somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গত কয়েকদিন ধরে রাস্তায়-রাস্তায় ভালোই হাঁটাহাঁটি হয়েছে। শরীরের জন্য একটু আরাম দরকার। ঘুম হল শরীরের একমাত্র আরাম। আজকে সারাদিন ঘুমাবো বলে ঠিক করলাম। তবে আরামে ঘুমাতে পারবো বলে মনে হয় না। আজকে ছুটির দিন। তাই মেসে তাস খেলা হচ্ছে।প্রত্যেক ছুটির দিনেই মেসে তাস খেলা হয়। খেলা শেষে ভালো খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনও থাকে। পাশের ঘর থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ আসছে। চিৎকার চেঁচামেচিতে আমার কখনো কোন সমস্যা হয় না। বরং চিৎকার চেঁচামেচি না থাকলে আমার কাছে কেমন জানি সমস্যা-সমস্যা মনে হয়।মনে হয় দম বন্ধ হয়ে আসছে। তবে আজকের হৈ চৈ এ একটু সমস্যা হচ্ছে। মাথায় যন্ত্রনা শুরু হয়ে গেছে। আমি ঘুমাতে চেষ্টা করলাম। ঘুম আসবে বলে মনে হয় না। ঘুমানোর চেষ্টা করাই বৃথা। তারচেয়ে বরং রুপার চিঠি পড়া যেতে পারে। মাস খানেক আগে রুপা আমাকে এই চিঠি দুটি পাঠিয়েছে। এখনো পড়া হয়নি। পড়লেইত শেষ হয়ে যাবে। আমি আমার বালিশের নিচ থেকে চিঠি বের করলাম পড়ার জন্য। চিঠিও যে পড়তে পারবো সেই সম্ভাবনাও দেখছি না।অনেকক্ষণ ধরেই লক্ষ্য করলাম ঘরের এক পা ভাঙ্গা নড়বড়ে চেয়ারটিতে একজন কিম্ভূত-কিমাকার লোক বসে আছে।লোকটি যেকোন মুহূর্তে চেয়ার ভেঙ্গে মাটিতে পড়তে পারে। দেখে মনে হচ্ছে কোন সার্কাস পার্টি থেকে এসেছে। রঙ মেখে সঙ সেঁজে আছে। লম্বা দাঁড়ি। ভ্রুঁ মোটা-মোটা। চোখে কাজল। গায়ে সোনালী রঙ্গের চিকচিকে ড্রেস। গা থেকে আবার আতর টাইপ গন্ধ আসছে। ঘরম্বয় সে গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। লোকটি দৈত্যাকার স্বাস্থ্যের অধিকারী। এখনো চেয়ার ভেঙ্গে পড়ছে না কেন সেটাই বুঝতে পারছি না। লোকটি কোন এক ফাঁকে ঘরে ঢুকে পড়েছে। আমার ঘরের দরজা-জানালা সব সময় খোলাই থাকে। যে কেউ ইচ্ছা করলেই ঘরে ঢুকে যেতে পারে। লোকটি কোন কথা বলছে না। আমারও কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। আমি ঠিক করলাম আমি লোকটিকে তেমন গুরুত্ব দেব না। তাহলে সে বিরক্ত হয়ে কোন এক সময় চলে যাবে। আমি বরং রুপার চিঠি পড়ি।

হিমু
আশা করি অনেক ভালো আছ। আমি জানি তুমি যেখানেই থাকবে অবশ্যই ভালো থাকবে। তোমার হাঁটাহাটি কেমন চলছে? নিশ্চয়ই অনেক ভালো। মাঝে-মাঝে আমারও ইচ্ছে করে তোমার মত রাস্তায় বেরিয়ে পড়তে। কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না। কারণ আমার একা একা হাঁটতে ইচ্ছে করে না।আমার ইচ্ছা করে তোমার সাথে হাঁটতে। আচ্ছা তুমি কি কোন এক নীল জোছনা রাতে আমাকে পাশে নিয়ে একটু হাঁটবে? আমার জিবনে একটাই চাওয়া কোন এক নীল জোছনা রাতে আমি তোমার পাশে একটু হাঁটবো।