
ভৌগলিক রেখায় বাংলাদেশ থেকে চীন খানিক দূরত্বে। কিন্তু ব্যবসায়িক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতির এই দেশটির রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব। ইলেকট্রিনক্স, ইলেকট্রিক, প্রযুক্তি, খাদ্য, সেতু, সড়ক, জলবিদ্যুসহ উদীয়ামান সব ব্যবসা সেক্টরে বলতে গেলে চীন স্বল্প ব্যয়ে বিশ্বসেরা। শান্তিরপথে সমৃদ্ধযাত্রায় বিশ্বাসী দেশটি শক্রু মোকাবেলা বা ভূখণ্ড রক্ষা করতে গড়ে তুলেছে বিশাল সমর শক্তিও। জনে জনে মানুষের মাথা না গুণে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা গুণতেও স্বাচ্ছন্দবোধ করে চাইনিজরা। কর্ম, শান্তি আর উৎকর্ষতা সাধনে এজন্য চীনাদের বিকল্প কেবল চীনারাই। যা ভাবিয়ে তুলেছে বর্তমান বিশ্ব মোড়ল মার্কিন মুলুকসহ গোটা পশ্চিমাদের। অবশ্য চীনকে দাবিয়ে রাখতে বা মনস্তাত্বিকভাবে দুর্বল করতে অনেক দেশ উঠেপড়েও লেগেছে। কিন্তু সেটা কতটুকু সম্ভব।

চীন পেরিয়ে মিয়ানমার, ভারত তারপর বাংলাদেশ। এজন্য আমরা প্রতিবেশি বন্ধু দেশ বলতে ভারতকেই বুঝি। ৭১'র যুদ্ধে তাদের অনস্বীকার্য ভূমিকার কারণেও বন্ধুত্বের প্রশ্নটা সবার আগে চলে আসে। কিন্তু ৭১' পরবর্তী ভারতের একচেটিয়া বাণিজ্য সুবিধা, বাংলাদেশের ক্ষমতার পেছনে আষ্ঠেপিষ্ঠে লেগে থাকার একটি অভিযোগ ভারতের বিরুদ্ধে সেই ৪৫ বছর আগেকার। যা একটি শ্রেণীর মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবে নাড়া দিবেই। ক্ষমতার পালাবদলেও না তাদের হাত থাকে। সীমান্তে একচেটিয়া হত্যাকাণ্ড ঘটনােসহ নানা কারণে বাংলাদেশে ভারত বিরোধী একটি গ্রুপ সবসময়েই সক্রিয়। হোক প্রকাশ্যে কি মনে মনে। সোজাসাপ্টা বলতে গেলে, সাবেক ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বরাবরই ভারত বিরোধী মনোভাবের। আর রাজাকারের দোসর জামায়াত তো থাকবেই।

কিন্তু ২০০৯ সালের নির্বাচনে ভরাডুবি আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানো বিএনপি গত এই ৭ বছর ভারত বিরোধী নীতি থেকে ফিরে আসে। এ কারণে গণমাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ ছিলনা। হঠাৎ করে গত কয়েক মাসে বিএনপি পুরনো নীতিতে ফিরে আসে। রামপাল বিদ্যু প্রকল্প নিয়ে খালেদা জিয়ার জোরালো প্রতিবাদে তা স্পষ্ট হয়।
বিএনপি-জামায়াত কী বলুক আর নাই বলুক। বলতে গেলে নানা কারণে এদেশের মানুষের মুখে ভারত বিরোধী একটা বক্তব্য থাকেই। একেকজন সেটাকে একেকভাবে বলে বেড়ায়। কিন্তু চীন নিয়ে কারও সে ধরণের বক্তব্য নেই। কারণ চীন আমাদের প্রতিবেশি নয়। তারাও শক্রুও নয়। প্রকৃত বন্ধুত্বসূলভ আরচণ কেমন হয় সেটা মিয়ারমারের বেলায় চীন প্রমাণ করেছে।

অযাচিত এই হস্তক্ষেপ অবশ্য চীন-জাপানিরা করবেও না। কারণ তারা তো ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে। তাই বলা যায়, চীন-জাপান আমাদের প্রকৃত বন্ধ। এখন সময় এই সম্পর্কটা ধরে রাখা। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা। কাউকে ঢেলে দেওয়া আবার কাউকে শত্রু বানানো নয় (পাকিস্তান বাদে)। বলা বাহুল্য প্রতিবেশি দেশের খবরদারি এড়াতে বাংলাদেশকে অবশ্যই চীন-জাপানের পাশে থাকতে হবে। অটুট বন্ধন ধরে রেখে নিজেদের মাথা উচু করে দাড়ানোর সময়ই এখনই।


সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১০:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



