রাষ্ট্র মানুষকে মুক্তি দেয় না ক্ষমতাসীনদের শোষণের যন্ত্রকে প্রসারিত করে সে বিতর্ক থাক। তবে স্লোভেনিয়ার মাটির সনত্দানরা শোষিত হতে থাকলো নানা বিদেশি ক্ষমতাধরদের হাতে। রোমানরা এলো, বিস্তৃত করলো তাদের শাসন। এ্যাটেলিয়ার নেতৃত্বে হুনরা আক্রমন চালালো 5ম শতাব্দীতে। বর্তমান সস্নোভিনদের পূর্বপুরুষ স্লাভরা তারপর বসতি গাড়লো এখানে। অশ্বারোহী মুররা আক্রমণ চালালো। এলো মঙ্গোলরা। তারপর কত রাজা, কত সম্রাট কতবার দখল করেছে এই ভূখন্ড আর তারা শাসিত ও শোষিত হয়েছে অথবা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নতুন একটা জাতিসত্ত্বায় পরিণত হয়েছে। এসেছে ফ্রেঞ্চরা, জার্মানরা, অস্ট্রিয়ান শাসকরা। রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলু খাগড়ার প্রাণ যায়। খাজনা নেবার মালিক পরিবর্তিত হয়। কৃষকদের বিদ্রোহের ইতিহাস আসে শ' তিনেক বছর ধরে। সে বিদ্রোহের মাধ্যমে সমাজগঠনের চেষ্টা চলেছে জোরোসোরে এক শ' বছর ধরে (1478 থেকে 1573)। অটোমান তুর্করা আক্রমণ করতে থাকলো 1408 থেকে। প্রোটেস্টান্ট ধর্মানুসারীদের পাল্লা ভারি হতে থাকলো। তারপর ক্যাথলিকরা একসময় এসে সব নিশ্চিহ্ন করে দিলো। দাসপ্রথা উঠে গেলো। সামন্ত-প্রভুদের মাতবরি গেলো তারপর। আরো পরে জার্মানদের শাসনে ক্যাথলিক ধর্মের রীতিনীতির প্রতিপত্তি কাটা পড়লো। অস্ট্রিয়ানদের কাছে পরাজিত নেপোলিয়ান এসে দখল নিলেন। তারপর 1814 তে আবার অস্ট্রিয়ান শাসন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নানা ভাঙা-গড়ার খেলা। সবশেষে টিটোর সমাজতান্ত্রিক যুগোস্লাভিয়ার ফেডারেল হলো সস্নোভেনিয়া। সমাজতন্ত্রের পতন আবার ভাঙচুর এবং যুগোস্লাভিয়ান কতর্ৃপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পর 7 জুলাই 1991 তে পশ্চিমা দেশের ওকালতিতে একধরণের শানত্দি ফিরে এলো। 1992 তে স্লোভেনিয়া পৃথিবীর 176তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো।
জাতি, জাতির পরিচয়, জাতি-সংগ্রাম, জাতির স্বাধীনতা ইত্যাদি চেনা প্রত্যয়গুলো খুব জটিল হয়ে পেঁচিয়ে রেখেছে স্লোভেনিয়ার ইতিহাস। খুব সহজ নয় এর ঘোর-প্যাঁচগুলো ধরা কিন্তু। শোষণ ও অত্যাচারের বিরম্নদ্ধে শোষিতের যে প্রতিবাদ ও সংগ্রাম তা বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হয় না। স্লোভেনিয়ার ইতিহাস নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস।
সে তুলনায় আমরা অনেক সৌভাগ্যবান, পিয়াল। শত্রু-মিত্র চিনি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




