গনডোলার মাঝি যখন দক্ষিণে গেলো না তখন রাগ হয়েছিলো এ কারণেই। ওদিকে না গেলে এ্যাঙ্গেলটা তো আমি পাবো না। সে যাক গনডোলা যখন আবার উত্তর পাড়ে এসে ভিড়লো তখন ক্যাসেল দেখতে পাহাড়ে চড়লাম। পাহাড় থেকে নেমে বেশ ক্লান্ত। ক্ষুধা পেয়েছে। আবার লুবিয়ানার বাস ধরতে হবে। এখানে খাবো নাকি লুবিয়ানায় গিয়ে খাবো তা ভেবে বসলাম লেকের পাড়ে। হাতে বেশি সময় নেই। মনে হলো এই পাশ দিয়ে ওই দক্ষিণ মাথায় যাই ওখানে রেস্টুরেন্ট আছে, খেয়ে আবার ফিরে আসবো এই পথ ধরে। তারপর বাস ধরে লুবিয়ানা। লেকের পাড় ধরে হাঁটাও হলো। তো নানা ছোটখাটো জিনিস দেখতে দেখতে যখন রেস্টুরেন্টের কাছে এলাম তখন দেখি বিকেলের আলো পড়েছে অনু-দ্বীপের গির্জার গায়ে। জ্বলজ্বল করে জ্বলছে গির্জাটা। ছবি তুলতে গিয়ে মনে হলো সূর্য তো এখনি ডুবে যাবে। সেই পোস্টকার্ড পারফেক্ট ছবি তো তোলা হবে না।
কিন্তু কতটা হাঁটতে হবে ঠিক এ্যাঙ্গেল পেতে হলে বুঝতে পারছিলাম না। তাকিয়ে মনে মনে একটা হিসাব করলাম মিনিট পাঁচেক হাঁটলেই হবে। হাঁটা শুরু করলাম পাড় ধরে। একটু যাই আর তাকাই। কিন্তু গির্জার ব্যাকগ্রাউন্ডে পাহাড় আসে না। আবার হাঁটি কিছুদূর। আধঘন্টা পার হয়ে যায়। লেকের একেবারে অন্য মাথায় চলে এসেছি। ফিরে যেয়ে বাস ধরতে হলে আবার পুরোটা হেঁটে যেতে হবে। ছবি তুলবো নাকি ফিরে যাবো ভাবতে পারছি না। ছবির পোকা মাথায় ভোঁ ভোঁ করছে। পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা। এতক্ষণ পাহাড় ডিঙ্গানো আর হাঁটার কুফল। তবু ছবিটাই মাথায় ঘুরতে থাকে। আমিও হাঁটতে থাকি। সূর্য ডুবে গেল গেল বলে। কত বড় এই লেক। 6 কিলোমিটার হওয়ার কথা চারপাশ। তা অর্ধেক 3 কিলোমিটার হাঁটতে কত সময় লাগে?
হাঁটতে হাঁটতে তাকাই। হঠাৎ কাছের সবুজ টিলাগুলোর পেছন থেকে দেখা দেয় বরফ ঢাকা আল্পস। সূর্যের আলো এখনও কিছুটা আছে। পাহাড়কে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে কয়েকটা ছবি তুলি গির্জা আর লেকটার। ছবি তোলা হয়ে যেতেই হাসি পায়। আবার 3 কিলোমিটার হেঁটে যাওয়া! একটি ছবির জন্য এতো!!!
এই ছবিটাই উৎসর্গ করি সাম হোয়ার ইন ব্লগের নেপথ্য কর্মীদেরকে। তারাই তো পরোক্ষ অনুপ্রেরণা। আর যারা এই লেখা পড়ছেন তাদেরকেও।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