আমার জিবনে তেমন কোন চাওয়া নেই। আচ্ছা আমার এই চাওয়াটা কি অনেক বড় কিছু? হিমু তোমার অনুমান শক্তিতো অনেক ভালো। তুমি বলতো আমার এই ইচ্ছাটা কি কোনদিন পূরণ হবে? আমার মনে হয় হবে না। তবুও কেন জানি আমি ঐ জোছনা রাতটার অপেক্ষায় থাকি। হিমু আমি তোমার সাথে প্রায় সময়ই রাগ করি। যখন রাগ করি তখন ঠিক করি আমি আর তোমাকে কোনদিন চিঠি লিখবো না। কিন্তু পারি না। কোন এক সময় রাগ পড়ে যায়। কেন জানি তোমার সাথে রাগ করে থাকতে পারি না। আচ্ছা আর লিখতে পারছি না। আমার প্রচন্ড জ্বর।জ্বর নিয়ে তোমাকে লিখছি।জ্বরের ঘোরে মনে হয় অনেক আবোল-তাবোল বলে ফেলেছি।আমার কিছু দিন ধরে মনে হচ্ছে আমার মাথার ভিতরে ঝিঁঝি পোকা কিঁচির-মিচির করছে। পারলে আমাকে...... না থাক। তোমাকে বলে লাভ নেই তুমি কখনোই আমাকে দেখতে আসবে না। অনেক ভালো থাক। আর হাঁটাহাঁটি চালিয়ে যাও।
রুপা

আমি বুঝতে পারছি না রুপাকে দেখতে যাব কিনা।রুপার সাথে অনেক দিন দেখা হয় না। তবে কোন অসুস্থ প্রিয় মানুষের মুখ দেখতে নেই। মায়া পড়ে যাবে। বাবা তার মহাপুরুষ গ্রন্থে এ নিয়ে উপদেশ বাণী রেখে গেছেন।

" বাবা হিমু কখনো কোন অসুস্থ প্রিয় মানুষের মুখ দেখতে যাবি না।তাদের থেকে ১০০০ হাত দূলে থাকবি। তাদের ধারে কাছেও যাবি না। তাতে মায়া পড়ে যাবে। তুই নিজের অজান্তেই মায়া জালে পড়ে যাবি। মায়া এমন একটা জিনিস,যেটাতে একবার জড়িয়ে গেলে আর হাজার চেষ্টা করেও ছুটতে পারবি না। তাই এই জিনিস থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকবি। তবে সুস্থ হলে প্রিয় মানুষের মুখ দেখা যেতে পারে।"

তাছাড়া এখন গিয়ে কোন লাভও হবে না। চিঠিটা প্রায় মাস খানেক আগের। রুপা মনে হয় এতোদিনে সুস্থ হয়ে গেছে। আমার হাতে আরেকটি চিঠি রয়েছে। দ্বিতীয় চিঠিটা পড়বো কিনা বুঝতে পারছি না। কিম্ভূত-কিমাকার লোকটা এখনো বসে আছে ভাঙ্গা চেয়ারটায়। আমার দিকে বিরস মুখে তাকিয়ে আছে। চোখের পলক পর্যন্ত পড়ছে না। আচ্ছা আমি কি আসলে স্বপ্নের মধ্যে আছি? কিন্তু স্বপ্ন বলেতো মনে হচ্ছে না। আমি দরজার পাশে কাকটাকে দেখতে পাচ্ছি।কাকটা প্রতিদিন একই সময়ে এখানে বসে থাকে। আমার জন্য দিয়ে যাওয়া বদি মিয়ার চা কাকটা খুব আরাম করে খাচ্ছে। সে প্রতিদিন এই সময়ে এসে আরাম করে চা খায়। সবচেয়ে বড় কথা হল আমি সবকিছুই স্পষ্ট দেখতে এবং শুনতে পাচ্ছি। স্বপ্নে এতো স্পষ্ট দেখতে বা শুনতে পাওয়া যায় না। তবে এমন বাস্তবধর্মী স্বপ্ন আমি এর আগেও অনেক বার দেখেছি।এতটা যে স্বপ্ন হতে পারে তার সম্ভানাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। লোকটা এখনো আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভালো যন্ত্রনা হলোতো। লোকটা আসলে কি চায়? চোর নাতো আবার? মেসের ম্যানেজার সাহেব আমাকে কয়েকদিন আগে সাবধান করে গেলেন।
