somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লন্ডনের বৈশাখী মেলা 2006

১৬ ই মে, ২০০৬ সকাল ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল 11টায় যাওয়ার কথা, গেলাম সাড়ে এগারটায়। রীতিমাফিক আধঘন্টা বিলম্ব। শোভাযাত্রাটি তখনও শুরু হয়নি। মানুষও আসা শুরু করেনি। মেহরুন ও তানভীর দম্পতি এসে যোগদান করলো আমাদের সাথে। আকাশ বেশ মেঘলা। বেশি লোক হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। এবার ব্রিকলেনে কোনো স্টল বসানো হয়নি। ব্রিকলেনে যাদের দোকান আছে তারা কিছুটা মনভারী।

দোকানের সামনে স্টলে তারা জমিয়ে বিক্রি করেন চানাচুর, চটপটি, জিলাপী, ডাবের পানি ইত্যাদি। বৈশাখী মেলা উপলক্ষে রিলিজ দেয়া হয় নাটক, টেলিফিল্ম। এবার এগুলোর একটু ঘাটতি দেখা গেল। নিরাপত্তার কারণে বেশি ভিড়-ভাট্টা দূর করাই কতর্ৃপক্ষের উদ্দেশ্য হয়তো।

12 টার দিকে শুরু হলো শোভাযাত্রা। শুরুতে রিকশাতে বসা বাঙালী বর-কনে। তারপর একটি বিশাল যান্ত্রিক বাঘ। পেছনে হার্ডবোর্ডে আঁকা বাঘ নিয়ে গোটা ত্রিশেক উচ্ছল তরুণ-তরুণী। আমরাও যোগ দিয়ে দিলাম মিছিলে। মিনিট দশেক মিছিলের সাথে হেঁটে রওয়ানা দিলাম এ্যালেন গার্ডেনসে।

এ্যালেন গার্ডেনসে মঞ্চ বানানো হয়েছে। স্থানীয় শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করছে দেখলাম। সাউন্ড সিস্টেম এতবড় খোলা জায়গার জন্য উপযুক্ত মনে হলো না। আশে পাশে কিছু দোকান বসেছে। আর মাঠের শেষের দিকে বাচ্চাদের ফান রাইডের ব্যবস্থা। বিশাল বিশাল সব ভ্রাম্যমাণ রাইড নিয়ে আসা হয়েছে। মেলায় শিশুরাই আসে বেশি। সুতরাং এখানেই টাকা খরচ বেশি হবে বোঝা যায়। ক্ষুদ্র একটা ফিন্যানিসয়াল পলিটিক্স বুঝতে পারলাম।

এ্যালেন গার্ডেনস থেকে বেশ দূরেই উইভার্স ফিলড। কিন্তু মোড়ে মোড়ে মেলা উপলক্ষে দিক নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে আজ কোনো নির্দেশনার দরকার নেই। মানুষের ঢলকে অনুসরণ করলেই হয়। ভিড়ের পেছনে পেছনে এসে আমরাও হাজির হলাম উইভার্স ফিলেড। বিশাল মঞ্চে গান-বাজনা চলছে। আর মঞ্চের সামনে নাচছে উদ্দাম তরুণেরা। চ্যানেল এস সরাসরি সম্প্রচার করছে। পাশেই তারা লাগিয়েছে বিশাল স্ক্রিন। মঞ্চের অনুষ্ঠান স্ক্রিনেই দেখা যাচ্ছে। আশে-পাশে খাবারের দোকান দিয়ে মাঠ ভর্তি। তবে উইভার্স ফিলড অনেক বড়। এক অংশে মেলা হচ্ছে। এখানেও এক অংশে ফান রাইড রাখা হয়েছে।

ধীরে ধীরে মানুষ জমতে শুরু করলো মূল অনুষ্ঠান দেখার জন্য। আমরা ততক্ষণে ক্লান্ত। সুতরাং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না দেখেই আমরা বের হয়ে এলাম ব্রাডি সেন্টারে। এখানে চলছে বইমেলা। লাইসা আহমেদ লিসা'র রবীন্দ্রসংগীত। নাটক। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নানা আয়োজন। আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ এসেছেন। ইউরোপের নানা দেশ থেকে যারা এসেছেন, যেমন জার্মানি থেকে আসা ছোট্ট একটা গ্রুপকে দেখলাম, তারা এখানেই মূলত: ঘাটি গেড়েছেন। ফ্রি খাবার বিতরণ করছেন শামীম আজাদ। এক বাক্স ভাত-মাছ নিয়ে এক কোণায় বসে গেলাম।

মেহরুন-তানভীরদের বাসা ব্রিকলেনেই। মেহরুন তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে গিয়ে বিরানি চড়িয়েছে। আমরাও ভর্তিপেট নিয়ে হাজির হলাম। সাথে ইসমেতের মামা, কানাডা থেকে বেড়াতে এসেছেন। স্মিরনফের বোতলটা যখন শেষ হলো তখন মেহরুনের বিরানি নেমেছে চুলা থেকে। ভদকার কারণে নয়, সত্যিই ভীষণ মজার রান্না করে মেহরুন। পেটটা দ্্বিগুণ ফুলিয়ে আবার যখন মেলার দিকে হাঁটা দিলাম, তখন মেলা ভাঙছে...। গান শোনাটা যদিও আমাদের তালিকায় ছিলো না, তবুও কিঞ্চিত আফসোস করতে করতে বাসার পথ ধরলাম।........

যে পরিমাণ মানুষ বাড়ছে প্রতিবছর এই মেলাতে, কোনো সন্দেহ নেই এই মেলা দেশের বাইরে বাঙালির সর্ববৃহৎ মেলাতো হবেই, সাউথ-এশিয়ানদের সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠানে পরিণত হবে।

সবাইকে বৈশাখী মেলার শুভেচ্ছা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×