somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ছাত্রশিবির জীবন-1

২০ শে মে, ২০০৬ রাত ৮:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছাত্রশিবিরের কাছে আমার ঋণ অনেক। তার স্বীকারোক্তি করতেই এই আত্মজৈবনিক ধারাবাহিক। প্রথম ঋণ হচ্ছে চিনত্দামূলক বইপড়ার একটা অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য। দ্বিতীয় ঋণ হচ্ছে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান ও আগ্রহ বাড়ানোর জন্য। আগের স্কুলে পড়ালেখার বাইরে অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল। নতুন স্কুলে এসে সেসব হারালাম। তবে ছাত্রশিবিরের বিচিত্র কর্মকান্ডে সে শূন্যতা কেটে গেলো। তবে কর্মকান্ডগুলো ছাত্রশিবিরের নামে হতো না। স্কুল পর্যায়ে ছাত্র-রাজনীতির কোনো সুযোগ থাকার কথা নয়। ছাত্রশিবিরের সহযোগী সংগঠন ফুলকলি, সাইমুম বা অন্য কোনো ফোরামের ব্যানারেই কর্মকান্ডগুলো হতো। স্কুলের বোরিং কাজগুলোর মাঝে এসব কর্মকান্ড এনে দিতো বিচিত্র আনন্দের সুযোগ।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্কুলে একটি অনানুষ্ঠানিক সাধারণ জ্ঞানের প্রতিযোগিতা হতো। তাতে অংশ নিতাম প্রতি সপ্তাহে। প্রতিযোগিতায় প্রথম হলে একটি বই পুরষ্কার দেয়া হতো। সেই প্রতিযোগিতায় যেতে যেতেই ঘনিষ্ঠতা বাড়লো কিছু সিনিয়র ভাইদের। তাদের সাথে ঘুরাঘুরি শুরুহলো। বিকেলে জামাতে নামাজ পড়া। এসব করতে করতে কখন ছাত্রশিবিরের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে গেলাম বুঝতেই পারিনি। প্রথম আমাকে প্রশ্ন করলো স্বপন। স্বপন এখন বুয়েটের টিচার। মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বেরুচ্ছি তখন স্বপন জিজ্ঞেস করলো টেবিল টেনিস খেলতে যাবি অফিসার্স ক্লাবে। আমি বলস্নাম না হোসেনের সাথে মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি যাবো। ও বললো, হোসেনের সাথে তোর কি? তুই কি ছাত্রশিবিরে যোগ দিয়েছিস নাকি? আমি অবাক হয়ে বল্লাম, নাতো! পরে মনে হলো যোগ দিলেই কি? আমি তো খারাপ কিছু করছি না।

আরো কিছু বন্ধু-বান্ধবরা সাবধান করে দিলো। খারাপ কিছু করছি না এটা ওদের কাছে প্রমাণ করতে গিয়ে আরো বেশি করে জড়িয়ে গেলাম ছাত্রশিবিরের সাথে। আর আসলেইতো খারাপ কিছু না। সাপ্তাহিক জ্ঞানের প্রতিযোগিতা ছাড়াও ছিল বই পড়ার প্রতিযোগিতা। প্রতি সপ্তাহে আমরা পড়ার জন্য বই নিতাম গাজী ভাইয়ের কাছ থেকে। প্রতিটি বই পড়ে কি বুঝলাম তা লিখতাম। পরের সপ্তাহে তা আলোচনা হতো। অন্য যারা একই বই পড়েছে, তারা সেই বইয়ের উপর আলোচনা করতো। আমাদের প্রত্যেকের বই পড়ার খাতা ছিল। তাতে আমরা লিখে রাখতাম কী কী বই পড়েছি। সব মিলিয়ে বাংলা ভাষায় লেখা প্রায় 5 শ' ইসলামী বই আমি পড়েছি। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর কথা সময়মত কিছুটা বলবো। এখন অন্য ভালো অভ্যাসগুলো নিয়ে কথা বলি।

শুধু বইপড়া নয়। আমরা একটি খাতায় সারাদিনের লগ রাখতাম। সারাদিন কী পড়েছি, কী করেছি। নামাজ কাজা হলো কিনা। একটা ফর্মেট ছিলো। এখনও ছাত্রশিবিরের সদস্যরা সেই ফর্মেটই ব্যবহার করে নিশ্চয়। সেই ফর্মেটের শেষ কলাম ছিলো আত্মসমালোচনা। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সারাদিনের সময় ব্যবহার ও কাজ নিয়ে নিজের সমালোচনা ও আরো অর্থপূর্ণভাবে সময় কাটানোর কামনা করে ঘুমাতে যাওয়া। নিয়ম করে আবার ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘুম থেকে উঠতাম। এ্যালার্মের জন্য বিশেষ একটা যন্ত্র ছিলো। গাজী ভাইয়ের সৌজন্যে। আমি তখন থাকতাম সমরাস্ত্র কারখানা এলাকায়। ফজরের আজানের সময় সাপ্লাইয়ের পানি আসতো। তো পানির কলের নীচে বালটিতে আমরা একটা তারের দলা রাখতাম। লাইনে পানি আসলে সেটি ভেসে উঠে উপরে রাখা একটা তারে লাগতো। আর সেই তারের সাথে লাগানো ব্যাটারিযুক্ত কলিংবেল বেজে উঠতো। সেই শব্দের সাথে উঠে অজু ও নামাজ। তবে সকালে উঠার সেই অভ্যাস কোনো কাজে আসেনি আমার। পরে পুরোপুরি রাতের প্রাণীই হয়ে যাই আমি।

(চলবে?)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×