somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলাম শুধু আপনাদের বাপ-দাদার না

১১ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ ব্লগে অনেকেই মনে করেন ইসলাম শুধু তারাই বাপ-চাচার সূত্রে পেয়েছেন। অন্যদের এতে কোনো অধিকার নেই। আবার অনেকে মনে করেন জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে যে কথা বলে সে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধেই কথা বলে। যে ইসলামী শাসনের পক্ষে শেস্নাগান দেয় না সে ইসলামের শত্রু। তাদের এরকম হাজার মতামত দেখতে পাবেন ব্লগের পাতায়। তাই নিয়ে তারা আবার মাঝে মাঝে নেত্য শুরু করে, কে ইসলামের শত্রু, কে কাফির হয়ে গেল, কে নাসত্দিক হয়ে গেল, কার ঘাড়ে লানত পড়বে ইত্যাদি।

সভ্যতা মানুষের অগ্রগতিতে ধর্মের অবদান কতটুকু, প্রয়োজন কতটুকু এ সম্বন্ধে তাদের বাচালতা, মাদ্রাসা-পড়া খোঁড়া-যুক্তি দেখলেই তাদের বুদ্ধির দৌড় খোলাসা হয়ে যায়। কিন্তু নতুন শিং-ওঠা বাছুরের মত তাদের আবার গুঁতোগুঁতির ভীষণ স্বভাব। ধৈর্য ধর বাছারা, গায়ে চর্বি জমতে দে।

তাদের চোখ-কান বন্ধই থাকে, তবু বলি, ইসলাম আমরাও বাপ-চাচার সূত্রে পেয়েছি। যারা মুসলমানের ঘরে জন্মেছি তারা নুনু-কাটা কাল থেকে ইসলামের সাথে আছি। টুপি-তসবিহ-জায়নামাজ-কোরান-হাদিস নাড়া-চাড়া করেই বড় হয়েছি। যারা মুসলমানের ঘরে জন্ম নেইনি তারাও বই-পত্রে ইসলাম পড়েছি, পাড়া-প্রতিবেশির উৎসবে-উদযাপনে ইসলাম দেখেছি।

আমি পেয়েছি জন্মসূত্রে। তবে নামাজের পর টুপিটা মাথা থেকে খুলে রাখতেই দেখেছি। গাধা মার্কা উচ্ছনে যাওয়া চাচাতো/মামাতো-ভাইদেরকে মাদ্রাসায় যেতে দেখেছি। আমাদের যেতে হয়নি। আমরা স্কুল-কলেজের হাওয়া-বাতাসে বড় হয়েছি। মিলাদ পড়ানোর পর মসজিদের মৌলবীর হাতে পঞ্চাশ টাকার নোট আমরা দিয়েছি, কোরবানির পর গরুর চামড়াটা।

বাপ-চাচার সূত্রে পাওয়া জমি-জিরেত নিয়ে আমরা আর লাঠালাঠি করি না। অনেকেই করে। তাদের দৃষ্টি-ভঙ্গি নিয়ে জীবন-যাপনও আমরা করি না। অনেকেই করে। আমাদের এই উত্তরণে বাপ-চাচারাও খুশি। তারাও এমন চাইতেন।

বাপ-চাচার ধর্মকে আমরাও রেখেছি। যতটুকু দরকার ততটুকু। এটা আমাদের সচেতন সিদ্ধান্ত। মাদ্রাসায় পড়ি নাই বলে ধর্মটা আপনাদের কাছে বন্ধক দেই নাই। কোরান_খতম, তারাবিহ, জানাজায়, বিয়ে-শাদি, আকিকায় আপনাদেরকে ডাকা হবে। ওয়াজেও চাঁদা দিব। তাই বলে, দিন-রাত চেঁচামেচি করে ফয়দা হবে না।

তসবিহটা তোলা আছে। টুপিটাও ভাঁজ করা আছে। কাউরে ধর্ম বন্ধক দেই নাই। জমিতে যাই না বলে আমার বাপ-দাদার জমি অন্যরেও দিয়া দেই নাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০১টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×