somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদ্যুৎ সঙ্কট হ্রাসে বিকল্প পদ্ধতি

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামহোয়ারইনব্লগ এর পাঠকবৃন্দ
আমি নতুন ব্লগার
একটা পোস্ট করতে চাচ্ছি অনেকদিন ধরেই,হয়ে উঠছে না
তারপরও পোস্টটা করলাম যা আমার লিখা না নিচে লিঙ্ক আছে ।
দোয়া রাখবেন আমার জন্য, যেন নতুন পোস্ট করতে পারি।


বিদ্যুৎ সঙ্কট হ্রাসে বিকল্প পদ্ধতি

মাত্র আটটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেই বদলে যেতে পারে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার চালচিত্র। এসব উদ্যোগে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ছাড়াই মাত্র এক বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকলে মাত্র দুবছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে। আর উদ্যোগ নেয়ার এক বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসতে পারে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
এখন দেশের মোট ৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পিডিবি গড়ে ৪ হাজার ২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন রাতারাতি সম্ভব না হওয়ায় সঙ্কট মেটাতে রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক) বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রেন্টাল পদ্ধতিতে সরকারকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে সরবরাহ করতে হয় বলে ভর্তুকি গুনতে হবে বেশি। এ জন্য আগে রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ঘুরেফিরে রেন্টাল পদ্ধতির দিকেই ঝুঁকছে সরকার। সূত্র বলছে, দ্রুত সঙ্কট মেটাতে রেন্টালের বিকল্প না থাকায় নতুন করে আরও এক হাজার ৩শ মেগাওয়াটের রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে যে খরচ হবে তার থেকে অনেক কম খরচে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব। তবে সরকারের তরফ থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও বিগত দেড় বছরে এর একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। এজন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনাগ্রহ এবং সঠিক সময়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে।

সিএফএল বাল্ব ব্যবহার
সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের পরিবর্তে সিএফএল (সাশ্রয়ী বাতি) বাল্বে বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ ৮০ ভাগ কম। সরকার ঘোষিত মানে সিএফএল বাল্ব সংযুক্ত করতে ৩শ কোটি টাকা প্রয়োজন। সারাদেশে সিএফএল বাল্ব ব্যবহার করলে জাতীয় গ্রিড থেকে ৬শ মেগাওয়াট চাহিদা হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ১শ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নেমে আসবে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল ফেব্রুয়ারি থেকে বিনামূল্যে দুই কোটি ৬৫ লাখ সিএফএল বাল্ব বিতরণ করা হবে। তবে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় চলতি গ্রীষ্মে কোনও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে সাধারণ বাল্ব পরিবর্তন করে সিএফএল বাল্ব প্রতিস্থাপনে সর্বোচ্চ তিন মাসের বেশি সময় লাগার কথা নয়।

ইন্টেলিজেন্ট মোটর স্থাপন
শিল্প-কারখানা ও পাঁচ ঘোড়ার ঊর্ধ্বে যেকোনও মোটরের বিপরীতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইন্টেলিজেন্ট মোটর স্থাপন করলে ৫০ ভাগ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। এতে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় গ্রিডের ওপর থেকে ৭শ মেগাওয়াট চাপ কমে যাবে। সাধারণ মোটরের স্থলে ইন্টেলিজেন্ট মোটর স্থাপনে প্রতিটির জন্য অতিরিক্ত এক লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। সর্বোচ্চ চার মাসের মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এক্ষেত্রে সরকার এবং শিল্প মালিকদের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

টিউব লাইটে ইলেক্ট্রিক ব্যালাস্ট স্থাপন
এক কোটি টাকা ব্যয়ে এক মাসের মধ্যে টিউব লাইটে ইলেক্ট্রিক ব্যালাস্ট স্থাপন করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর থেকে ১শ মেগাওয়াট চাহিদা হ্রাস পাবে। এ ধরনের ব্যালাস্ট স্থাপনে ৮০ ভাগ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

ক্যাপাসিটর স্থাপন
বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে গ্রাহক প্রান্ত পর্যন্ত ক্যাপাসিটর স্থাপন করলে জাতীয় গ্রিডের ওপর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫০ মেগাওয়াট চাহিদা হ্রাস পাবে। এজন্য বেশ কয়েকবার প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও শুধু দুর্নীতির কারণে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ক্রয় করায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে একটি নিরীক্ষা করে সরকারের কাছে ক্যাপাসিটর স্থাপনের সুপারিশ করেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংস্কার
দেশের ৪৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ছয় হাজার ৪৫ মেগাওয়াট। কিন্তু বয়সের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৪শ ৯০ মেগাওয়াটে। পিডিবি সূত্রমতে, দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এতটাই পুরনো যে, সেগুলো আর পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে পারছে না। পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংস্কার করলে মাত্র এক বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৭শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব। ১শ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশি প্রকৌশলীদের দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ইতিমধ্যে সরকারের তরফ থেকে বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য ভারতের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এ কাজ শুরু হবে বা আদৌ হবে কি না সে সম্পর্কে বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ কিছু বলতে পারছে না।

ক্যাপটিভ পাওয়ার থেকে অব্যবহৃত বিদ্যুৎ ক্রয়
ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টে ব্যবহৃত গ্যাসের ৭০ ভাগই অপচয় হয়। সেদিক দিয়ে ক্যাপটিভ পাওয়ার দেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও এর মধ্যেই দেশে প্রায় ৭শ ৫০টি ক্যাপটিভ পাওয়ার স্টেশনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সম্মিলিতভাবে এসব ক্যাপটিভের প্রতিদিন এক হাজার ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। তবে এর অর্ধেক বিদ্যুৎ শিল্পমালিকদের প্রয়োজন হয়। বাকি অর্ধেক বিদ্যুৎ ক্রয় করা হলে কোনও খরচ ছাড়াই জাতীয় গ্রিডে ৫শ থেকে ৭শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার
সারাবিশ্ব কিন ফুয়েল হিসাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশে এখনও বিষয়টি আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কুড়ি হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মাত্র দুই বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব। ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দশ হাজার কোটি টাকা বিদেশি সহায়তা পাওয়া সম্ভব। যেহেতু জ্বালানি বাবদ কোনও ব্যয় নেই এবং এ বিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব তাই প্রকৃত খরচ আরও কম হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এতে কো-জেনারেশনের মধ্যেমে ৩শ মেগাওয়াট এবং সূর্য, বাতাস, বায়োমাস ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ থেকে এক হাজার ৭শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। দেরিতে হলেও সরকার চলতি মাসে ২শ মেগাওয়াটের বায়ুবিদ্যুৎ এবং ৭ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে।

লোড ব্যবস্থাপনার বাস্তবায়ন
লোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোনও খরচ ছাড়াই এক থেকে দুই মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডের ওপর থেকে ৪শ মেগাওয়াট চাহিদা হ্রাস করা সম্ভব। এ কাজে প্রচারের জন্য সামান্য ব্যয় ছাড়া অন্য কোনও খরচ নেই।
বিদ্যুৎ সঙ্কট সমাধানের বিকল্পগুলো নিয়ে ভাবতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সঙ্কট সমাধানের বিকল্প পথ, বিশেষ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় একটা নিরন্তর প্রক্রিয়া। উৎপাদন যে পদ্ধতিতেই হোক না কেন, সাশ্রয় সব সময় জরুরি। এ ছাড়া মূলধারার বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমান্তরালে বিকল্প পদ্ধতির উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে ক্ষতি কী?


লিঙ্ক::
Click This Link
ধন্যবাদ সবাইকে ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×