somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভয়াবহ সর্বনাশা থেকে আপনার ভবিষ্যতকে রক্ষা করুন

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশের ছোট বড় শহর থেকে শুরু করে গ্রাম গঞ্জের সরকারী আধাসরকারী স্কুলগুলিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বর্তমানে একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা চলছে। স্কুল যে একজন মানুষের জীবনের ভিত্তি, সেখান থেকেই যে তাদের শিক্ষা জীবনের ভীত গড়ে দিতে হবে সে কথা দূরে থাক, স্কুলে যে বাচ্চাদের কিছু শেখাতে হবে এবং তার সামান্য দায়-দায়ীত্ব যে স্কুল শিক্ষকদের রয়েছে তা যেন তারা আজ ভুলতেই বসেছেন। স্কুল যেন আজ শিক্ষকদের কোচিং ও প্রাইভেট ছাত্র জোগাড় ও তাদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি মাধ্যম বা কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।
অপরদিকে সরকারও যেন এক অজানা কারনে শিক্ষা ক্ষেত্রগুলি থেকে সকল ধরনের জবাবদিহিতা তুলে নিয়েছে বা হয়ত জবাবদিহিতার কথা ভুলেই গিয়েছে। সরকারী চাকুরীতে ঘুষ বানিজ্যের মত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার বিষয়টি এতই নিয়মিত ও স্বাভাবিক ঘটনায় পরিনত হয়েছে যেন এটি লেখাপড়ার বা সিলেবাসের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। সরকার কি এটা মনে করছে কিনা বুঝতে পারছি না যে, পাবলিক পরীক্ষাগুলিতে শতকরা একশতভাগ পরীক্ষার্থী পড়ালেখা না করেও পাশ করে গেলে দেশবাসী সরকারের উপর খুব খুশি হবে এবং সন্তষ্ট থাকবে। সরকারের লোকজন যদি তাই ভেবে থাকেন তাহলে তার চেয়ে হাস্যকর কিছু যে থাকবে না তা বলার জন্য আমি অতি বিনয়ের সঙ্গে কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া পৌরসভা, সিটিকর্পোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে লক্ষ্য করার জন্য অনুরাধ করছি।
যাহোক, পরীক্ষায় নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর লিখতে না পেরে গান, কবিতা, সিনেমার ডায়ালগ বা অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা লিখে রাখলেও তাকে পাশ করিয়ে দিতে হবে এবং তার জন্য কোন জবাবদিহি করা লাগবে না বরং খাতায় কিছু থাক বা না থাক কোন ছাত্র ফেল করলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে পূর্ন জবাবদিহি করতে হবে এজাতীয় সিদ্ধান্ত সহ, বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে যা যা হচ্ছে তা জাতীর ভবিষ্যতের জন্য যে কি পরিমান সর্বনাশের কারন হতে পারে তা খুব অদূর ভবিষ্যতেই জাতি হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারবে এবং যেটা এবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল থেকে জাতি ইতোমধ্যেই কিছুটা বুঝতে পেরেছে বা পারছে বলে আমি আশা করি। লক্ষ লক্ষ গোল্ডেন প্লাস নয়, সত্যিকারের যাচাই পরীক্ষায় মাত্র ৩৩% নম্বর পেয়ে পাশ করাই যে এর থেকে উত্তম ছিল সেটি জাতি খুব শিঘ্রই অনুধাবন করতে পারবে এই প্রত্যাশায়ই থাকলাম।