-হিমু সাহেব একটু সাবধান থাকবেন। মেসে প্রতিদিন চোর ঢুকছে। সবার কিছুনা কিছু চুরি যাচ্ছে। একটু চোখ-কান খোলা রাখবেন।
প্রতিদিন নাকি চোর আসে। লোকটা যদি চোর হয় তাহলে সে ভুল জায়গায় এসে পড়েছে। আমার ঘরে নেয়ার মত কিছুই নেই। আমার এখন লোকটাকে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে‍ -ভাই আপনি কি চোর? যদি আপনি চোর হন আপনার যা নেয়ার আপনি নিয়ে চলে যেতে পারেন। অবশ্যই এখানে নেয়ার মতো আপনার জন্য কিছুই রাখতে পারিনি। সে কারণে আমি লজ্জিত। আপনি অযথা আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন। লোকটার জন্য এখন আমার সামান্য মায়াও হচ্ছে। অযথা এখানে বসে আছে।বেচারা হয়তো অন্য জায়গায় গেলে বেশী পোষাত। তবে মনের কথাগুলো মনেই থেকে গেল। আর বলা হলো না। সামাজিকতা বলতেওত একটা কথা আছে। সব কথা মুখ ফোঁটে বলা যায় না। বলতে পারলে আরাম পেতাম। আসলে আমরা সামাজিকতা রক্ষা করে চলেছি জন্ম থেকেই। মুখে এক আর অন্তরে এক। আজ আর ঘুমাতে পারবো না মনে হচ্ছে।ঘুমের চিন্তা আপাতত বাদ। আমি বাহিরে তাকালাম। বাহিরে ঝলমলে রোদ খেলা করছে।শরৎ-এর আকাশ।তাই আকাশ গাঢ় নীল হয়ে আছে।কোথাও কোথাও সাদা মেঘ দেখা যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে কাশফুল ফোঁটে আছে। চমৎকার একটা দিন।এই দিনে ঘরে পড়ে পড়ে ঘুমানোর কোন মানেই হয় না। বাহিরে বেরিয়ে পড়তে হবে।এই দিনে ঘরে বসে থাকতে নেই। এই লোকটাকে কি করা যায় বুঝতে পারছি না। যাই শেষ চিকিৎসা হিসেবে কল পাড় থেকে ঘুরে আসা যায়। সেখানে গেলে এমনিতেই ঘন্টাখানেক লাগে। সেখানে একটাই মাত্র বাথরুম।বাথরুম কখনোই খালি থাকে না। ঘন্টাখানেকতো এমনিতেই লাগে। বাথরুম খালী পাওয়া মানে চাঁদের দেশে জায়গা পাওয়ার সমান। কল পাড়ে কিছুক্ষণ সময় পাড় করে আসি। এই ফাঁকে যদি লোকটা চলে যায় তাহলেই বাঁচি। আমি লোকটার দিকে তাকিয়ে ভদ্রতা সুলভ একটা হাসি দিলাম।লোকটা ভদ্রতার ধারে কাছেও গেল না। নির্বিকার ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি লোকটাকে আমার ঘরে রেখে কল পাড়ের দিকে চলে আসলাম। এখানে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে হবে। আমার ভাগ্য নিতান্তই খারাপ হলো। আজকে বাথরুম একেবারেই খালি। আশে পাশেও কাউকে দেখা যাচ্ছে না। এখানে অনেকক্ষণ কাটানোর পরিকল্পনা বেস্তে গেল। অযথা এখানে ঘোরাঘুরি করার কোন মানেই হয় না। মেসের বিনয় বাবুকে আসতে দেখা যাচ্ছে।যাক সময় পার করার একজনকে পাওয়া গেল। বিনয় বাবু সবার সাথে গায়ে পড়ে কথা বলার জন্য উস্তাদ লোক। আর কথা বলতে তিনি এক ধরনের আগ বাড়িয়েই থাকেন। তবে আজকে আমাকে দেখে বিনয় বাবু কোন কথাই বলছে না। শুধু আমার দিকে তাকিয়ে কলপাড়ে বসলো। কি আর করা আমাকেই আজকে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে হবে। কি খবর বিনয় বাবু? শরীর ভালোতো?
