somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি শ্রীকান্তকে বলছি..............

১৯ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারতীয়দের নাক উঁচু স্বভাবের এখনও পরিবর্তন ঘটে নি। শ্রীকান্ত তার কলামে রাহুল দ্্রাবিড়ের অধিনায়কত্বের সমালোচনা করেছেন ও সবাইকে দোষারোপ করেছেন নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকমত পালন না করতে পারাকে। অভদ্্রলোকটি কোথাও বলেননি যে বাংলাদেশ ভাল খেলেছে। বরং এক জায়গায় লিখেছেন যে বাংলাদেশি বোলাররা নাকি খুব অরডিনারি বোলিং করেছে ও উইকেট টু উইকেট বল করেছে। আমার কথা হলো যদি আমাদের খেলোয়াড়রা ভাল নাই-ই খেলে থাকে, তবে এত বিখ্যাত ও অভিজ্ঞ লাইন আপ নিয়ে ভারত কেন এভাবে ভেঙ্গে পড়ল। অন্যের প্রাপ্য সম্মানটুকু যারা দিতে কুন্ ঠাবোধ করেন, তাদের মত ক্রিকেটবোদ্ধাদের কলাম লেখার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়।

আরও একটা কথা না বলে পারছি না, তা হলো ভারতীয়রা বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের ব্যাটিং লাইন আপ পৃথিবীর নাকি সেরা লাইন আপ। এই দাবি ভারতীয়দের গত 4/5 বছর ধরেই। প্রসঙ্গত বলে রাখি শ্রীকান্ত সাহেব তার কলামে এটাও উল্লেখ করেছেন। আমার কথা হলো এরকম অমূলক দাবির অর্থ কি? অস্ট্রেলিয়ার পন্টিং-গিলক্রিস্ট-হেইডেন-সাইমন্ডস-ল্যাঙ্গার সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইন আপের চেয়েও কি ভারতীয় লাইন আপ ভাল ছিল। স্বীকার করি যে অনেক ভারতীয় খেলোয়াড়েরই ঈর্ষনীয় সংগ্রহ আছে। কিন্তু এটাও মনে রাখা উচিৎ যে তাদের ব্যাটিং লাইন আপের স্বীকৃত তারকা ব্যাটসম্যানরা পৃথিবীর যে কোন ব্যাটসম্যানদের চেয়ে 50 বা ততোধিক ওয়ানডে ও 20 বা ততোধিক টেস্ট খেলেছে। যার কারনেই পন্টিং-গিলক্রিস্টদের মোট ক্যারিয়ারের রান শচীন-দ্্রাবিড়ের চেয়ে কম। তাই বলে আমি দাবি করছি না যে শচীন-দ্্রাবিড় খারাপ খেলোয়াড়। তারা অবশ্যই খুব ভাল খেলোয়াড় এবং এক সময়ের শীর্ষ ব্যাটসম্যান। তাই তাদের অর্জনকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। কথা হলো একটা দলের লাইন আপ তখনই বিশ্বসেরা হবে যখন সেখানে স্বীকৃত নিয়মিত পারফমর্াররা থাকবে। সেজন্যই ভারতীয়া লাইনআপকে আমার কখনই অস্ট্রেলিয়ার ধারে কাছে মনে হয় নি।

ভারত একটা আজব জায়গা। একদিনের পারফমর্ারকে সেখানে সুপারস্টার বানানো হয়, আবার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত পারফমর্ারকে আবর্জনায় ছুঁড়ে ফেলা হয়। উদাহরন- ধোনি ও গাঙ্গুলি। দক্ষিন আফ্রিকা আমার সব সময়ের সেরা পছন্দের টিমের একটা। অবশ্যই যখন হ্যান্সি ক্রোনিয়ে অধিনায়ক ছিলেন। এই একজন অধিনায়ককে আমি ইতিহাসের সবচেয়ে অভাগা অধিনায়ক বলব। দুনিয়া সেরা ব্যাটিং ও বোলিং লাইন আপ নিয়ে তাদের কোন অর্জন নেই বললেই চলে। অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন অধিনায়ক মার্ক টেইলরও দক্ষিন আফ্রিকাকে সেরা বলে মানতেন। দুভর্াগ্য ক্রোনিয়ে ও দক্ষিন আফ্রিকার যে সে সময় র্যাংকিং বলে কিছু ছিল না। থাকলে তারা অবধারিতভাবেই শীর্ষে থাকত। কোন দলের লাইন আপ ভাল হলে নিজেদের ঢোল নিজেদের বাজাতে হয় না। বরং প্রতিপক্ষই স্বীকার করে নেয় তাদের সামথর্্যকে।

টেস্টে অভিষেকের পর থেকেই ভারত যে আমাদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করে আসছে তা আমরা সবাই জানি। সমস্ত আই সি সির পূর্ণসদস্য দেশগুলো পূণর্াঙ্গ টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ বাংলাদেশকে দিলেও দীর্ঘ সাত বছরে ভারতের সে সময়টুকু হয়নি। আমার প্রশ্ন হলো তাদের খেলোয়াড়দের মেকআপ করার সময় থাকে, ফিল্মে অভিনয়ের সময় থাকে, গান-বাজনা করার সয় থাকে, বিজ্ঞাপন করার সময় থাকে, কিন্তু একটা 2 টেস্টের সিরিজ খেলার সময় থাকে না? তাও নিজের দেশে? এ ধরনের নিকৃষ্ট আচরণের জন্য 17ই মার্চের মত একটা দিনের অপেক্ষায় ছিল আমাদের ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটের সবের্াচ্চ আসরে ভারতকে এরকম চপেটাঘাত করার জন্য সাধুবাদ জানাই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের।

আশাকরি ভারতীয় ক্রিকেটবোদ্ধারা ও অন্ধ সমর্থকরা এই তুচ্ছ ব্যাপারটি বুঝবেন ও অন্য দলগুলোকে তাদের প্রাপ্য সম্মান দিবেন। তা নাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশ-কেনিয়া না, নেপাল-ভূটানের কাছে হেরেও পূর্ণ মান-সম্মান জলাঞ্জলি দিতে বেশিদিন লাগবে না। আর আমরাও সেদিনের অপেক্ষায় রইলাম।

মি. শ্রী কান্ত দয়া করে ঘুম থেকে উঠুন ও লুঙ্গি পরার অভ্যাস থাকলে লুঙ্গির গিঁট্টুটা শক্ত করে বাঁধুন। জনসমক্ষে যখন আপনাদের কাছার কাপড় খুলে যাবে, তখন লজ্জা নিবারন করবেন কি দিয়ে? আন্ডারওয়্যার তো বাংলাদেশ অনেক আগেই খুলে নিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×