মানুষ সবসময় আকাশের প্রতি আলাদা এক ধরনের অনুভূতি লালন করে। আমার মনে হয় প্রতিটি মানুষেরই জীবনে কোন না কোন মুহূর্তে আকাশে উড়ার ইচ্ছে হয়েছে। সে যত ভাল বা খারাপ হোক না কেন। অবশ্য ভাল বা খারাপ মানুষ বলে কিছু আছে কিনা সেটা একটা প্রশ্নবিদ্ধ কথা। কারণ মানুষ মাত্রই স্বার্থপর। যখন কোন একজন মানুষ এমন কোন কাজ করে যা শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ-উদ্ধার ব্যতীত অন্য কারো উপকারে আসে না তখন অন্য সবাই তাকে স্বার্থপর বলে। কাউকে স্বার্থপর বলাও এক ধরনের স্বার্থপরতা। যাই হোক, এখন মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আপনারা নিশ্চয়ই ইকারাস এর গল্প শুনেছেন পরেছেন?
আমি আমার জীবনে ইকারাসের গল্প প্রথম শুনি আসলাম নামের এক আঙ্কেলের কাছ থেকে। উনি ঢাকা ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে উনাকে সৌদি আরবে প্রবাসি হতে হয়। উনি ওই সময়ে ওখানে মুদি দোকানে কাজ করতেন। উনি প্রায়শই আমাদের বাসায় আসতেন। আমাকে অনেক আদর করতেন। আমিও উনাকে খুব পছন্দ করতাম। কারণ উনি আমাকে মজার মজার অঙ্ক শিখাতেন এবং গল্প শুনাতেন। আমার আকাশ দেখার এবং চেনার হাতে খড়ি মূলত আসলাম আঙ্কেলের কাছ থেকেই। উনিই আমাকে প্রথম আকাশের সপ্তর্ষিমণ্ডল চিনিয়েছিলেন। উনার কাছ থেকেই আমি ইকারাসের বন্দী থাকার গল্প শুনি। ইকারাসের বাবার মোমের পাখা তৈরির গল্প শুনি। কিভাবে ওই মোমের পাখায় ভর করে কিভাবে সূর্য্যির কাছে গিয়ে পাখা গলে মৃত্যু বরন করে সেই গল্প শুনি। আমার ওই সময় কোন গল্পের মোরাল বুঝার মত বয়স হয়নি। আমি শুধু বুঝতে পেরেছিলাম ঐ ছেলেটি সূর্য পর্যন্ত পৌছাতে পারেনি। আমি এতে খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। আমার ঐ সময় থেকেই স্বপ্ন ছিল যে আমি একদিন ইকারাসের মত মোমের পাখায় ভর করে আকাশে উড়ব। রাতের আকাশে উড়ে উড়ে শহরের আলো দেখব। চাঁদের সামনে দিয়ে উরে পৃথিবীতে নিজের ছায়া ফেলবো। তারপর একদিন বুঝতে পারলাম যে উড়া সম্ভব না। তখন স্বপ্ন শুরু করলাম পাইলট হওয়ার। আরও দ্রুত বুঝতে পারলাম এটা আরও বেশি মাত্রায় অসম্ভব। তখন নামাজে বসে দোয়া করতাম আল্লাহ যেন আমাকে পাইলট বানায়, আল্লাহ যেন আমাকে একটা হেলিকপ্টার দেয়। যদি আল্লাহ আমাকে হেলিকপ্টার দেয় তাহলে আমি আল্লাহকে আমার সব খেলনা দিয়ে দিব। কিন্তু আল্লাহ আমার খেলনা হয়ত তেমন একটা পছন্দ করতেন না। কারণে আমার অধিকাংশ খেলনাই পুলিশি এবং মারণাস্ত্র-মূলক। আল্লাহতো আবার রহীম রহমান। উনি যুদ্ধাস্ত্র পছন্দ না করাটাই স্বাভাবিক। আমি যখন প্লেনে করে আকাশ ভ্রমণ করতাম আমি সবসময় উইন্ডো সিট খুঁজতাম। যাতে করে আকাশ থেকে মাটি, নদী, সাগর, মরুভূমি, মরুভূমির ফসলের মাঠ দেখতে পারি। টাস্কি খাবেন না প্লিজ। মরুভূমিতেও ফসল ফলান হয়। এবং ওগুলো অনেক সুন্দর। গোল গোল ফসলের মাঠ। আমার কাছে কখনই আকাশ ভাল লাগতনা। বোরিং মেঘমালা... মেঘের পরে মেঘে... মেঘের নীচে মেঘ... মেঘের উপরে মেঘ... উফ অসহ্য মেঘ যন্ত্রণা...
আমি উড়ার স্বপ্ন দেখতাম। জেগে জেগেই দেখতাম। পেন্সিলের পিঠে কাগজ কে পাখার মত করে বেধে নিতাম। তারপর আকাশে উড়ে উড়ে শত্রু নিধন করতাম, জেট বিমান ফেলে দিতাম, প্রেম করতাম ইত্যাদি...
আজ শিশুকালেই থাকুক। ভবিষ্যতে যদি কোনদিন সময় পাই তাহলে মানুষ পাখির গল্প শেষ করব... অথবা শুরু করবো।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



