somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশ্বর ও মানব - কে কার স্রষ্টা?

০৬ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৫:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(ব্লগার রুপার প্রশ্নের উত্তর)

ব্লগার রুপাকে অশেষ ধন্যবাদ এ প্রশ্নটি উত্তাপন করার জন্য। আমার মতে আসলে দুজনই দুজনের স্রষ্টা - মানে ঈশ্বর মানুষের স্রষ্টা ও মানুষ ঈশ্বরের স্রষ্টা। ব্যপারটা একটু খোলাসা করে বলি।

মানুষ নিজেও যেমন দ্্বৈত সত্তার অধিকারি তেমনি পরিবেশ ও প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ক ও দ্্বিমাত্রিক। একদিকে ঞ্জান বিঞ্জানের সাধনার ফলে মানব সভ্যতা এতই এডভানস যে লক্ষ লক্ষ মাইল দুরে মঙ্গল গ্রহে কি হচ্ছে তা আমরা এখানে বসেই জানতে পারছি। প্রতিনিয়ত প্রকৃতিকে নানাভাবে জয় করছি আমরা। আবার অন্যদিকে এ একই প্রকৃতির কাছেই মানুষ অসহায়। সামান্য পোকামাকড়ের কামড়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যায় প্রতি বছর। অদৃশ্য এইডস জীবানুর কাছে লাখ লাখ প্রাণ জিম্মি। আবার প্রকৃতির দু-এক মিনিটের ধ্বংস লীলাতেই হাজার বছরের সভ্যতা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় - যেমন হারিকেন কেট্রিনা, সুনামি বা কাশ্মিরের ভুমিকম্প।

সৃষ্টির আদি কাল থেকেই প্রকৃতির সাথে এ দ্্বিমাত্রিক সম্পর্ক মানুষকে ভাবিয়ে আসছে। মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে যে নিশ্চয় এমন কোন সত্তা আছেই যার কাছে ঞ্জান বিঞ্জানের নানা ভেলকিবাঝি সবই নস্যি, আবার যিনি প্রকৃতিরও উর্দ্ধে, প্রকৃতির উপরেও শক্তিমান। এই সত্তাই হচ্ছে ঈশ্বর।

মানুষের চিন্তাশক্তি, জানার পরিধি ও বুঝার ক্ষমতা - সবই সীমিত। আর এই সীমিত ঞ্জান দিয়ে যদিও ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়, কিন্তু ঈশ্বরের স্বরুপ বা বৈশিষ্ট জানা সম্ভব নয়। ঈশ্বর নিজেই তাই বাচাইকৃত মানব সন্তানের মাধ্যমে মানব জাতির কাছে এ ঞ্জান পেঁৗছানোর ব্যবস্থা করেছেন ।*

এ গেল মানুষের স্রষ্টা ঈশ্বরের কথা, এবার আসি মানুষের সৃষ্ট ঈশ্বরের গল্পে।

স্রষ্টা ঈশ্বরের একটি বড় বৈশিষ্ট হল নিয়মতান্ত্রিকতা। পৃথিবীর সব সৃষ্টিই: চাঁদ, সুর্য, এমনকি আমাদের বেড়ে উঠা ; সবই একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে, যার কোন হেরফের হয়না। অনুরুপভাবে এ ঈশ্বর বিশ্বাস মানেই হলো আমাদের ইচ্ছ অনিচ্ছাকে নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনা। কিন্তু মানব বৈশিষ্টের একটি বড় 'গুনাবলি' হল নিয়ম ভাঙ্গা। যেমন ধরুন পরিক্ষার সময় নিয়ম হল পড়ালেখা করা, কিন্তু ঐ সময়ে দুনিয়ার যাবতিয় কাজের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়, শুধুপড়ালেখা ছাড়া ।

আমরা ধীরে ধীরে ঈশ্বর বিশ্বাসের মূল ভুলে গিয়ে শুধু খোলসটাই নিয়েই মেতে উঠি (ঐযে নিয়ম না মানা সভাব)। তাও সময়ের আবর্তে লৌকিকতার (ritual) মাঝে আটকা পরে। আর এই লৌকিকতার সাথে তখন জড়িয়ে যায় সেন্টিমেন্ট।

এদিকে মানব সম্প্রদায়ের এই লৌকিকতার খোলসে বন্দি বিশ্বাস ও সেন্টিমেন্ট - এ দুটোকে ব্যবসায় নেমে পরে ধর্মীয় ব্যবসায়ি গোষ্টি। মূলত: শোষন কারি শাসক গোষ্টির পৃষ্টপোষকতায় লতায় পাতায় বেড়ে উঠে এ ব্যবসায়ি শ্রেণী। একদিকে ধর্ম ব্যবসায়িরা (পুরোহিত বা এরকম মোহনিয় নাম নিয়েই এরা কাজ করে) ঈশ্বরের জুজুর ভয় দেখিয়ে হস্টেজ করে রাখে সাধারণ মানুষদের, আর অন্যদিকে শোষণকারি শাষকরাও নিশ্চিন্তে তাদের শোষণ কার্জ চালিয়ে যায়। আর সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের এরাই হয়ে যায় সোল এজেন্ট। আবার নিজেদের শাসনকে পাকাপোক্ত করতে এ দুই গোষ্টি মিলে নব্য নব্য আরো অনেক ঈশ্বর সৃষ্টি করে ।

সব অনাচার অত্যাচার একদিন সমাপ্ত হতে বাধ্য। এই সাধারণ মানুষরাও একদিন ঘুরে দাড়ায়। প্রতিবাদ করে বন্দি ঈশ্বরের ও তথাকতিথ ঈশ্বরের সোল এজেন্টদের বিরুদ্ধে। কিন্তু শোষক গোষ্টি তো এত সহজে দমবার পাত্র নয়। এই সাধারণ মানুষের উপর কন্ট্রোল বজায় রাখার জন্যে তারা আবার নতুন এক ঈশ্বর সৃষ্টি করে, যার নাম বস্তুবাদ বা ভোগবাদ তথা women, wealth and wine।

পৃথিবীতে এ নানারকমের সমস্যা বিদ্ধমান তার কারণ হলো মানুষের স্রষ্টা ঈশ্বর বাদ দিয়ে সৃষ্ট ঈশ্বরের পুজায় মেতে থাকা। আমরা যদি স্রষ্টা ঈশ্বরের পুজায় ফের ফিরে যায় তাহলে যাবতিয় সমস্যা গুলোও দুর হয়ে যাবে। ভাল করে চিন্তা করে দেখেন - দেখবেন আসলে আমাদের সব সমস্যা আমাদের নিজেদেরই তৈরী। আমরাই আমাদের সমস্যা গুলোকে তৈরী করছি, অন্য কেউ নয়। এর বিপরিতে আপনার ভাল জিনিস (blessings) গুলোর - যেমন মাতা পিতার ভালোবাসা, আমাদের যোগ্যতা, অর্থ সম্পদ, ইত্যাদি - দিকে তাকান , তাহলে দেখবেন সবই ঈশ্বরের দান। কোনটিই আমাদের নিজ প্রচেষ্টায় অর্জিত নয়।

======

সরি সময়ের অভাবে তাড়াহুড়া করতে গিয়ে তেমন গুছানো হয়নি।

but i hope you get the point i want to make.
you are welcome to get back to me, if you want more clarification. i will try to do my best with the little knowledge God gifted me with.
best regards


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×