somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শৈশবের উৎসবমুখর রমজান

০৫ ই আগস্ট, ২০১৩ সকাল ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলা থেকেই রমজান মাসটাকে আমার উৎসবমূখর মনে হত। চারিদিকে কেমন যেন একটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করত। আমি অবশ্য এখন যে খুব একটা বড় তা নয়। সবে মাত্র ২৩ এ পা দিলাম। তবে আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে গ্রামের ছেলে হওয়ার সুবাধে অনেক কিছুই দেখেছি। যা এখনকার দিনে শহরের ইটের স্তূপে বন্ধী বেড়ে উঠা আধুনিক ছেলেদের জন্য করাতো দূরের কথা চিন্তা করাও কষ্টসাধ্য।রমজান মাস প্রায় শেষ হতে চলল। তাই আমার এই লেখাটি শৈশবের রমজান মাস নিয়ে।
(ক) সেহরী পর্ব-
রাত যখন দুইটা বাজতো তখন দূর মসজিদ থেকে ভেসে আসতো মধ্য বয়স্ক মোয়াজ্জেনের চিরাচরিত কন্ঠটি " রোজদারীগণ উঠুন, সেহরী খান, রোজা রাখুন" তবুও ঘুম ভাঙ্গতে চাইত না এই কথা শুনার পর রাজ্যের যত ঘুম যেন আমার উপর চেপে বসতো। লেপটা যেন সবে মাত্র আরামদায়ক হতে শুরু করেছে। শেষে আম্মা-আব্বা নিতান্ত অনিচ্ছা সত্বে ডাকতে আসতো। যেন না উঠলে তারা বাঁচে। তবে শেষ মূহূর্তে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে পড়তাম। তখন বাহিরের কলঘরে যখন মুখ ধূতে যেতাম, আশেপাশের ঘর থেকে হলুদ আলো সারা উঠানম্বয় ছড়িয়ে পড়তো। দেখতে বেশ ভালো লাগতো। আর হাঁড়ি-পাতিলের শব্দতো আছেই। তখন কোনভাবে শীতকে ফাঁকি দিয়ে তাড়াতাড়ি আধা মুখ ধূয়ে ঘরে ঢুকে পড়তাম।
খাওয়া-দাওয়া শেষ হলেই আমার ছোট্ট গ্যাং এর সদস্যরা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে আমাকে ডাকতো। এটা হলো নামাজে যাওয়ার সিগন্যাল। যদিও নামাজটা মূল উ্দ্দেশ্য কখনোই ছিলো না। মাঝে-মাঝে ডাকতে আসলে আব্বা-আম্মার কাছে আমার গ্যাং সদস্যরা ধরা পরে যেত। তখন আমার নামাজের যাওয়াটা একটু অসুবিধা হত। তবুও আমাকে দমানো যেত না। শেষমেষ বেড়িয়ে পড়তাম। সাথে থাকতো শীতকে হার মানানোর পূর্ব প্রস্তূতী। আবার আমাদের গ্যাং এর যে সদস্য বের হয়নি তাকে ঘর থেকে বের করার জন্য চলতো নানা আয়োজন। শেষ মেষ প্রায় ১৪-১৫জনের একটা গ্রুপ হত। নামাজে গিয়ে চলতো নামাজের মধ্যে নানা দুষ্টামী। নামাজের পরে যে নামাজীরা আমাদেরকে বকাঝকা দিবে সেদিকেও আমাদের খেয়াল ছিলো। তাইতো সালাম ফিরিয়ে আমাদেরকে আর মসজিদে দেখা যেত না। আমরা যখন নামাজ পড়ে বের হতাম,তখন চারিদিক বেশ ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকতো। কুয়াশা আচ্ছন্ন করে রাখতো চারিদিক। যত বেশী অন্ধকার থাকতো আমরা তত বেশী খুশী হতাম। ঘুরার মজাইতো অন্ধকারে। আমরা একেক দিন যেতাম একেক দিকে। বেশীর ভাগ যেতাম আনন্দ রাজার দীঘীতে। আমরা রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে রাস্তার পাশের জলপাই গাছ থেকে জলপাই কুড়াতাম। আর আশেপাশে মালিককে না দেখলে দুই একটা ঢিল ছুড়ে দিতাম। তাতে মাঝে মধ্যে অনেক তাড়া খেতে হতো। আমরা সূর্য্য ওঠা পর্যন্ত এলাকা চড়ে বেরাতাম। যখন পূর্বের আকাশ একটু সাদা হয়ে আসতো, তখন আগে থেকে জমিয়ে রাখা খড়ে আগুন ধরিয়ে দিতাম। সবাই পুরো উদ্দ্যেমে আগুন পোহাতাম। মাঝে মধ্যে দুষ্টামীর বশে অন্যের জমিয়ে রাখা খড়ের গাধায় আগুন দিয়ে লাপাত্তা হয়ে যেতাম। পড়ে অবশ্য অনেক নালিশ যেত বাড়ীতে। তাতে কি? শৈশবের মজাকি তাই বলে থেমে থাকবে নাকি? যখন শেষ সময়ে বাড়ী ফেরার পালা তখন চলতে আরেক ধরনের খেলা। টিনের চালে ঢীল মেড়ে পালিয়ে যাওয়া। আমাদের মজা যখন শেষ হতো তখন আমরা বাড়ী ফিরতাম একে একে। আবার অপেক্ষা করতাম আগামীকালের জন্য। এভাবেই কেটে গেছে কতো দিন। এখন যা শুধুই স্মৃতি। মাঝে-মাজে মনে হয়, ইশ! যদি ঐ রঙ্গিন দিনগুলি আবার ফিরে পেতাম। আমার কাছে যদি এমন যাদুর কাঠি থাকতে যা দিয়ে আমি আমার হারানো শৈশবে ফিরে পারতাম। কিন্তু এমন ভেবে কি লাভ? সেই রঙ্গিন শৈশব আর ফিরে আসবে না আর।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×