যাহোক, আপনার আমার শিশু সন্তান সহ জাতির ভবিষ্যত প্রজন্মকে এই সর্বনাশা থেকে রক্ষা করার জন্য সরকার থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি বুঝবান নাগরিককে এগিয়ে আসার জন্য বিনীত অনুরোধ করি।
এবার আমি আপনার এলাকার স্কুলটি যেটিতে আপনার, আপনার ভাইয়ের বা আপনার প্রতিবেশীর সন্তান পড়ালেখা করছে সেটিকে রক্ষা করার কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করি।
তবে তারও আগে আমি খুব জোর দিয়ে একটি কথা বলে নিতে চাই যে, একটি বাচ্চাকে শুরু থেকে এস,এস,সি পরীক্ষা পর্যন্ত বেশ ভাল পড়ালেখা করানো ও মানসম্মত ফলাফল করার জন্য একঝাক ডাবল এম,এ বা ট্রিপল এম,এ পাশ শিক্ষক মন্ডলীর কোন প্রয়োজন নেই তা আমি প্রমান করে দিতে পারি।
পঞ্চম শ্রেনি পর্যন্ত পড়ানোর জন্য, পড়ালেখার উপর স্পষ্ট ধারনা আছে এমন একজন এস,এস,সি পাশ (উচ্চমাধ্যমিক পাশ হলে খুব বেশি ভাল) এবং এস,এস,সি পর্যন্ত পড়ানোর জন্য একজন গ্রাজুয়েট ব্যক্তি খুব খুব খুবই যথেষ্ট। কিন্তু তার সাথে অবশ্যই অবশ্যই থাকতে হবে শিক্ষকের শিক্ষাদানের পূর্ন ইচ্ছা এবং অনিহা বা অন্য কোন নেতিবাচকতার বিপরীতে ইস্পাত কঠিন প্রশাসনিক ব্যাবস্থাপনা বা পূর্ন জবাবদিহিতার নিশ্ছিদ্র ব্যাবস্থা।
যাহোক, এ বিষয়ে আমি এখন আপনাদেরকে একটি কৌষল বলতে চাই যাহল-
ধরুন, আপনার এলাকায় একটি হাইস্কুল আছে যার অবশ্যই রয়েছে একটি ব্যাবস্থাপনা পর্ষদ বা ম্যানেজিং কমিটি। এবার আপনি আপনার এলাকার জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ঐ স্কুল ম্যানেজিং কমিটিকে দিয়ে (প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগ করে বাধ্য করুন) স্কুল পরিচালনার একটি নতুন নীতিমালা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করুন। আর তা হল,
বছরের প্রথমেই স্কুলের সকল শিক্ষক বৃন্দকে ডেকে জানিয়ে দিন যে এখন থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে তাঁদেরকে বিশেষ সতর্ক হতে হবে কেননা, বছরের মাঝামাঝি সময়ে যে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সেই পরীক্ষা সম্পূর্নরূপে ম্যানেজিং কমিটির তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরী বা সংগ্রহ প্রকৃয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহন ও খাতা মূল্যায়নের কোন পর্যায়েই শিক্ষকদের কোন রকম অংশগ্রহন থাকবে না। যদি ১৫ দিন ব্যাপী পরীক্ষা চলে তবে ঐ ১৫ দিন সকল শিক্ষক বৃন্দ ছুটিতে থাকবেন এবং এমনকি ঐ সময়ে তাঁরা স্কুলে আসতেও পারবেন না।
ম্যানেজিং কমিটি তাদের নিজ দায়ীত্বে এবং অবশ্যই শিক্ষক ও ছাত্রদের অগোচরে প্রশ্ন তৈরী বা সংগ্রহ করবেন এবং তাঁরাই যথাযোগ্য ব্যক্তিবর্গ (যেমন নিকটবর্তী কলেজ সমূহের দায়ীত্বশীল শিক্ষক মন্ডলী) দিয়ে পরীক্ষা গ্রহন করবেন ও পরবর্তীতে দূরবর্তী কোন সনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা গোপনে খাতা মূল্যায়ন করাবেন যা কেবল মাত্র ফলাফল প্রকাশের পরেই জানা যাবে। এর পর আসবে ফলাফল পর্ব। উক্ত ফলাফলে কোন নির্দিষ্ট শ্রেনির কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে শতকরা ৪০% শিক্ষার্থী পাশ করলেই ঐ শ্রেণিতে ঐ বিষয়ে মোটামুটি মানসম্মতভাবে পাঠদান করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে।