এই আছি কোন রকম।
-পরিবারের সবাই ভালোতো?
-আছে আপনাদের দোয়া। বুঝলেন হিমু সাহেব দিনকাল খুব খারাপ যাচ্ছে।
-কেন কি হয়েছে?
- না এমাসের বেতনটা পেতে অনেক দেরী হচ্ছে। এখনো বাড়ীতে টাকা পাঠাতে পারছি না। সেদিকে আপনার বৌদি তাড়াতাড়ি টাকা পাঠানোর জন্য চিঠি লিখে পাঠিয়েছে। হিমু সাহেব পরিবারের চিন্তা খুব খারাপ জিনিস। আপনারতো কোন চিন্তা নাই। আপনি বেশ আছেন।
-আরে বিনয় বাবু টাকা পেয়ে যাবেন। চিন্তা করার কিছুই নাই।
-না তা পাব বুঝতে পারছি। হিমু সাহেব আমার মেয়েটার জন্য একটু দোয়া করবেন। সামনে তার এইচ.এস.সি পরীক্ষা। আপনি সাধু-সন্ন্যাসী মানুষ। আপনার দোয়া কাজে লাগবে। একটু দোয়া করবেন।
আমার প্রতি দিনদিন মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দেখে একদিকে খারাপ লাগছে আবার একদিকে ভালোই লাগছে। নিজেকে কেমন জানি ক্ষমতাবাণ-ক্ষমতাবাণ মানুষ মনে হচ্ছে।খারাপ লাগছে কারণ সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। তবে এতে চিন্তার কিছুই নাই। সাধারণ মানুষ জন্ম হয়েছে ঠকবার জন্যই। এতে আমার কিছুই করার নেই।
- আচ্ছা বিনয় বাবু দোয়া করবো। আপনাদের তাস খেলা কেমন চলছে?
-আর বলবেন না হিমু সাহেব। গত কাল রাত থেকেই খেলা চলছে। খেলার শেষে ভালো খাবার-দাবারের আয়োজন করা আছে। আপনিতো আসবেন না। আপনার খাবার আপনার রুমে পাঠিয়ে দেব।
-আচ্ছা পাঠিয়ে দিবেন। শুকরিয়া।
আমি বিনয় বাবুর সাথে প্রায় ঘন্টা খানেক সময় পার করে আবার আমার ঘরের দিকে রওনা হলাম। মনে মনে প্রার্থনা করলাম লোকটাকে গিয়ে যেন না দেখি।এতোক্ষনে হয়তো চলে যাবার কথা। আমার কলপাড়ে সময় পার করা একেবারেই পন্ডশ্রম হলো।
লোকটা এখনো আমার ঘরেই বসে আছে।ঠিক আগের ভঙ্গিতেই। একটা বিষয় নিশ্চিত হয়া গেল লোকটা চোর না।চোর হলে অনেক আগেই ঢু-মারতো। আমি তাকে ঢু-মারার পর্যাপ্ত সময় দিয়েছি। কাকটাকে এখনো দেখা যাচ্ছে। কাকটা চা শেষ করে এখনো কেন বসে আছে বুঝতে পারছি না। সম্ভবত আরেক কাপ চা খেতে চাচ্ছে। লজ্জায় বলতে পারছে না। অথবা বাহিরে গরম তাই এখানে আরাম করছে।থাকুক কাক কাকের মত। আমি লোকটাকে জিজ্ঞেস করলাম-ভাই আপনি কে?লোকটা কোন কথা বলছে না। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম ভাই আপনি কে?( আগের চেয়ে একটু শব্দ করে)।
-আমি আলাদিনের চেরাগের দৈত্য।
লোকটার গলার আওয়ার যথেষ্ট ভারী।
- ত দৈত্য ভাই এখানে কি চান?
