ঠিক আছে, আমি আবার আপনাদের মাঝে মত্স্যকন্যা সম্পর্কিত কিছু তথ্য জানাতে ফিরে এসেছি।
সুসংবাদ হচ্ছে যারা আমার বাজে বাংলার কারণে গতকাল সাফার করেছিলেন তাদের আর আজ থেকে তেমন একটা কষ্ট করতে হবে না। আনি আজ অভ্র ইন্সটল করেছি। এইমাত্র অবশ্য। তাই বেশ সুন্দর ভাবে আরামের সাথে বাংলা লিখতে পারছি।
কথা না পেঁচিয়ে শুরু করি। অনেক কিছুই লিখতে হবে।
প্রথমেই যেই প্রশ্ন আসবে সেটা হল মারমেইড (মত্স্যকন্যা) কি জিনিশ?
মারমেইড এক ধরনের জলজ প্রাণী যার উপরের অংশ নারীর মত এবং নিচের অংশ একটা মাছের মত।
মারমেইডের কি কোন পুরুষ প্রজাতি আছে?
হুম, আছে। সো যারা এদের প্রেমিক হওার আশায় ব্লগটি পড়ছেন তাদের জন্য কোন সুখবর নেই। এদের পুরুষদের মারম্যান বলে। আর তাছাড়া পুরুষ যদি নাও থাকতো তাহলেও বিশেষ সমস্যা হওয়ার কথা না। পৃথিবীতে অনেক মাছ এবং প্রাণী আছে যেই প্রজাতিতে জেনুইন পুরুষ নেই। এরা জীবনের একটা পর্যায়ে নারী হতে পুরুষ লিঙ্গে কনভার্ট হয়।
মারমেইডদের কি আসলেই অস্তিত্ব আছে?
এটা একটা অসাধারণ প্রশ্ন হয়েছে। এর উত্তর খুঁজার জন্যেই আমি এবং আপনি মাঠে নেমেছি। আমি তথ্য দিব, আপনি যুক্তি দিবেন, বিচার করবেন, বিশ্লেষণ করবেন। এভাবেই হয়ত আমরা হয়তো কোনদিন এই ধাঁধার সমাধান করতে পারবো।
মারমেইডদের সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের অতীতে ফিরে যেতে হবে।
এমন এক ধরনের মানুষ যার লেজ আছে এবং সমুদ্রে থাকে, এই ধরনের উপকথা বা folklore পৃথিবীর প্রায় সব অঞ্চলেই কম বেশি প্রচলিত আছে। বিশেষ করে যেখানে জলাশয় আছে। পৃথিবীর সকল আদি সভ্যতা এমনকি অসভ্যতাতেও আপনি এদের অস্তিত্ব খুঁজে পাবেন। দেখতে, শুনতে মোটামুটি এক ধরনের বর্ণনাই আপনি শুনতে পাবেন। এমনকি তাদের activities এও আপনি মিল পাবেন। যেসব অঞ্চলের সভ্যতায় এদের উপস্থিতি বেশ উল্লেখযোগ্য সেগুলো হচ্ছে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন অর্থাৎ সমগ্র পুরব এশিয়া, ইউরোপ, ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, আটলান্টিক মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ অ্যামেরিকা, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ইত্যাদি।
মারমেইডদের নিয়ে অনেক লেখা লেখি হয়েছে প্রাচীন এবং আধুনিক সাহিত্যে। সাহিত্যে এদের সবচেয়ে পুরনো নিদর্শন হল ব্যাবিলনিয় সভ্যতায়। মানে প্রাচীন ইরাকি সভ্যতায়। ইয়েস, মধ্যপ্রাচ্যের কথাই বলছি। এই সভ্যতার এক দেবী তার প্রেমিককে accidently খুন করার পর অপরাধ-বোধ থেকে নিজেকে মারমেইডে রূপান্তরিত করে। এই সভ্যতার এই উপকথাটি আসলে কি বলতে চাচ্ছে জানেন?
বলতে চায়, তোমরা যেই মারমেইডদেরকে জলে দেখতে পাচ্ছ তাদের সম্মান করো। কারণ তারা দেবী আতারগাতিসের বংশধর। হুম, দেখতেই পাচ্ছেন যুক্তি। যদি না অই অঞ্চলের মানুষ মারমেইড দেখতে পেত তা না হলে এই রকম একটা ধারনা এদের মাঝে কেন প্রচলিত করার দরকার হত? নিশ্চয়ই তখন সেখানে মারমেইড জাতীয় কিছু ছিল যাদের সম্মান জানানর জন্য এখানে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রেস্পেক্ট দ্যা মারমেইডস
এই ধরনের শিলালিপি পাওয়া গেছে ব্যাবিলনিয় সভ্যতার বড় বড় জলাশয়ের পাশে।
দেবী আতারগাতিসের কিছু ছবি
আগামী পর্বে ব্যাবিলনিয় এবং সিরিয় প্রাচীন সভ্যতায় মারমেইড এবং মারম্যানদের উপস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করা হবে। আজ লিখলাম না কারণ আমাকে কিছু জিনিস স্ক্যান করে আপনাদের দেখাতে হবে। প্রচুর এন্সিয়েন্ট শ্লোক আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
আবারো আপনাকে ধন্যবাদ কষ্ট করে আমার ব্লগ পরার জন্য। ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন। কিছু জানার থাকলে প্রশ্ন করবেন। মন্তব্য, অনুরোধ এবং উপদেশ সবই খুব আগ্রহের সাথে আমি গ্রহণ করবো। এভাবে পর্ব টানতে আসলে আমারও ভাল লাগছে না। ইচ্ছে করছে এক চোটে সব বলে ফেলি। কিন্তু সামনেই আমার ইম্পরট্যান্ট পরীক্ষা আছে। তাই আমাকে স্টাডি করতে হয়। প্লিজ বিরক্ত হবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৩:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



