somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপা/ভাইয়ার বাংলাদেশ

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের প্রচল সংস্কৃতিতে সম্পর্কের সূত্র ধরে মানুষকে সম্বোধন করার একটা রেওয়াজ আছে। অপরিচিত সমবয়স্ক দাড়িওয়ালা রিঙ্াওয়ালা তাই অনেকের চাচা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোর ড্রাইভার তাই ছাত্র-ছাত্রীদের মামু আর মেয়েদের হলের কেয়ারটেকাররা নামহীনভাবে দাদু।

আনত্দরিকতার প্রলেপ আছে এই সম্বোধনে আছে গ্রামভিত্তিক নির্ভরশীল সমাজব্যবস্থার সুতোর টান। তবে প্রাগ্রসর নাগরিক বিশ্বের শত কোটি অপরিচিতের দৈনন্দিন যোগাযোগের বর্তমান ক্ষেত্রভূমিতে ও কালে এই রেওয়াজ বড় বেশি গ্রাম্য শোনায়। স্রেয়শী বসু এই বস্নগের সূত্র ধরে যে বক্তব্যের অবতারণা করেন তা তাই হয়ে ওঠে আধুনিক হওয়ার এক আন্তুরিক আহ্বান।

ভিন্নরকম জটিল আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের এই গতির পৃথিবীতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অজুহাতমাখা এই সম্বোধন অচল ও মেকি হয়ে যায় বৈশ্বিক ও নাগরিক প্রেক্ষাপটে। একটা দৃষ্টানত্দ দেয়া যায় কাল্পনিক এক শ্রেণীকক্ষের কথা ভেবে যেখানে শিক্ষকের চেয়ে ছাত্রের বয়স অল্প। ব্যক্তিগত সম্বোধন সেরকম ক্ষেত্রে অকার্যকর করে তুলতে পারে যোগাযোগের ফলাফলকে। খোদ বাংলাদেশের প্রচার মাধ্যমগুলোতে নামোচ্চারণ করে সম্বোধন আর তার সাথে আপনি ব্যবহারের রেওয়াজ চালু হয়েছে অনেক আগেই। তাতে উভয় পক্ষই নিশ্চিনত্দ হয় যথার্থ সম্মানপ্রাপ্তি ঘটেছে বলেই। অতীত থেকে উলেস্নখ করা যেতে পারে একটি উদাহরণ। 'আমার যত গান' নামে বিটিভিতে একক শিল্পী নিয়ে একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান উপস্থাপন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কীর্তিমান আবু হেনা মোসত্দফা কামাল। স্বাভাবিক যোগ্যতায় সে অনুষ্ঠানে একবার শিল্পী হিসেবে উপস্থিত হলেন তারই বিভাগের ছাত্রী সুকণ্ঠী সাবিনা ইয়াসমিন। সাবিনা বলে সম্বোধন করে আপনি ব্যবহার করেই আবু হেনা সাক্ষাৎকার নিলেন তার ছাত্রীর। যদিও বা সরাসরি শিক্ষক তবুও আবু হেনাকে স্যার বলে সম্বোধন করে অনুষ্ঠানটির বিশালতার মাত্রাকে ক্ষুণ্ন করেননি সাবিনাও। উদাহরণটির একটি শিক্ষণীয় দিক হলো, ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকলেও আনুষ্ঠানিক কোনো ফোরামে সে সূত্রকে প্রধান না করে তুললেই আলোচনাটিকে পেশাদার (প্রফেশনাল) ও আধুনিক মনে হয়। (বাহুল্য হবে না একথা উল্লেখ করা যে, আধুনিকতার অনেক বিষয়কে পাশ্চাত্য রীতি বলে ভ্রম হতে পারে যা অযোক্তিক নয় কোনোক্রমেই কারণ আধুনিকতার সিংহভাগ অবদান পাশ্চাত্য বিশ্বেরই।)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×