কার্বোহাইড্রেট বা শ্বেতসার শরীরের মাসল ও বিপাকের (খাদ্য হজমের প্রক্রিয়া) জন্য দরকারি শক্তি দেয়। এজন্য আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার ও ক্যালরি খাই তার বেশিরভাগ কার্বোহাইড্রেট দিয়ে তৈরি হওয়া উচিত। বিভিন্ন রকমের অনেক খাবারে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে স্টার্চ, বা জটিল কার্বোহাইড্রেট যেমন, দানাদার খাবার, চাল, পাস্তা, ব্রেড, শিমজাতীয় সব্জি, আলু, গাজরের মত মাটির নীচের সব্জি এবং অন্যান্য সব্জি। শস্য দানা ও শাকসব্জি থেকে অাঁশ বা ফাইবারও পাওয়া যায়। সাধারণ কার্বোহাইড্রেট বা চিনিও রয়েছে যা ফল এবং দুধ থেকে তৈরি খাবারে পাওয়া যায়। এগুলোও কার্বোহাইড্রেটের ভালো উৎস। প্রসেস করা খাবারে যেসব কার্বোহাইড্রেট থাকে এগুলো শরীরের জন্য খুব একটা ভালো নয়। যেমন চিনি, মধু, সিরাপ এবং জেলি প্রচুর ক্যালরি দেয় কিন্তু এগুলোর কোনো পুষ্টিগত মূল্য নেই।
ফ্যাট বা চর্বিতে ফ্যাটি এসিড এবং গ্লাইসেরল থাকে, যা ফ্যাটি এসিডকে একসাথে বেঁধে রাখে। এগুলো স্যাচুরেটেড, মনোআনস্যাচুরেটেড, বা পলিআনস্যাচুরেটেড হতে পারে। শরীর চর্বি থেকে শক্তি পায়। টিসু্য তৈরি করা, শক্তিশালী ও মেরামত করার কাজে চর্বি লাগে। কিন্তু আমরা অতিরিক্ত যেসব চর্বি খাই তা শরীরে জমা হয়, এতে আমাদের ওজন এবং হার্টের অসুখ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। মাংস, হোল-মিল্ক (পূর্ণ ননীযুক্ত) দুধের তৈরি খাবার, বাদাম, বীজ, এবং তেলে সবচে বেশি চর্বি থাকে। প্রোটিন বা কার্বোহাইড্রেটের তুলনায় চর্বিতে প্রতি গ্রামে দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরি থাকে। এজন্য কম পরিমাণ চর্বি বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট খেতে বলা হয়, যা প্রাণী বা প্রসেস করা ফুডে পাওয়া যায়। স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার কম করে খেলে খাবারের কলেরেস্টরেল পরিমাণ কম রাখা যায়। কলেস্টেরল কোন চর্বি (বা ফ্যাট) নয় কিন্তু মাংস বা হাঁস-মুরগি বা বেশি চর্বির দুধ থেকে তৈরি খাবারে এটা থাকে।
ভিটামিন ও মিনারেল খুব কম পরিমাণে দরকার হয়। এগুলো শক্তিশালী হাড় ও মাসল তৈরিতে এবং শরীরের কাজকর্ম ঠিকভাবে চালু রাখতে সাহায্য করে। আমরা যেসব খাবার খাই তাতে বিভিন্ন পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। এজন্য আমরা যদি বিভিন্ন ধরনের খাবার খাই তবে দরকারি ভিটামিন ও মিনারেলগুলো খাবার থেকে পেতে পারি। তারপরও শরীরের চাহিদার কারণে কিছু লোকের বাড়তি বা সাপ্লিমেন্ট ভিটামিনের দরকার হতে পারে। তবে ব্যালান্সড খাবারের প্ল্যানের বদলে নয় বরং প্রতিদিন যেটুকু ভিটামিন এবং/বা মিনারেল দরকার সেজন্য এসব সাপ্লিমেন্ট খেতে বলা হয়। যদি সাপ্লিমেন্ট দরকার হয় তবে যেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল 50ু100% থাকে সেগুলো বেছে নিন। যেমন, সেন্ট্রাম, সানাটোজেন, হ্যালিবোরেঞ্জ এবং জেনেরিক স্টোর ব্রান্ডস। যদি ডাক্তার না বলে থাকেন তবে খুব বেশি করে বা "মেগাডোজ" সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার দরকার নেই। কোনো কোনো ভিটামিন ও মিনারেল বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে সমস্যা দেখা দিতে পারে এমনকি বিষক্রিয়াও হতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




