somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একমাত্র ভালবাসার কাছেই আমি সমর্পিত

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আবৃত্তির জন্য একটি কবিতা। বড় কবিতা। আশা করি আবৃত্তি শিল্পিদের এবং মানবতাবাদীদের ভাল লাগবে। আবৃত্তি শিল্পিদের আবৃত্তির জন্য উন্মুক্ত থাকলঃ

একমাত্র ভালবাসার কাছেই আমি সমর্পিত।
রাজার রক্তচক্ষু আর আমাকে বিব্রত করে না
কোন কামান-গোলা আর
করে না বিদীর্ণ এই হৃদয়।

কাল-বোশেখীর রুদ্ররুপ, সিংহের গর্জন
আর লোভাতুর জিহ্বার মিথ্যা আস্ফালন
কোনকিছুই শঙ্কিত করে না আর।

চৈত্রের দাবদাহ, পৌষের শীত
শ্রবণের অবিরাম বৃষ্টিধারা
আর ক্লান্ত করে না আজ আমাকে।

উঠোনের কোণে ছোট্ট ফুলের বাগান।
ছোট্ট হাতে লালিত একটি চারা
কুঁড়ি দিয়েছিল- ফুল হয়ে ফুটবে বলে।
দানবের বুটের তলায় পিষ্ঠ হলো যেদিন
বালিকার চোঁখের সমূখে।
সে চোঁখ আমি দেখেছি,
সে মুখ আমি দেখেছি,
সে ছোট্ট হৃদয় আমি দেখেছি।
এর চেয়ে বেদনাতুর আর কী দেখাবে আমাকে?

বালকের পোষা ঘুঘুর ছানাটি-
নিজের অস্তিত্বের চেয়েও বুঝি বেশী।
যেদিন খাঁচা ভেঙে কালো বেড়াল
থাবা বসালো;
কঁচি কলিজা, রক্ত, মাংস, হাড্ডি-
চিবিয়ে চিবিয়ে খেলো ওর চোখের সামনে।
বেদনা কাকে বলে -আমি দেখেছি।
এর চেয়ে ভয়ংকর আর কী দেখাবে আমাকে?

পিতাকে আমার মনে পড়ে না।
যখন শকুনীরা হামলে পড়েছিল আমাদের উঠোনে-
বাবা তার ভালবাসার বিশালতায়
দু‌‌‍‍ বাহুতে আগলে রেখেছিল আমাদের।
শকুনীরা তার বলিষ্ঠ দু বাহু, পিঠ, কাঁধ
এবং বিশাল হৃদয় খুবলে খুবলে খেয়েছিল;
শুধু আমরা রয়ে গেলাম।
আমি আজ সমর্পিত ভালবাসার সে বিশালতায়।

মায়ের মুখ চেয়ে চেয়ে পাড়ি দিয়েছি এতটা সময়।
অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রই-
কী করে এক রমণী
একা পাড়ি দিতে পারে অথৈ পাথার?
এমন দৃঢ়তায়!
আমি নতজানু, আমি সমর্পিত
ভালবাসার সে সৌন্দর্যে, সৌকর্যে, দৃঢ়তায়।

ভালবাসার মুগ্ধতায় আজ আমি স্নাত।
ভালবাসার বিশালতায় সমর্পিত।
ভালবাসার সৌন্দর্যে, সৌকর্যে
ভালবাসার দৃঢ়তায়, নান্দনিকতায়
আমি আপ্লুত। ভালবাসায় আমার বসবাস।

যেদিন মানবতা বিধ্বস্ত হলো-
আমি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলাম।
আমার হৃদয় বিস্ফোরক হলো
দু চোখ হলো কামানের গোলা
দু হাত হলো স্টেনগান
মুখের এক একটি শব্দ হলো বুলেট।
এবং সেদিনই আমার চোখে
প্রথম চোঁখ রাখলো আমার সন্তান
-তার দু চোখে ভালবাসার আবাহন।
কোথাও যাই না আর-
ভালবাসার কাছেই সমর্পিত আবার।

একবার ঝড় আমাদের করেছিল ঘরছাড়া।
প্রচন্ড সেই ঘুর্ণিঝড়ের সাথে আমরা
যুদ্ধ করতে, করতে, করতে...।
অবশেষে সময়ের সাথে ঘুর্ণির পিছুটান।
আমাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হাত মানুষের মমতা
আর ভালবাসার আবাহনে ঐক্যবদ্ধ হলো।
আবার সভ্যতাকে বিনির্মাণ করলাম-
আরও দৃঢ়তায়, সৌন্দর্যে, সৌকর্যে
ভালবাসার নান্দনিকতায়।

কোমল কিশোরীর অর্ধ-ফুটন্ত গোলাপে
আজ দানবের থাবা।
কিশোরের স্বপ্নের পাখির ছানা
কালো বেড়ালের থাবায় ক্ষত-বিক্ষত আজ ।
আমার সন্তান আজ কালো হাতের ছোঁয়ায়
বিষে বিষে নীল।

আমার পিতার গৌরবময় মৃত্যুকে ওরা বলে অপঘাত,
মাতার দৃঢ়তাকে কলঙ্কিত করে,
আমার ভালবাসারা আজ ক্ষত-বিক্ষত ।

আজ আর কোন পিছুটান নেই আমার।
লোভাতুর ইন্দ্রিয়কে জয় করেছি বহু আগেই।
হিংসা নয়, ঘৃণা নয়-
ভালবাসার অস্ত্রে দু হাতে আগুন ছড়াবো চতুর্দিক।
আবার মানবতা হবে পূনর্বহাল
শিশুর হাসিতে উদ্ভাসিত হবে বিশ্ব
আবার ফুটবে ফুল, পাখিরা মেলবে ডানা
নির্মল বাতাসে বেড়ে উঠবে আমাদের ভবিষ্যৎ।

একমাত্র ভালবাসার কাছেই আমি সমর্পিত
এবং সমর্পিত হবেই পূরো বিশ্ব।

ভালবাসা যদি সুদূর দিগন্ত হয়
তবু সেদিকেই আমার পথ।
একমাত্র ভালবাসার কাছেই আমি সমর্পিত।

কবি : মোঃ ইফতেখার হোসেন
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাঁট ফুল

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৩

ভাঁট ফুল
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

ছোট কালে মায়ের সাথে, হাত ধরে
মেঠো পথে হেটে চলে যেতাম-
মইজদী পুর গ্রামে, বোনের শশুর বাড়ি
রাস্তার পাশে মাঝে মাঝে ভাঁট ফুল-
দেখে মুগ্ধ হতাম, আর বলতাম কী সুন্দর!
ইচ্ছের হলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×