somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরকীয়ায় অনুশোচনা নেই!

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বাস ভঙ্গের ব্যাপারটি অনেক পুরোনো। অতি প্রাচীনকালে মানুষ যখন সভ্য হয়নি, তখনো সে নিয়মিত সঙ্গীর বিশ্বাস ভঙ্গ করত। বর্তমানে ‘পরকীয়া’ শব্দটি অনেকের মনে ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করলেও এটি কিন্তু মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিরই ধারাবাহিক রূপ বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। ইনফিডেলিটি বা সম্পর্কের বিশ্বাস ভঙ্গ-সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইটের এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, অনেক দম্পতি এখন একে অন্যের বিশ্বাস ভঙ্গ করে চলেছে, তাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো ক্ষতি করা ছাড়াই। অর্থাত্, স্বামী বা স্ত্রী একে অন্যের অগোচরে তৃতীয় কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালেও কেউই তা টের পান না। ঘরের বাইরে তাঁরা অন্য সম্পর্কে জড়ালেও তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখেই রাখার চেষ্টা করেন।
ইনফিডেলিটি ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়, ৪১ শতাংশ দম্পতি তাদের পরকীয়ার ব্যাপারটি (অবশ্যই তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে) বিনা সংকোচেই প্রকাশ করে থাকে। এ ব্যাপারে তাদের মনে কোনো অপরাধবোধ কিংবা অনুশোচনা কাজ করে না।
এ ব্যাপারে ইনফিডেলিটি ওয়েবসাইটের একজন গবেষক সারিকা পাইলট চৌধুরী বলেন, ‘পরকীয়ার ব্যাপারটি নতুন কিছু নয়। আগে এটি অসম্ভব গোপন ব্যাপার ছিল, এখন এটি অনেকটাই সামনে চলে এসেছে।’
ওয়েবসাইটে পরকীয়া-সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণালব্ধ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, পরকীয়া করে যাচ্ছেন এমন অনেক পুরুষ ও নারী এ ব্যাপারটি নিয়ে মোটেও আলাদা করে ভাবেন না। কারণ, তাঁরা সবাই নিজ নিজ সাংসারিক দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও আইনত সঙ্গীর সঙ্গে এ ধরনের বিশ্বাস ভঙ্গ করে চলছেন। এঁরা সবাই তাঁর সঙ্গীকে ঘরে খুশি রাখেন। নিজেদের দায়িত্ব আগ্রহ সহকারে পালন করেন, কিন্তু ঘরের বাইরে পরকীয়ায় লিপ্ত হন।
এমনই একটি কেস স্টাডির কথা আলোচিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে এক দম্পতির কথা। যাঁরা দীর্ঘদিনের সাংসারিক বন্ধনে আবদ্ধ। এঁদের দেখলে কেউই বিশ্বাস করবে না, যে এঁরা সাংসারিক জীবনে অসুখী। এঁদের দেখলে সবারই মনে হতে বাধ্য যে বিধাতা হয়তো, ‘দুজন-দুজনার’ করেই তাঁদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। কিন্তু এই দম্পতির স্বামীকে হঠাত্ই একদিন কোনো নিরালায় এক তরুণীর সঙ্গে দেখা গেল। এ ব্যাপারে স্বামী মানুষটির বিবেক অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি বলেন, ‘দেখুন আমি আমার স্ত্রীকে অত্যন্ত ভালোবাসি। কতটা ভালোবাসি সেটা আপনাদের বলে বোঝাতে পারব না। স্ত্রীর সঙ্গ ছাড়া আমি অচল। কিন্তু মাঝেমধ্যে যখন বিরক্তি লাগে, তখন আমি অন্য মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাই। সেই মেয়েটি আমার অফিসেরই একজন। সেও বিবাহিত। ’
এদিকে, ভারতীয় মনোবিজ্ঞানী হিমাংশু সাক্সেনা বলেন, ‘পুরুষেরা প্রকৃতিগতভাবেই বহুগামী।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে পরকীয়ার ব্যাপারটি অনেক আগে থেকে চললেও একে এখন স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখা হচ্ছে।’ হিমাংশু বলেন, বিবাহিত জীবন সুখের না হলে কিংবা কোনো কারণে সঙ্গীর সঙ্গে মন-মানসিকতা না মিললে মানুষ পরকীয়ার পথে হাঁটে। হিমাংশুর মতে, বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রে পুরুষ ও নারী অনেক ঘনিষ্ঠভাবে মেশে। এই কারণে, বহু ক্ষেত্রে তারা একে অন্যের সঙ্গে মানসিকভাবে অনেক কাছাকাছি চলে আসে। বিবাহিত হওয়ার পরেও নতুন কারও প্রতি এখন তাই সহজেই মানুষ আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।
পরকীয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কের নতুনত্বও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ব্যাপারে ১২ বছর ধরে বিবাহিত রাজেশ ঘোষাল নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে সবকিছু দিয়েছি। তাঁকে আমি ভালোবাসি। আমার একজন বান্ধবী আছে। সেই বান্ধবীকেও আমি ভালোবাসি। একজন মানুষ জীবনে অনেকজনকে ভালোবাসবে—এটাই স্বাভাবিক। আর ভালোবাসার সবাইকে কি বিয়ে করা সম্ভব?’ রাজেশ মশাইয়ের এই উক্তিতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, মাঝেমধ্যে সম্পর্কে নতুনত্ব আনার জন্যও মানুষ পরকীয়া করে থাকে। ওয়েবসাইট।
 পরকীয়ায় অনুশোচনা নেই!
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যু্ক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাই-১

লিখেছেন অপলক , ২০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:২৪




আমরা সবাই জানি ইসলাম ধর্মে, আত্মহত্যাকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সহীহ বুখারীতে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আমার বান্দা নিজের জীবনের ব্যাপারে আমার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তাই আমি তার ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোল্লাতন্ত্র ধর্ষণ-হত্যা ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের সমাধান নয়, বরং তা বৃদ্ধির একটি কারণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪২


সাত বছর বয়সের ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সমাধান হিসেবে, মোল্লাতন্ত্রের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ হুজুর পুরাতন এক ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। এইসব নৃশঃসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেজন্মা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো থাকো ছোট্ট মা এই অনিরাপদ শহরে

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫




মাঝে মাঝেই মনে হয়, পৃথিবীতে আমি যদি সত্যি কাউকে নিঃশর্ত ভালোবেসে থাকি, তবে সে আমার মেয়ে।
ওকে প্রথমবার কোলে নেয়ার দিনটার কথা আমাকে আবেগ প্রবণ করে তোলে ছোট্ট একটা উষ্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র কেন রামিসাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১০


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর ও দমবন্ধ করা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক ভীতি বা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×