রায়ান লারার 111 রানের ইনিংসটির কথা। প্যাট সিমকক্সের এক ওভারে পর পর 5 টি চার মারার দৃশ্য আমি কখনই ভুলব না। সেই ওভারে লারার ব্যাটিঙে ছিল না কোন স্লগিং, ছিল শিল্পীর হাতের ছোঁয়া। দূদর্ান্ত হ্যান্সি ক্রোনিয়ের দুর্দমনীয় দক্ষিন আফ্রিকাকে পরাজিত করার ঘটনাটি ছিল সেই বিশ্বকাপের বিশাল আপসেট।

সেমি ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজয় দেখে কচু গাছে গলায় দড়ি দিতে ইচ্ছা করেছিল। 207 রান তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল এক সময় 162/2। কিন্তু মার্ক টেইলরের দূর্ধর্ষ অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া 5 রানে জয়ী হয়। খেলার অন্তিম মুহুর্তে রিচি রিচার্ডসনের সুইপ শট স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে থাকা আম্পায়ারের মাথায় লাগলে নিশ্চিত চার বঞ্চিত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই বিশ্বকাপেই আমার পরিচিতি ঘটে মার্ক টেইলরের দারুন ক্যাপ্টেন্সির সাথে। আমার জীবনে দেখা সেরা দুই ক্রিকেট অধিনায়কের একজন মার্ক টেইলর ও অন্যজন হ্যান্সি ক্রোনিয়ে। আজও অনেক অস্ট্রেলিয়ানকে দেখি মার্ক টেইলরের গুণকীর্তন করতে। তাদের বক্তব্য যে দল স্টিভ ওয়াহ বা রিকি পন্টিং চালিয়েছে, সে দলের অধিনায়কের দরকার নেই। কারন তারা একটা অলস্টার টিম। কিন্তু এই অলস্টার দলের কারিগর ছিল মার্ক টেইলর। কথাটা মিথ্যা নয় বলেই আমার ধারণা।

1996 এর বিশ্বকাপের দ্্বিতীয় সেমি ফাইনালের কথা কখনই ভুলব না । প্রথম ওভারে পর পর দুই বলে কালুভিথারানা ও জয়াসুরিয়া আউট হয়ে যাবার পরও শ্রীলংকা ডি সিলভার ব্যাটিঙে ভাল স্কোর করে। আর ভারত 96/1 থেকে 120/8 এ পরিণত হয় মাত্র কয়েক ওভারের ব্যবধানে। দর্শকরা গন্ডগোল শুরু করলে বিনোদ কাম্বলির কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়ার দৃশ্য ভুলি কি ভাবে? আজহারউদ্দিন টসে জিতেও কেন সেদিন প্রথমে ব্যাটিঙের সিদ্ধান্ত নেয় নি এটা আজও আমার কাছে বিস্ময়কর লাগে। সবাই জানত রাতে ইডেনের পিচে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পায়। তবুও ভারত শ্রীলংকাকে রাতের বাড়তি সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ম্যাচের পর "ইডেন এন্ড আজহার, মেড ফর ইচ আদার" স্লোগানটি আর দেখি নি।


(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×