somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসিডেন্ট জিয়া, বাংলাদেশের হেনরী কিসিঞ্জার...

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জিয়া সত্যিই মুজিব হত্যা থেকে শুরু করে পরবর্তি ডামাডোলের অনেক কিছুই নিজ হাতে করেন নাই। কিন্তু এর সব কিছুই তিনি জানতেন। তিনি জানতেন যে, সেটা ঘটতে যাচ্ছে এবং তিনি হয়ত ঠিক করে রেখেছিলেন যে, ঘটে তো ঘটুক। অথবা তিনি হয়ত এর চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়েই ছিলেন বরাবর। অর্থাৎ তিনি ইচ্ছা করলে তা ঠেকাতে পারতেন। কিন্তু তা তিনি কেনইবা করতে যাবেন? এমনিতেই দেশের ততকালীন বিসৃংখলায় তিনি ছিলেন বিরক্ত এবং মুজিব সরকারকে সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি আরো সময় দিতেও মনে মনে প্রস্তুত ছিলেন না।
কেননা, সামরিক লোকজনের চিন্তা তো থাকে বন্দুকের মত। কেউ বিসৃংখলা করছে, তাকে গুলি করে ফেলে দিলেই তো হয়, সব মুহুর্তেই ঠান্ডা। তার জন্য বছরের পর বছর সময় নেওয়া কেন? কিন্তু রাজনীতি করতে গেলে যে অত সহজে সব কিছু ঠিক করে ফেলা যায় না, তা তো সামরিক লোকদের বোঝানো কঠিন। কারন, আজ যে ব্যক্তি বিসৃংখলা করছে, সে ব্যাক্তিই হয়ত গত ২০ বছর ধরে আমার পাশে থেকে সীমাহীন পরিশ্রম করে আমাকে ক্ষমতায় বসতে সাহায্য করেছে। তাই তার বিচার করা কি অতই সহজ একজন কৃতজ্ঞ মানুষের পক্ষে। যাহোক, এসব নিয়ে জিয়া তখন ছিলেন খুবই বিরক্ত।
আর তার পর এল রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হবার নীল হাতছানী, যেটা কোটিতে একজনও উপেক্ষা করতে পারবে কিনা তা নিয়ে আমার এক কোটিগুন সন্দেহ আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি হলে তো ক্ষমতায় যাওয়ার নেশায় অস্থির হয়ে আরো বেরাছেরা করে ফেলতাম। কিন্তু জিয়া পাকিস্তানের আইএসআই'র পরিকল্পনা, স্বাধীনতা বিরোধিদের মাধ্যম হয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা, ফারুক রশিদদের আক্রশকে তার সঙ্গে একীভূত করা, কর্নেল তাহেরকে সেনাবাহিনীর ঐক্য নষ্টের সুযোগ দেওয়া ইত্যাদি কাজগুলি এত নিখুত ভাবে, ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পর্যবেক্ষন করেছেন এবং হয়তবা এগুলির সমন্বয়ও করে দিয়েছেন সব কিছুর ধরা ছোয়ার আড়ালে থেকে যার প্রসংশা আমি না করে পারি না।
বাংলাদেশে হেনরি কিসিঞ্জার টাইপের নেতা থাকলে জিয়াই ছিলেন। এবং একটি দেশের রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে গেলে, তাতে যে শুধু আবেগই না, কুটনীতিরও প্রয়োজন আছে, বাঙ্গালীদের জিয়াই তা দেখিয়েছেন এবং শিখিয়েছেন। একটু লক্ষ্য করে দেখুন, মুজিবের হত্যাকান্ড থেকে জিয়ার ক্ষমতায় আসীন হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকটি ঘটনা একই সুত্রে গাঁথা। পর্যবেক্ষন করলে যে কারো কাছে এটা পরিস্কার হয়ে যাবে যে এর প্রত্যেকটি ঘটনা জিয়ার জানা ছিল এবং এর পিছনে জিয়ার ইঙ্গিত বা যোগসাজস বা হাত ছিল। অথচ কোথাও তার হাতের বা পায়ের ছাপ নেই। কত দূরদর্শি মানুষ ছিলেন তিনি। কত বুদ্ধিমান?
প্রত্যেকটি মানুষেরই ভুল হয় এবং নিজে সেটা বুঝতে পারে না কেননা বুঝতে পারলে তো দুনিয়ায় কেউ ভুলই করত না। আমি বলব, জিয়াও একটি ভুল করেছিলেন তা হল, ক্ষমতার একটা পর্যায়ে এসে বাংলাদেশের রাজনীতি ও এদেশের অধিকাংশ মানুষ অনেকটা তাঁর নিয়ন্ত্রনে চলে এসেছিল। অন্তত তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা প্রচন্ড আন্দোলন সংগ্রাম করার এনার্জি তারা হারিয়ে ফেলেছিল। একজন দক্ষ বা ঝানু কুটনীতিক হিসাবে তখন তিনি ছোট একটি বেঈমানী করলেই সারা জীবনের জন্য নেতার নেতা হয়ে যেতে পারতেন। আর তা হল, বলতে গেলে তখন এদেশের প্রায় সবাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। আর মুজিবকে যে জিয়াই কৌশলে হত্যা করেছেন সেটা মানুষ মনে মনে বুঝত। তার উপর আবার জিয়া দেশের সর্বময় ক্ষমতা দিয়ে দিলেন স্বাধীনতা বিরোধিদের হাতে। সবকিছু নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষেরা যারা সংখ্যায় তখন প্রায় ৭০-৮০%, তারা জিয়ার উপরে নাখোশ ছিল। যদিও পরবর্তীতে জিয়া ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকৃত করে করে মানুষের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিয়ে অনেক মানুষকে তার দিকে টেনে নিতে পেরেছিলেন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তখনও ছিল না খোশ।