কিন্তু উক্ত ফলাফলে কোন নির্দিষ্ট শ্রেনির কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে শতকরা ৪০% শিক্ষার্থীর কম পাশ করলে ঐ শ্রেণিতে ঐ বিষয়ের শিক্ষক মহোদয় মানসম্মতভাবে পাঠদান করতে ব্যার্থ হয়েছেন বলে ধরে নেওয়া হবে। এবং যেহেতু ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম পর্যন্ত মোট ৫টি শ্রেণি, সুতরাং (প্রতিটি শ্রেণিতে একটি করে সেকশন ধরে) কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কোন এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে যদি ৪০% এর কম শিক্ষার্থী পাশ করে তাহলে ঐ বিষয়ের শিক্ষককে ৫ এর ১ ভাগ ব্যার্থ বলে সাব্যস্ত করা হবে এবং পরবর্তী পরীক্ষা অর্থাৎ বার্ষিক পরীক্ষায় তাঁর বিষয়ে পুনরায় ভাল ফলাফল হওয়ার আগ পর্যন্ত তার প্রাপ্ত বেতন ভাতাদির ৫ এর ১ অংশ অর্থাৎ ২০% বন্ধ রাখার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি সুপারিশ জানানো হবে। একইভাবে, ঐ শিক্ষকের বিষয়ে যদি ২ শ্রেণীতে ফলাফল খারাপ হয় তাহলে তার প্রাপ্ত বেতন ভাতাদির ৫ এর ২ অংশ অর্থাৎ ৪০% বন্ধ রাখার জন্য সুপারিশ জানানো হবে। একইভাবে ঐ শিক্ষকের বিষয়ে যদি ৫ শ্রেণীতেই ফলাফল খারাপ হয় তাহলে তার প্রাপ্ত বেতন ভাতাদির ৫ এর ৫ অংশ অর্থাৎ ১০০% বন্ধ রাখার জন্য সুপারিশ জানানো হবে। তবে, পরবর্তী পরীক্ষায় ফলাফল উন্নীত হলে তাঁর পরবর্তী সুযাগ সুবিধা যেমন পূনরায় চালু হয়ে যাবে তেমনি তিনি তার এ্যাকাউন্টে থাকা পূর্ববর্তী সমূদয় বকেয়া বেতন ভাতাদি উত্তোলন করতে পারবেন।
আবার অপর পক্ষে একইসাথে আরো একটি ঘোষণা দিয়ে রাখা উৎসাহ ব্যাঞ্জক হবে তাহল, কোন শিক্ষকের বিষয়ে যদি ৪০% শিক্ষার্থী ৭০% বা তার উপরে নম্বর পায় তাহলে পরবর্তী পরীক্ষা পর্যন্ত তাকে একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা বোনাস হিসাবে প্রদান করা হবে যেটি আপনারা প্রয়োজনে এলাকাবাসী মিলে চাঁদা দিয়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কেননা, এই নিয়ম চালু করতে পারলে আপনার সন্তানকে আর টাকা খরচ করে প্রাইভেট পড়াতে হবে না। বরং দেখবেন ঐ শিক্ষকগণ আপনাদের সন্তানদেরকে ক্লাসের সময়, তার আগে বা পরে বিনা পয়সায়ই রীতিমত পড়াচ্ছেন এবং সম্ভব হলে রাত বিরাত বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা তদারকী করছেন এবং তা তিনি করছেন আপনার মঙ্গলের জন্য মোটেই নয় বরং তাঁর নিজেরই মঙ্গলের জন্য।
বর্তমানে সন্তানের প্রাইভেট খরচ বাবদ যে টাকা আপনার ব্যয় করতে হচ্ছে, তার সামান্য অংশ আপনি পরিশ্রমী একজন শিক্ষককে উৎসাহ হিসাবে প্রদান করলে কি আর ক্ষতি হবে?
এটা হল স্রেফ আমার মস্তিস্ক থেকে উদ্ভূত একটি কৌশল মাত্র। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে, এ দেশবাসী সকলে মিলে ভাবলে এর চেয়ে অনেক অনেক গুন ভাল ও নিশ্ছিদ্র কৌশল উদ্ভাবিত হবে যা ভবিষ্যতে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে এই ভয়াবহ সর্বনাশ থেকে নিশ্চয়ই রক্ষা করতে পারবে ইনশাল্লাহ।
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×