somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাস্তব মত্স্যকন্যার সন্ধানে-২

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৩:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠিক আছে, আমি আবার আপনাদের মাঝে মত্স্যকন্যা সম্পর্কিত কিছু তথ্য জানাতে ফিরে এসেছি।
সুসংবাদ হচ্ছে যারা আমার বাজে বাংলার কারণে গতকাল সাফার করেছিলেন তাদের আর আজ থেকে তেমন একটা কষ্ট করতে হবে না। আনি আজ অভ্র ইন্সটল করেছি। এইমাত্র অবশ্য। তাই বেশ সুন্দর ভাবে আরামের সাথে বাংলা লিখতে পারছি।


কথা না পেঁচিয়ে শুরু করি। অনেক কিছুই লিখতে হবে।

প্রথমেই যেই প্রশ্ন আসবে সেটা হল মারমেইড (মত্স্যকন্যা) কি জিনিশ?
মারমেইড এক ধরনের জলজ প্রাণী যার উপরের অংশ নারীর মত এবং নিচের অংশ একটা মাছের মত।

মারমেইডের কি কোন পুরুষ প্রজাতি আছে?
হুম, আছে। সো যারা এদের প্রেমিক হওার আশায় ব্লগটি পড়ছেন তাদের জন্য কোন সুখবর নেই। এদের পুরুষদের মারম্যান বলে। আর তাছাড়া পুরুষ যদি নাও থাকতো তাহলেও বিশেষ সমস্যা হওয়ার কথা না। পৃথিবীতে অনেক মাছ এবং প্রাণী আছে যেই প্রজাতিতে জেনুইন পুরুষ নেই। এরা জীবনের একটা পর্যায়ে নারী হতে পুরুষ লিঙ্গে কনভার্ট হয়।


মারমেইডদের কি আসলেই অস্তিত্ব আছে?
এটা একটা অসাধারণ প্রশ্ন হয়েছে। এর উত্তর খুঁজার জন্যেই আমি এবং আপনি মাঠে নেমেছি। আমি তথ্য দিব, আপনি যুক্তি দিবেন, বিচার করবেন, বিশ্লেষণ করবেন। এভাবেই হয়ত আমরা হয়তো কোনদিন এই ধাঁধার সমাধান করতে পারবো।

মারমেইডদের সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের অতীতে ফিরে যেতে হবে।
এমন এক ধরনের মানুষ যার লেজ আছে এবং সমুদ্রে থাকে, এই ধরনের উপকথা বা folklore পৃথিবীর প্রায় সব অঞ্চলেই কম বেশি প্রচলিত আছে। বিশেষ করে যেখানে জলাশয় আছে। পৃথিবীর সকল আদি সভ্যতা এমনকি অসভ্যতাতেও আপনি এদের অস্তিত্ব খুঁজে পাবেন। দেখতে, শুনতে মোটামুটি এক ধরনের বর্ণনাই আপনি শুনতে পাবেন। এমনকি তাদের activities এও আপনি মিল পাবেন। যেসব অঞ্চলের সভ্যতায় এদের উপস্থিতি বেশ উল্লেখযোগ্য সেগুলো হচ্ছে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন অর্থাৎ সমগ্র পুরব এশিয়া, ইউরোপ, ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, আটলান্টিক মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ অ্যামেরিকা, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ইত্যাদি।
মারমেইডদের নিয়ে অনেক লেখা লেখি হয়েছে প্রাচীন এবং আধুনিক সাহিত্যে। সাহিত্যে এদের সবচেয়ে পুরনো নিদর্শন হল ব্যাবিলনিয় সভ্যতায়। মানে প্রাচীন ইরাকি সভ্যতায়। ইয়েস, মধ্যপ্রাচ্যের কথাই বলছি। এই সভ্যতার এক দেবী তার প্রেমিককে accidently খুন করার পর অপরাধ-বোধ থেকে নিজেকে মারমেইডে রূপান্তরিত করে। এই সভ্যতার এই উপকথাটি আসলে কি বলতে চাচ্ছে জানেন?
বলতে চায়, তোমরা যেই মারমেইডদেরকে জলে দেখতে পাচ্ছ তাদের সম্মান করো। কারণ তারা দেবী আতারগাতিসের বংশধর। হুম, দেখতেই পাচ্ছেন যুক্তি। যদি না অই অঞ্চলের মানুষ মারমেইড দেখতে পেত তা না হলে এই রকম একটা ধারনা এদের মাঝে কেন প্রচলিত করার দরকার হত? নিশ্চয়ই তখন সেখানে মারমেইড জাতীয় কিছু ছিল যাদের সম্মান জানানর জন্য এখানে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রেস্পেক্ট দ্যা মারমেইডস



এই ধরনের শিলালিপি পাওয়া গেছে ব্যাবিলনিয় সভ্যতার বড় বড় জলাশয়ের পাশে।

দেবী আতারগাতিসের কিছু ছবি




আগামী পর্বে ব্যাবিলনিয় এবং সিরিয় প্রাচীন সভ্যতায় মারমেইড এবং মারম্যানদের উপস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করা হবে। আজ লিখলাম না কারণ আমাকে কিছু জিনিস স্ক্যান করে আপনাদের দেখাতে হবে। প্রচুর এন্সিয়েন্ট শ্লোক আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

আবারো আপনাকে ধন্যবাদ কষ্ট করে আমার ব্লগ পরার জন্য। ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন। কিছু জানার থাকলে প্রশ্ন করবেন। মন্তব্য, অনুরোধ এবং উপদেশ সবই খুব আগ্রহের সাথে আমি গ্রহণ করবো। এভাবে পর্ব টানতে আসলে আমারও ভাল লাগছে না। ইচ্ছে করছে এক চোটে সব বলে ফেলি। কিন্তু সামনেই আমার ইম্পরট্যান্ট পরীক্ষা আছে। তাই আমাকে স্টাডি করতে হয়। প্লিজ বিরক্ত হবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৩:১৬
২২টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ব্লাইন্ড স্পট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭



ঘন কুয়াশার চাদর আর আঁকাবাঁকা সড়কের আড়ালে ‘পদ্মাডাঙা’ গ্রামটা দেখতে আর দশটা নীরব, নিরুপদ্রব পল্লীর মতোই। কিন্তু সাইবার অপরাধের মানচিত্রে এই জায়গার পরিচয় ভিন্ন। ফিশিং, ব্যাংক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×