কিন্তু যখন তার কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সামরিক বাহিনী ও পরবর্তিতে তার সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানুষের দ্বারা মোটামুটি প্রায় পাকা পোক্ত, তখন তিনি স্বাধীনতা বিরোধিদের সঙ্গে একটা ডিগবাজি মারলেই হয়ে যেতো। যেমনটি তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে করেছিলেন, তেমন একটা ডিগবাজি স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে দিয়েই, রাজাকার কয়েকজনকে সুলে চড়িয়ে, ভারতের সঙ্গে আর একটু গরম ভাবে হাত মিলালেই সেদিন স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ অর্থাৎ দেশের বেশিরভাগ মানুষ জিয়ার দিকে ঝুকে পড়ত। কেননা, মুজিব যেকোন ভাবেই হোক নেই এ কথাই তখন সত্যি, মুজিব আর ফিরেও আসবে না সেটাও সত্যি, আবার যাদের দ্বারা দীর্ঘ নয় মাস সীমাহীন নির্যাতন সহ্য করে এবং সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষা সহ্য করে তারা সবে মাত্র স্বাধীনতার মুখ দেখেছে, সেই রাজাকারদের আস্ফালনও তারা সহ্য করতে পারছিল না। তাই স্বাধীনতার পক্ষে কেউ বিশেষকরে জিয়া একটু কথা বললেই তারা (স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ) যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেতো।

কিন্তু জিয়া তা করলেন না। অবশ্য ভয়েই করলেন না, পিছে আইএসআই এবং স্বাধীনতা বিরোধীরা যে কায়দায় মুজিবের মত লোককে বিনাশ করে দিল, সেই কায়দা না আবার তার পিছনে প্রয়োগ করে বসে। তার চেয়ে যেভাবে চলছে, চলুক না। কিন্তু আমার ধারনা, চোখ পালটি দিলেও তার তেমন কিছুই হত না। প্রয়োজনে সেনা বাহিনীকে আর একটু খাইয়ে নিলেই হত। ভারত এবং সাথে সাথে রাশিয়া তো পিছনে থাকতই। আর দেশের বেশিরভাগ মানুষ পিছনের চলে আসলে, সেটাওতো একটা শক্তি।
যাহোক, Leader I like you very much.
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×