আজ বীর মুক্তিযুদ্ধা জগৎজ্যোতি দাশের ৪৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী ।বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই বাংলা মায়ের এই অকুতোভয় ত্যাগী যুদ্ধাকে । অদম্য সাহসী এই বীরের জন্ম হয়েছিল হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামে ।মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল তার বাহিনী‘দাসপার্টি,’তার দাসপার্টি মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায় পাক হানাদারদের কাছে। ভাটিবাংলার বিশাল হাওরবেস্টিত এলাকা- সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ,হবিগঞ্জের প্রায় প্রতিটি থানা মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন হয়েছিলো তার নেতৃত্বে।মার্কুলির কাছে পাক আর্মির জাহাজ ডুবিয়ে দেবার কৃর্তিত্ব জগৎজ্যোতির । তার দাশ পার্টির ভয়ে ভৈরব থেকে সুনামগঞ্জ পযৃন্ত নৌ চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয় পাক বাহিনী ।আর্মি এয়ার ফোর্স সহ বিশেষ কমান্ড বাহিনী পাঠানো হয় গেরিলা যোদ্ধা জগৎজ্যোতিকে টার্গেট করে ।
নতুন প্রজন্ম হয়ত অনেক-ই জানে না এই মহান যুদ্ধার কথা ! ৭১ উত্তর-পূর্ব রণাঙ্গনে জগৎজ্যোতি ছিলেন পাক সেনাদের কাছে এক আতঙ্কের নাম ।জগৎজ্যোতির মুখোমুখি হওয়া মানে হানাদারদের একটি পরাজয়ের গল্প। মুক্তি সেনাদের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেন তিনি। মৃত্যুর সময়ও তিনি রেখে যান সেই প্রেরণার উৎস।
১৬ নভেম্বর ১৯৭১ সালে এক সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন জগৎজ্যোতি । জগৎজ্যোতির মৃত্যু সংবাদ ওই সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, অল ইন্ডিয়া রেডিওসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। রাজাকারেরা রাতে জ্যোতির লাশ খুজে পেয়ে পাকবাহিনীকে খবর দেয় এবং জ্যোতির মৃতদেহটি আজমিরীগঞ্জ বাজারে নিয়ে যায়। রাজাকাররা জ্যোতির হত্যার ঘটনা ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য জ্যোতির মৃত দেহ কে আজমিরীগঞ্জ গরুর হাটে একটি খুঁটির সঙ্গে ঝুলিয়ে পেরেক মেরে জনসমক্ষে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। যাতে করে আর কেউ যুদ্ধের ময়দানে কেউ যেতে সাহস না পায়।
হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি পরা জ্যোতির নিথর দেহটি কোন সৎকার ছাড়া ঝুলে থাকে । এক সময় জ্যোতির দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় কুশিয়ারা নদীতে।
মুক্তিযুদ্ধকালে জ্যোতির আত্মত্যাগের মূল্যায়ণ করতে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার স্বাধীন বাংলা বেতারে থেকে তাকে বীরশ্রেষ্ঠ হিসেবে ভূষিত করেন। কিন্তু না জগত জ্যোতির ভাগ্যে সেই সম্মান টুকু আজ ও জুটে নি ! ( সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাতিত কাউকে এ খেতাব দেয়া হয় নি)তাই সর্বোচ্চ খেতাব তাকে দেয়া হয় নি। ১৯৭২ সালে তাকে বীরবিক্রম খেতবে ভূষিত করা হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