-আমি আপনার কাছে এসেছি।
-আমার কাছে কেন এসেছেন? আমিতো কোন চেরাগে ঘষা মারিনি। তাছাড়া আমার কাছে কোন চেরাগও নেই।
-সবাইকে কেন চেরাগ ঘষতে হবে? সাধু-সন্ন্যাসী মানুষের কাছে আমি এমনিতেই আসি।
-অ আচ্ছা ! (আমি ভেবে অবাক হলাম আলাদিনের চেরাগের দৈত্যও মানুষের মত ভুল করছে) দৈত্য ভাই আমি এখন বের হব। আপনি ইচ্ছে করলে এখানে থাকতে পারেন। আমার খাটে ঘুমাতে পারেন। আবার ইচ্ছে করলে আমার খাটের নিচে একটা বিস্কিটের কৌটা আছে সেখান থেকে বিস্কিট খেতে পারেন। আমার একজন প্রিয় মানুষ এটা আমাকে কিনে দিয়েছে। আমার এখনো খাওয়া হয়নি।
-না আমি ঘুমাবো না। টানা অনেক বছর ঘুমিয়েছি। আর আমার খাবারেরও প্রয়োজন হয় না। আমি এখন থেকে আপনার তিনটা ইচ্ছা পূরণ না হয়া পর্যন্ত আপনার সাথেই থাকবো।
-আপনি কি আসলেই আমার তিনটা ইচ্ছা পূরণ করবেন?
-অবশ্যই পূরণ করবো। আমার কাজইতো ইচ্ছা পূরণ করা।
- কি বলছেন দৈত্য ভাই? আমারতো ভাবতেই গায়ের লোম কাটা দিয়ে উঠছে। আমি এখন যা ইচ্ছা তাই করতে পারবো?
- অবশ্যই।বলুন আপনার কি চাই?
-দৈত্য ভাই আপনার কি খুব তাড়া আছে?
-‌‌‌না আমার কোন তাড়া নেই।
-তাহলে ভেবে চিন্তেই ইচ্ছার কথাটা বলি? ফালতু ইচ্ছার কথা বলে অযথা একটা ইচ্ছা নষ্ট করতে চাচ্ছি না। বড়-সড় কিছু একটা চাইতে হবে।
-আপনি যখন ইচ্ছা তখনই চাইতে পারেন। কোন তাড়া নেই।
-ধন্যবাদ দৈত্য ভাই। আর আমি এখন বের হব। বাহিরে রোদে একটু হাঁটাহাটি করবো। আপনি কি যাবেন আমার সাথে? বাহিরে কিন্তু অনেক রোদ। আপনার রোদে হেঁটে অভ্যাস আছেতো?
-আমার রোদ বৃষ্টি কোন সমস্যা না।
-তা ঠিক আপনিতো আর আমাদের মত চামড়ার মানুষনা। রোদ একটু লাগলো আর আপনার জন্ডিস হয়ে গেল। আবার বৃষ্টির ফোঁটা দুইটা গায়ে পড়লো আর অমনি ঠান্ডা লেগে গেল। হাজার হোক আপনি চেরাগের সেই মহান দৈত্য।
ঘর থেকে বের হয়ার সময় হঠাৎ আমার প্রথম ইচ্ছাটার কথা মনে হয়ে গেল। তাছাড়া প্রথম ইচ্ছাটা কাজে লাগিয়ে দেখা যেতে পারে। আমি চেরাগের দৈত্য ভাইকে বললাম- আমি কি আমার প্রথম ইচ্ছাটা আপনার কাছে চাইতে পারি?
-অবশ্যই। বলুন আপনি কি চান?
চলবে .....................
(একটু হিমু লিখতে ইচ্ছা হলো। তেমন কোন গল্প মাথায় আসছে না। তাই এইটা লিখলাম। স্যারের লেখার সাথে মিলাবার চেষ্টা করবেন না। কারণ হিমু লেখার ক্ষমতা শুধু মাত্র একজনকেই দেয়া হয়েছিলো।)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:৫০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×