লাইনের অগ্রসরও ছিল অজগড়ের মতই, হেলেদুলে ধীরস্থীর গতিতে। ইতিমধ্যে দালাল ভায়েরা দুবার এসে ধরণা দিয়ে গেছে -'ভাইজান, ওভারওয়েট হবে কিন্তু। আমগোরে দেন - কোন সমস্যা হইবনা।' যান ভাগেন টাইপের চেহারা কইরা ভাগায়লাম দুবারই।আহ কি যন্ত্রনা!!!
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে অবশেষে এলো আমার পালা। আমার টিকিট - পাসপোর্ট টেবিলে অফিসার মহাশয় উদাও। আহা বেচারা, নিশ্চয় কাজ করতে করতে টায়ার্ড হয়ে গেছিল... (কাজ না গল্প? কারণ সারাক্ষনই তো দেখলাম পাশের ডেস্কের আপার সাথে গল্পই করতেছিলেন!) আরো অনেক্ষন দাঁড় করিয়ে রেখে আসলেন মহাশয়।
আমি একা মানুষ, লাগেজ কম। একটা ছোট সুটকেস আর একটা ব্যাগ। ওজন মেপে জানালেন আমার তো ওভারওয়েট, জিনিস কমিয়ে আনতে হবে। জানিয়েই তিনি আবার খোশগল্পে লিপ্ত হলেন। নিমিষেই সেই দুবন্ধু (দালাল ভায়েরা) হাজির। একজনের আবার এয়া বিশাল দাড়ি, মাথায় টুপি ও হেভি নুরানি চেহারা। দেখলে তো মনে হয় বিশাল আল্লাহওয়ালা মানুষ। টেনে নিয়ে গেলেন এককোণায়। তাদের এককথা চার হাজার টাকা লাগব। এদিকে প্লেন ছাড়ার সময়ও ঘনিয়ে আসছে। আমার কাছে অত টাকাও নেই। কি আর করা অগত্যা একটা 50 পাইন্ডের নোট ছিল, সেটা দিয়েই কাজ সারলাম।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশের দুর্ণীতির উপর একটি রিপোর্টপড়ে ভাবছিলাম দুর্ণীতি নিয়ে কিছু লিখি। তখনই পুরো ঘটনাটা মনে পরে গেল। বিবেক আমাকে প্রশ্ন করে বসল,
'কি হে বৎস? দুর্ণীতি নিয়ে লিখবা, নিজে যে দুর্ণীতিতে সাহায্য করছিলা হে কথা মনে আছেনি?'
আসলেই তো। আমি কোন মুখেই বা দুর্ণীতি নিয়ে লিখতে পারি? নিজেই যে দুর্ণীতিতে সহায়ক। আমি নিজে কত দুর্বল, অথচ বড় বড় কথা বলতে কতইনা উস্তাদ। এর দুদিন আগেই আমার ক'জন কলিগকে কথা প্রসঙ্গে অনুরোধ করেছিলাম আমরা দুর্ণীতি দমন করতে না পারলেও নিজেরা যেন অন্ততপক্ষে দুর্ণীতির সহায়ক না হই। আর দুদিন পরে আমি নিজেই কি না.....
ঘটনাটা মনে করে এখনো আমার খারাপ লাগে। চাইলেই হয়ত পারতাম হাতকে কলুষিত না করতে। কিইবা হতো কিছু পুরাতন কাপড় চোপড় ফেলে আসলে? অথবা ন্যায্য ওভারচার্জ দিয়েই জিনিস গুলো আনলে?
আমায় ক্ষমা করো হে প্রভু। আমায় ক্ষমা করো হে দেশমা।।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




