somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুরে এলাম বোর্নমাউথ

৩১ শে মে, ২০০৬ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মে মাসের শেষ সোমবার ব্যাংক হলিডে। সাপ্তাহিক ছুটি গিয়ে দাঁড়ায় তিনদিনে। সুতরাং সবাই ছুটে নানা দিকে। আমরা এবার ঠিক করলাম সমুদ্র দর্শনেই যাবো। লন্ডনের কাছাকাছি সৈকত ব্রাইটনে অনেকবার যাওয়া হয়েছে। তাই ঠিক করলাম এবার যাবো বোর্নমাউথ। দলে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ালো 6-এ। হলিডে'র সময় হোটেল পাওয়া যায় না। দামও বাড়িয়ে দেয় তারা এসময়। জনপ্রতি প্রতিরাতে 30 পাউন্ডের নীচে কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। থাকা-খাওয়া মিলে বহুটাকার মামলা। একরাত থাকলে খরচ কম হবে।

কিন্তু রনি বলে কথা। ওর গণযোগাযোগে ডিগ্রি আছে। গোটা কয়েক ফোন করে ফ্রি থাকার সুযোগ বের করে ফেললো। এক রেস্টুরেন্ট মালিক স্পনসর করছেন। সেইসাথে তিনি আমাদের দাওয়াত দিলেন একবেলা খাওয়ার। আমাদের তখন বাকবাকুম অবস্থা। শুয়েব আহমেদ শওকতি নামে এক কবি ও রেস্টুরেন্ট মালিক আছেন। তিনি ঘোষণা দিলেন তার রেস্টুরেন্টে সব দিনই আমাদের দাওয়াত। খাওয়া-দাওয়া ও থাকাটা নিশ্চিত হওয়ায় আমরা বাসের টিকেট বুকিং দিলাম।

যদিও মেগাবাস কোম্পানি 1 পাউন্ডেও টিকেট ছাড়ে ছুটির সময় জনপ্রতি তা 16 পাউন্ড রিটার্ন হয়ে গেলো। শনিবার ঘন্টাখানেক আগেই ভিক্টোরিয়ায় গ্রিনলাইন কোচ স্ট্যান্ডে হাজির হয়ে জানলাম বাস আধঘন্টা দেরিতে ছাড়বে। কিন্তু বোর্নমাউথ পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল 5 টা। তবে আবহাওয়াবিদদের ষড়যন্ত্র বাতিল করে দিয়ে আকাশ বৃষ্টিমুক্ত হয়ে গেল। পথে অবশ্য আমরা বৃষ্টি পেয়েছিলাম। কিন্তু বাতাস ছিল প্রচন্ড।

হোটেলে বাক্স পেটরা রেখে আমরা গেলাম পাশের একটি ফিশ এ্যান্ড চিপসের দোকানে। তান্নু মাছ খায়না। সুতরাং ও নিলো মুরগি। বাকীরা সবাই কড ও চিপস। তাজা মাছ ভাজা। সেকি সুস্বাদু। তারপর ছুটলাম বোর্নমাউথ পিয়ারের দিকে।

টাউন সেন্টার থেকে একটি সুন্দর পার্কের মধ্য দিয়ে যেতে হয় সৈকতে। বিশাল এক বেলুন রাখা সেখানে। বেলুনটা যদিও আটকানো মাটির সাথে তবু এতে নাকি চড়া যায়। মাটি থেকে শ' ফুট উপরে নাকি এটা উঠে। খুব একটা আগ্রহ হলো না। তখন অবশ্য বন্ধও ছিলো। হাজির হলাম বোর্নমাউথ পিয়ারে। সব সমুদ্র বন্দরেই এরকম পিয়ার থাকে। কাঠ, লোহা, সিমেন্টের একটা সেতু মত জিনিস। সমুদ্রের ভেতর কিছুটা গিয়ে থেমে গেছে। খোলা জায়গায় সমুদ্রের বাতাসে ঠান্ডা লাগছিলো। তবু মনে হচ্ছিল আমরা সৌভাগ্যবান যে বৃষ্টি হচ্ছে না। পিয়ারের উপর মাঝখানে থিয়েটার। দর্শকরা টিকেট দেখিয়ে ঢুকছে। দুই পাশে উৎসাহী মৎস্যশিকারীরা ছিপ মেলে মাছ ধরছে। একজনকে দেখলাম বেশ কয়েকটা ম্যাকারেল মাছ ধরেছে। খুবই মজার মাছ। আমি কয়েকদিন রেঁধে খেয়েছি। বাসা কাছে হলে কেনার চেষ্টা করতাম।

রাত হয়ে আসছিলো। সুতরাং কবিবর শুয়েবের রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিলাম। মুফতে দেখা হয়ে গেলো বোর্নমাউথ শহরটি। ছোট্ট ছিমছাম শহর। লন্ডনের চেয়ে একেবারে আলাদা। বেশ একটা রিল্যাক্সড ভাব শহর আর তার অধিবাসীদের মধ্যে। শুয়েব আমাদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। ভেতরের দিকে দুটো টেবিলে আমাদের বসালেন। তারপর টেবিল ভরিয়ে ফেললেন খাবার দিয়ে। নিজে একসময় শেফ ছিলেন। তাই আজ তিনিই নির্দেশ দিয়েছেন শেফকে কিভাবে রাঁধতে হবে। আমরা যা খেলাম তার দ্্বিগুণ খাবার নষ্ট হলো। শেষ বাস চলে যাবে বলে সাড়ে এগারোটায় আমরা বিদায় নিলাম। কবি আবার দাওয়াত দিলেন কাল সন্ধ্যায় আসার জন্য। তিনি সকালে দেরী করে ঘুম থেকে উঠেন। দুপুরে তার রেস্টুরেন্ট খুলে না। নইলে দুপুরে আসতে বলতেন। কিন্তু কালকে অন্য একটি রেস্টুরেন্টে আমাদের দাওয়াত। সেটি বদলে দুপুর করা হলো।

ঠিক করলাম পরের দিন ঘুম থেকে উঠে কাছের শহর পুলে যাবো। পুল নাকি পৃথিবীর দ্্বিতীয় বৃহত্তম হার্বার। সিডনি প্রথম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন ভালো না

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



চোরাবালির মতো টেনে ধরা নিঃশব্দ বিকেলে,
অদৃশ্য কিছু হাত ছুঁয়ে যায় ভাঙা স্মৃতির ধূলি,
বেঁচে আছি এইটুক স্বীকারোক্তি,
তোমারে দেখিনা বহুদিন, তবু রয়ে যাও ভীষণ ভুলই।

সমুদ্র ডাকে দূর থেকে নোনা হাওয়ার ভাষায়,
অপেক্ষারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×